জামায়াত নেতা লোকমান আহমদকে ঘিরে সিলেটে চলছে নানা জল্পনা। খবর রটেছে, নিজ দল জামায়াতের ভেতরে আরেক দফা সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন আলোচিত এই নেতা। তার রুকনিয়াত আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে সিলেট জামায়াতের নেতারা এ খবরকে এক বাক্যেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তবু ভার্চ্যুয়াল মিডিয়া লোকমানকে নিয়ে সরব। তার পক্ষে-বিপক্ষে অনেকেই লিখছেন, বলছেন। দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা লোকমান আহমদ এখন জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একজন। এক সময়ে দাপুটে ছাত্রশিবির নেতা ছিলেন তিনি। জয়নাল- লোকমানকে সিলেটে ধরা হতো ছাত্রশিবিরের ‘ট্রেডমার্ক’। শিবিরের রাজনীতি থেকে জামায়াতে এসেছেন লোকমান আহমদ। নির্বাচন করেছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চেয়ারম্যান পদে। নির্বাচিতও হয়েছেন।
গত সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন। জোটগত নির্বাচনে নিশ্চিত লড়াইয়ের প্রার্থী হয়েও দলের স্বার্থে নির্বাচন করেননি। রাজনৈতিক জীবনে অনেক বিসর্জন থাকলেও ব্যক্তি জীবনে বার বার আলোচনায় এসেছেন তিনি। দক্ষিণ সুরমার ‘নিয়ন্ত্রণ’ নিয়েও বিতর্কিত হয়েছেন। খবর দু’দিন আগের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত ঘনিষ্ঠ জনেরাই ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ায় লোকমান আহমদকে আলোচনায় নিয়ে আসেন। এসব খবর থেকে জানা গেছে; লোকমান আহমদকে ফের শাস্তির মুখোমুখি করা হয়েছে দল থেকে। তার রুকনিয়াত স্থগিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে দলের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে লিখিত বা মৌখিক কোনো কিছুই বলা হয়নি। ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ায় লোকমান আহমদের পক্ষে কেউ কেউ বলেন- সম্প্রতি দু’টি ঘটনায় সিলেট জেলা জামায়াত থেকে তার রুকনিয়াত স্থগিত করা হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার একই ভাবে তার রুকনিয়াত স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তিনি ফিরেও পেয়েছেন। সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক নানা ঘটনায় গণ-অভ্যুত্থানের পর আলোচিত হয়েছিলেন লোকমান আহমদ।
একটি পরিবহনের কাউন্টার দখল ও পরবর্তী ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া জেলা পরিবহন মালিক সমিতির কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব সহ নানা বিষয়ে তার নাম এসেছিল। এসব ঘটনায় তাকে দল থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এবারের দু’টি কারণের ব্যাখ্যা তুলে ধরে তারা বলেন-সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনিয়ম, দুর্নীতি ও রোগী সেবা ব্যাহত হওয়ার প্রতিবাদে জামায়াত নেতা লোকমান আহমদ সামাজিক উদ্যোগে কর্মসূচি পালন করেন। এ কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নাড়াও দিয়েছিল। এ ঘটনায় লোকমানের ওপর দলীয় শাস্তি আরোপিত হয়েছে। এ ছাড়া আসন্ন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে সরব তিনি। এরই মধ্যে দলীয় ফোরামে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। শাস্তি দেয়ার প্রক্রিয়ায় এ বিষয়টিকেও সংযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে সিলেট জামায়াতে ইসলামীর তরফ থেকে আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াতের ঘোষিত প্রার্থী হচ্ছেন নগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তার পক্ষে জামায়াত নেতারা মাঠে একাট্টা।
এই অবস্থায় অন্য কারও প্রার্থিতার বিষয়টি দলের জন্য বিব্রতকর বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন। যার ফলশ্রুতিতে লোকমান আহমদের ওপর শাস্তির বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সিলেট জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন- জামায়াতের অভ্যন্তরে দলীয় শাস্তির বিষয়টি একান্তই দলের। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের বাইরে আলোচনা হয় না। সংগঠনের বাইরের কেউ বিষয়টি জানেনও না। তবে এবারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় দলের ভেতরেও বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল জয়নাল আবেদীন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- লোকমান আহমদের বিরুদ্ধে যা রটেছে সেটির কোনো সত্যতা নেই। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ খবর কখনো প্রকাশ পায় না। যদি কেউ বরখাস্ত বা বহিষ্কার হওয়ার মতো ঘটনা ঘটান তবেই সেটি প্রকাশ পায়।
তিনি বলেন- লোকমান আহমদ ওসমানী মেডিকেল নিয়ে যে কর্মসূচি পালন করেছেন সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি সেটি করেছেন। আর দলীয় ফোরামে তিনি প্রার্থিতার বিষয়টি চাইতে পারেন। দলের একাধিক প্রার্থী থাকতে পারে। দু’টি বিষয়ে অভিযোগের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন জেলার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে জামায়াত নেতা লোকমান আহমদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
