সারের নতুন ডিলার নিয়োগ নিয়ে পঞ্চগড় জেলার তৃণমূলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সে সঙ্গে হচ্ছে নানা আলোচনা সমালোচনা। এরই মধ্যে ক্ষুব্ধ কয়েকজন ব্যবসায়ী সার বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক বরাবর অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ মতে, পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভার মধ্যে ২৯টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় যাদের ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে দু’একজন বাদে সবাই বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। রয়েছে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটির নেতারাও। কেউ নিজের নামে, কেউ স্ত্রীর নামে করেছেন আবেদন। এই তালিকায় পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নে সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বাবু, পঞ্চগড় পৌরসভায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মানিক, ধামোর ইউনিয়নে আটোয়ারী উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুলালের স্ত্রী নার্গিস আক্তার, ভজনপুর ইউনিয়নে তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাহীন, শালবাহান ইউনিয়নের উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতানা রাজিয়া, বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের স্থানীয় শীর্ষ নেতার (পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ) ভাই ও ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির লায়ন, বোদা পৌরসভায় পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময়ের স্ত্রী আনোয়ারা পারভীন ও দেবীগঞ্জের পামুলী ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মো. তোবারক হ্যাপির স্ত্রী শবনাম মোস্তারীরসহ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে। আটোয়ারী উপজেলা সদরের ফকিরগঞ্জ বাজারের সার ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান। তার নামে রয়েছে বিসিআইসি ও বিএডিসি’র ডিলারশিপ। ছেলে ওমর ফারুক টিসিবি’র ডিলার। এবার নতুন করে সার ডিলার নিয়োগে তোড়িয়া ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছে তার বড় ছেলে আব্দুল কাদেরের নাম।
অভিযোগকারী সোলায়মান আলী বলেন, সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে সার ডিলারের তালিকায় লোকমান হোসেন লিয়নের নাম এসেছে। কিন্তু তার পরিবারে আরও দু’টি সারের লাইসেন্স রয়েছে। অথচ তার নিজের কোনো সারের গুদাম নেই। তিনি তো আবেদন করারই যোগ্যতা রাখেন না। যারা যাচাই বাছাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন তারা কীভাবে এটি করলেন? আমি সব কাগজপত্র ঠিকঠাক দিলেও আমার নামই পাঠায়নি তারা। আটোয়ারীর ক্ষুব্ধ সার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, নিয়মনীতি না মেনে টাকার বিনিময়ে আব্দুল কাদেরকে সারের ডিলার নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এভাবে পুরনো সার ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। জাকির হোসেন নামের আটোয়ারীর এক ব্যক্তি বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি করা এক ব্যক্তিও পেয়েছে সারের লাইসেন্স। তোড়িয়া ইউনিয়নের ডিলারের তালিকায় থাকা আব্দুল কাদের বলেন, আমি আমার পরিবার থেকে দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকি। ডিলার নিয়োগে যে সকল শর্ত ছিল সবগুলো আমি পূরণ করেছি। তেঁতুলিয়া উপজেলার সার ব্যবসায়ী জয়লান আবেদীন বলেন, সারের ডিলারের তালিকায় যাদের নাম এসেছে তারা সবাই বিএনপি’র নেতাকর্মী। তাহলে এই তামাশা করার দরকার ছিল না।
তারা ডেকে তাদের লোকজনকে ডিলারশিপ দিয়ে দিলেই পারতেন। আমরা শুধু সময় অর্থ নষ্ট করে আবেদন করলাম। পঞ্চগড় সুজনের সংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভুট্টু বলেন, সার ডিলারের তালিকায় যাদের নাম এসেছে তারা ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। সার ব্যবসা সম্পর্কে যাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই তারা সার ডিলার নিয়োগ পেলে সার বিতরণ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে হুমকিতে পড়বে। পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা থেকে প্রতি ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য ৩ জন করে নাম পাঠিয়েছে উপজেলা কমিটি। আমরা তাদের কাগজপত্র দেখে সেই ক্রমিকেই মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
