পুলিশ পাহারায় গভীর রাতে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন

ফন্ট সাইজ:

দিনভর উত্তেজনা এবং দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তার পর অবশেষে পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে মানিক পশারীর মরদেহে গার্ড অব অনার দেয়া নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বাধার কারণে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিলম্ব হয়। পরে বিকাল পাঁচটার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েন। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হয়। এরপর পুলিশ পাহারায় মরদেহ নিয়ে চিতলিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বজনরা।
মানিক পশারীর ছোট বোন রিনা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই মারা গেছেন। প্রথমে আমরা তাকে দাফনের জন্য নিয়ে আসি। কিন্তু দাফন করতে না পারায় বিপাকে পড়ি। এখন দাফন সম্পন্ন করেছি। ’

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ পুলিশ লাইনসে ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা ছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জামায়াতের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে দাফনের বিষয়ে সমঝোতা হয়। রাত দেড়টার দিকে পুলিশ পাহারায় দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মানিক পশারীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলার বাদী ছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর মানিক পশারী নিজ এলাকা ছেড়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে আশ্রয় নেন। দুই মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় তার মৃত্যু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হয়।

মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিরোধিতা করেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক। তিনি মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে গার্ড অব অনার দিতে না দেয়া এবং পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে না দেয়ার কথা বলেছিলেন।

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেয়া হয়েছে। দাফন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটিয়ে রাত দেড়টার দিকে মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে দিনভর চলা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।