পাকিস্তানের ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু সেই প্রতিভার যথাযথ বিকাশ ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছেন না অনেক ক্রিকেটার। একটু খ্যাতি পেলেই কঠোর পরিশ্রমে অনীহা তৈরি হয় তাদের মধ্যে। এমন অভিযোগই তুলেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি মহসিন নাকভি। তার মতে, জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পরও ক্রিকেটারদের মৌলিক বিষয়গুলো নতুন করে শেখাতে হওয়া হতাশাজনক। পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি লাহোর কালান্দার্সের এক অনুষ্ঠানে তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন নাকভি। তিনি বলেন, ‘আমি এমন অনেক ক্রিকেটার দেখেছি, যারা একটু খ্যাতি পেলেই কঠোর পরিশ্রম করা ছেড়ে দেয়। এটি এমন এক খেলা, যেখানে আপনাকে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। অথচ খুব ভালো খেলোয়াড়ও দলে এসে নিজেদের নষ্ট করে ফেলে।’ পাকিস্তানের জনসংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি।
এত বড় জনগোষ্ঠী থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার বেছে নেয়ার পরও তাদের মৌলিক দক্ষতা শেখাতে হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন পিসিবি সভাপতি। নাকভি বলেন, ‘আমরা নিজেরাও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। জাতীয় দলেও তাদের সবকিছু শেখাতে হচ্ছে। কোচরা আমাকে বলতেন, তারা খেলোয়াড়দের বিভিন্ন বিষয় শেখাচ্ছেন। অথচ আপনারা ২৪ কোটি মানুষের একটি জাতি। সেখান থেকে মাত্র ১৪ জনকে বেছে নেয়ার পরও যদি তাদের সবকিছু নতুন করে শেখাতে হয়, তবে আর লাভ কী?’ তবে কাউকে নির্দিষ্ট করে দোষারোপ করেননি নাকভি। তার মতে, পাকিস্তানের ক্রিকেটে পরিবর্তন আনতে নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এসব আমাদেরই ভুল। আমি নির্দিষ্ট কাউকে বলছি না। আমাদের নিজেদের ভুল নিজেদেরই ঠিক করতে হবে। আমরা সেই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবো।’ পাকিস্তানের ক্রিকেটে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও জোর দিয়েছেন পিসিবি প্রধান। এজন্য স্কুল ক্রিকেটে গুরুত্ব দেয়া, ঘরোয়া ক্রিকেটে নজরদারি বাড়ানো এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে জাতীয় দলের পাইপলাইনে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটারদের পিএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অধীনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পক্ষেও মত দিয়েছেন নাকভি।
এদিকে, মাঠের ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করছে পাকিস্তান। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুই ম্যাচ জিতে ভালো অবস্থানে রয়েছে দলটি। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে তারা। ৯ থেকে ২১শে নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ওই সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন কয়েকজন নতুন মুখ। ঘরোয়া ক্রিকেটে নজরকাড়া সামির মিনহাস, মোহাম্মদ তাহা ও মোহাম্মদ সুলেমান প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে, বাদ পড়েছেন সাবেক অধিনায়ক শান মাসুদ। দলটির নেতৃত্বে থাকবেন বাবর আজম।
