দুজনের মরদেহ কোথায়, দণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে

সহযোগীদের খবর

দুজনের মরদেহ কোথায়, দণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘দুজনের মরদেহ কোথায়, দণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অপরাধ কী ছিল, দণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে, মরদেহ এখন কোথায় এবং বিচারে তাঁদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় পাঠানো এক কূটনৈতিক পত্রে এসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত শুক্রবার প্রথম আলোর কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে তিনি কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করেন।

জানা গেছে, মক্কা অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৪ অক্টোবর। বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ প্রসঙ্গে কনস্যুলেট সংক্ষেপে ছয়টি বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব তা জানানোর অনুরোধ করেছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই নাগরিকের দণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে ছয়টি প্রশ্ন করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি কী, কবে ও কোথায় তা ঘটেছিল এবং তাঁদের কবে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশের দুই নাগরিককে শাস্তিদানের বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত রায়ের কপি। মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে। এটি কি প্রকাশ্যে তলোয়ারের আঘাতে শিরশ্ছেদ, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এরপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দুজনের মরদেহ কোথায় আছে? মরদেহ কি বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার চলাকালে দুই অপরাধীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং দুজনের কেউ আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না।

ঢাকায় সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মৃত্যুদণ্ডের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে ঢাকায় কিংবা জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। বিশেষ করে বিচারের সময় দুজনের আইনি প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না, তা মিশন নিশ্চিত নয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাংলাদেশকে কারাবন্দী ও দণ্ডিত বাংলাদেশিদের তালিকা দেয়। সেপ্টেম্বরের তালিকায় এই দুজনের নাম ছিল। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ‘ব্যভিচার’, অন্যজনের ‘আইসিটি’ বা তথ্যপ্রযুক্তি–সংক্রান্ত অপরাধ; কিন্তু তালিকায় শাস্তির তথ্য ছিল না। ফলে মৃত্যুদণ্ডের কথা না জেনে তাঁদের কনস্যুলার সেবা দিতে পারেনি বাংলাদেশ।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তালিকার অভিযোগ আর এই বিবৃতি কীভাবে মেলে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কনস্যুলেটের প্রথম প্রশ্নটি তাই শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, অসংগতি পরিষ্কার করার চেষ্টাও।

উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্রশ্ন

১৯ অক্টোবরের বৈঠকে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির কাছে জানতে চান, কেন তথ্য অসম্পূর্ণ রাখা হলো। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য জানা থাকলে মিশন তাঁদের সুরক্ষায় উদ্যোগ নিতে পারত। এ ধরনের মামলায় সাধারণত আইনি সহায়তা, আপিল ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গত সপ্তাহে ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতাশার। সৌদি আরব থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আদালত ও আপিল আদালতের বিচার শেষে এ মাসে দণ্ড কার্যকর হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রায় আড়াই হাজার বন্দীর তালিকা পাঠিয়েছিল। এতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনসহ ২২ জন বাংলাদেশিকে দণ্ড দেওয়ার কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়ি তাঁদের কী ধরনের শাস্তি হয়েছে। তাই ওই ২০ জনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক পত্রের জবাব এখনো দেয়নি। তাঁরা জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোন প্রক্রিয়ায় গঠন হবে, সে বিষয়ে নতুন রূপরেখা দিয়েছেন দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী। তাদের কেউ কেউ জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব করেছেন। আবার কেউ কেউ সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে উচ্চকক্ষে স্পিকার নির্বাচিত হলে, তাকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের কথা বলেছেন।

বিগত দিনে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের যে বিধান ছিল, সেই বিধান পুনরায় যাতে ফিরিয়ে আনা না হয়, সেই পরামর্শও দিয়েছেন কেউ কেউ।

শনিবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব উঠে আসে। এ বৈঠকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের শিক্ষক ও উচ্চ আদালতের আইনজীবীরা অংশ নেন। তাদের অনেকের বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণের পরামর্শ উঠে আসে।

বৈঠক শেষে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ওইসব প্রস্তাবের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া ও কর্মপরিধি নিয়ে লিখিত মতামত দিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব এলে সেগুলোও কমিটির প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জুলাই সনদে বিএনপি যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, বিরোধী দল চাইলে সেগুলোর কিছু কিছু শিথিল হতে পারে বলেও জানান তিনি। তবে, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিয়ে এসব বিষয়ে বিরোধী দলকে প্রস্তাব দিতে হবে বলে শর্ত দেন তিনি।

সংবিধান সংশোধনে অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে মতামত নিচ্ছে বিশেষ এ কমিটি। এরই অংশ হিসাবে গতকাল এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় শুরু হয়ে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি দিয়ে বিকাল ৫টার পরও চলে এ বৈঠক। এতে ৪৪ জন অংশ নেন। বৈঠকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ-সদস্যদের ভোটাধিকারের এখতিয়ার বাড়ানো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও পৃথক আইন প্রণয়ন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সংসদের নিুকক্ষের মেয়াদ চার বছর ও উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব উঠে আসে।

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মানবাধিকার কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া এবং মৌলিক অধিকারের পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও মতামত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আলোচনা হয় গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও। কেউ কেউ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে ৫০টি আসন এবং বাকি ৫০টি প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বণ্টনের বিধান করার প্রস্তাব দেন।

বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি গঠনের প্রক্রিয়া এবং তার কর্মপরিধি ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। অনেকে এ বিষয়ে আইডিয়া দিয়েছেন। বলা হয়েছে-উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সংসদের সঙ্গে একই মেয়াদে উচ্চকক্ষ ভেঙে না দিয়ে সেখান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া রাখা যায় কি না।

একজনের প্রস্তাব-যদি উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃজন করা হয় এবং তাকে উচ্চকক্ষের স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া যায়। অথবা যদি বিকল্প থাকে সে ক্ষেত্রে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে সে স্পিকারকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করা যায় কি না, সেই আলোচনা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদেরও সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে উচ্চকক্ষ থেকে নিযুক্ত করার বিধান থাকতে পারে। এরকম মতামত এসেছে। এটিও বিবেচনা করা যায়। তিনি বলেন, আরও প্রস্তাব এলে কমিটি তাদের প্রতিবেদনে সেগুলো তুলে ধরবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে জুডিশিয়ারির এখতিয়ার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কিভাবে কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে বক্তব্য এসেছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ-সদস্যদের কিছুটা সীমাবদ্ধতা আছে, সেই সীমাবদ্ধতা কিভাবে কমিয়ে আনা যায়, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার বিষয়ে কথা হয়েছে। বিচারক নিয়োগের আইন এবং সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কথা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য কিছু বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একটি নতুন ডেফিনেশন তারা দিতে চেয়েছেন যে, ‘স্ট্যাটিউটরি কনস্টিটিউশনাল বোর্ড’। স্ট্যাটিউটরি অর্গান থাকবে; কিন্তু তার গঠন এবং কর্মপরিধি নিয়ে তারা কিভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেরকম কোনো চিন্তাভাবনা করা যায় কি না-তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কালের কণ্ঠ

‘এশিয়ায় বাণিজ্য বাড়ছে পিছিয়ে বাংলাদেশ’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বৈশ্বিক পরিবর্তনের হাওয়া সর্বত্র। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়ায়ও। পরিবর্তনের ডামাডোলে ক্রমেই এশিয়া হয়ে উঠছে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র। এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতিগুলো বিশেষ করে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো অর্থনীতিকে ঘিরে বাড়ছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির আদান-প্রদান। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শিল্পোৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সংযোগও গভীর হচ্ছে। এর বিপরীতে এশিয়ার বড় বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো সীমিত।

তৈরি পোশাকের ওপর অতিনির্ভরতা এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে দুর্বল সংযোগের কারণে সুযোগ হারাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (এপেক) অন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্য বেড়েছে ২৩.৯ শতাংশ। একই সময়ে উচ্চ প্রযুক্তিপণ্যের বাণিজ্য বেড়েছে ৫০.৩ শতাংশ। অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে গত আট মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১.৬৭ শতাংশ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি সাড়ে ৬ শতাংশ কমেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এশিয়ার বাজারে সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, ভৌগোলিক নৈকট্য, প্রতিষ্ঠিত উৎপাদন সক্ষমতা ও তুলনামূলক কম ব্যয় কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিযোগিতা, পণ্যের বৈচিত্র্যের অভাব, সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা ও বাণিজ্যচুক্তির সীমাবদ্ধতা সেই সুযোগ কাজে লাগানোর পথে বাধা হয়ে আছে।

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন পশ্চিমা দেশগুলোর যে প্রভাব ছিল, তা কমছে। এশিয়া এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ অঞ্চলের রপ্তানি সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক শক্তি বেড়েছে। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈদেশিক সাহায্য, বিনিয়োগ ও মূলধনের জন্য আগের মতো পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নির্ভরশীল নয়।

বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র এশিয়ার দিকে সরে আসার প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে এশিয়ার আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশকে আরো নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে হবে।

এক পণ্যে নির্ভরতায় সুযোগ হাতছাড়া : বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের বড় দুর্বলতা পণ্যের বৈচিত্র্যের অভাব। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০.৬২ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। পোশাকের বাইরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম। যদিও একই অর্থবছরে প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২১.৮ শতাংশ এবং ওষুধের ১১.৯ শতাংশ, মোট রপ্তানিতে এসব খাতের অংশ এখনো ছোট।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বৈচিত্র্যহীন কৌশল ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ নতুন বাজারের পূর্ণ সুযোগ নিতে পারছে না। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বাজারে চীন ও ভিয়েতনাম এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।

তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে কারখানা স্থাপন, গবেষণা ও বিপণন ইউরোপ-আমেরিকাকেন্দ্রিক থাকায় নতুন বাজার ও পণ্যে বিনিয়োগের প্রবণতা গড়ে ওঠেনি। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরবের মতো বাজারে উচ্চ মূল্যসংযোজিত পোশাকের চাহিদা থাকলেও দ্রুত সরবরাহ ও উন্নতমানের পণ্য তৈরির সক্ষমতার ঘাটতিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, পোশাক খাতকে পরবর্তী স্তরে নিতে নিম্ন মূল্যসংযোজিত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উন্নতমানের পণ্য, গবেষণা ও গতিশীল সরবরাহব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘ইউপি নির্বাচনের রোড ম্যাপের পর মাঠে তত্পর সম্ভাব্য প্রার্থীরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণার পর মাঠে তত্পরতা বাড়িয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্দলীয় নির্বাচন হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়। বেশির ভাগ ইউনিয়নে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতের একক চেয়ারম্যান প্রার্থী মোটামুটি ঠিক। তবে, প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সমর্থন পেতে চার থেকে আট জন তৃণমূল নেতা সক্রিয়। ফলে, দল সমর্থিত একক প্রার্থী ঠিক করাই বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিটি ইউনিয়নেই বহু সম্ভাব্য প্রার্থী দলের সমর্থনপ্রত্যাশী হওয়ায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কলহ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদেরও কেউ কেউ এই নির্দলীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে নানাভাবে সক্রিয় বলেও তথ্য রয়েছে সরকার ও বিএনপির কাছে।

পাঁচ ধাপে এবারের ইউপি নির্বাচন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১২ অক্টোবর ঘোষিত রোড ম্যাপ অনুযায়ী প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ভোট হবে ২৭ মে।

রোড ম্যাপ ঘোষণার আগে থেকেই ভোটের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন প্রার্থী হতে ইচ্ছুক বিভিন্ন দলীয় ও নির্দলীয়-সামাজিক প্রতিনিধিরা। রোড ম্যাপ ঘোষণার পর থেকে তারা তত্পরতা বাড়িয়েছেন। প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে জনসংযোগ করছেন হাটে-বাজারে ও মসজিদে। কেউ কেউ পাড়া-মহল্লা ও বাড়ি বাড়ি গিয়েও স্থানীয়দের কাছে প্রার্থী হওয়ার বার্তা জানান দিয়ে সমর্থন কামনা করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ তত্পর।

নির্দলীয় নির্বাচন হলেও ক্ষমতাসীন বিএনপির সমর্থন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ রাজধানীতে এসে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও ধর্না দিচ্ছেন। কেউ ছুটছেন এলাকার দলীয় সংসদ সদস্য-মন্ত্রীর কাছে। এবার দুর্গাপূজার ছুটিতে বিএনপি দলীয় বেশির ভাগ সংসদ সদস্য নিজ নির্বাচনি এলাকায় যাওয়ায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সবাই তাদের কাছে গিয়ে নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার বর্ণনা দিয়েছেন। কয়েক জন সংসদ সদস্য আলাপকালে ইত্তেফাককে জানান, সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রায় প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগ আমলে কার বিরুদ্ধে কতটি মামলা, কে কতবার জেল খেটেছেন, কে কতবার হামলার শিকার হয়েছেন, কে কোন মিছিল-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন; এসবের কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়েছেন।

প্রতিটি ইউপিতে দলসমর্থিত একক প্রার্থী ঠিক করতে এবং অন্যরা যাতে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন, সে বিষয়ে ইতিমধ্যে দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১১ অক্টোবর সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এই নির্দেশনা দিয়ে বিএনপিপ্রধান বলেছেন, এই নির্বাচনে কোনোভাবে যাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ না হয়, সেব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি স্থানে দলের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী পক্ষ যাতে পরিবেশ নষ্ট কিংবা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার জন্য দলের এমপিদের পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে দলের এমপিসহ কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংসদীয় দলের সভায় কড়া বার্তা দেন তারেক রহমান।

নয়া দিগন্ত

‘৬ লাখ কোটি টাকার বোঝা : আয় ফেরাতে ব্যাংকের নতুন লড়াই’—এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাত আয়ের সঙ্কটে পড়েছে। কার্যক্রম থেকে মুনাফা হলেও প্রভিশন ঘাটতি ও খেলাপি ঋণের চাপে খাতটি এখন নিট লোকসানে। প্রতি তিন মাস অন্তর বাড়ছে খেলাপি ঋণ। অতীতের দুঃশাসন ও দুর্নীতির কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত এখন খাদের কিনারায়। ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি শ্রেণিকৃত ঋণ ব্যাংকিং খাতের আয়ের পথ আটকে রেখেছে।

এখন আইন বদল, ঋণ আদায়ের নতুন কাঠামো আর কড়া তদারকি দিয়ে সেই বোঝা নামানোর চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা ছিল ৭৮৯ কোটি টাকা। কিন্তু নিট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকায়। সম্পদ থেকে প্রাপ্তি (আরওএ) ঋণাত্মক ১.০৩ শতাংশ, আর মূলধনের ওপর প্রতিদান (আরওই) ঋণাত্মক ৪৪.২২ শতাংশ। ২২টি ব্যাংক পুঞ্জীভূত লোকসানে চলছে, যার মোট পরিমাণ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।

এখন চার আইন সংশোধন করে ব্যাংকিং খাত থেকে লাভজনক করার চেষ্টা করছে সরকার। এর ফলে এই খাত থেকে করপোরেট কর আদায়ের হারও বাড়বে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিশদ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

আয়ের পথে বড় বাধা খেলাপি ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে আয়ের পথে এখন প্রথম বাধা অতি উচ্চখেলাপি ঋণ। যা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। জুন শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। এর ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৩২.৭৮ শতাংশই শ্রেণিকৃত খেলাপি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এই হার ৪৭.৩০ শতাংশ। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৭৫ শতাংশ। অন্য কোনো ব্যাংক হলে তা অনেক আগেই ‘ধসে’ যেত। সরকারি ব্যাংক বলে টিকে আছে। ব্যাংকের এসব ঋণ থেকে সুদ আসে না, উল্টো সঞ্চিতি (খেলাপি ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ) রাখতে হয়। ফলে ব্যাংকগুলোর আয় কমে যায়। খাতটিতে প্রয়োজনীয় সঞ্চিতির ঘাটতি প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চিতি রাখতে গিয়ে অনেক ব্যাংকের মুনাফা ক্ষয় হচ্ছে। এ কারণে ২২টি ব্যাংক পুঞ্জীভূত লোকসানে চলছে, যার মোট পরিমাণ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।

মূলধন পরিস্থিতিও দুর্বল। মার্চ শেষে ১৫টি ব্যাংকের মূলধন ঋণাত্মক। সামগ্রিকভাবে খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ঋণাত্মক ৩.১৭ শতাংশ। দুর্বল মূলধনের ব্যাংক নতুন ঋণ দিতে পারে না, ফলে আয়ের নতুন উৎসও তৈরি হয় না।

ঋণ আদায়ে তিন স্তরের পরিকল্পনা

এখন আয় ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। স্বল্পমেয়াদে এক বছরের মধ্যে ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণের ব্যাংকগুলোর সিনিয়র ব্যবস্থাপনার সাথে ত্রৈমাসিক আলোচনা হবে। প্রতিটি ব্যাংকের পর্ষদ সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণ আদায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা হবে।

মধ্যমেয়াদে আইএফআরএস ৯ অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতির ভিত্তিতে ঋণ শ্রেণিকরণ ও সঞ্চিতি নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে ঋণ পরিশোধকারীদের উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা নীতিমালা তৈরি হবে। ভালো ঋণগ্রহীতাদের পুরস্কৃত করার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি সংস্কার হবে। ১ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে পারপেচুয়াল বন্ড ছেড়ে তহবিল সংগ্রহের নির্দেশনা আসবে। বেসরকারি খাতে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি) গঠনের আইনও হবে।

আইনি কাঠামো নতুন করে সাজানো হচ্ছে

আয় বৃদ্ধির জন্য আদায় প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করতে চারটি আইন নিয়ে কাজ চলছে। ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ : ব্যাংকিং খাতে করপোরেট সুশাসন জোরদার করা এর লক্ষ্য। খসড়া গত ২৪ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর।

অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬ : ২০০৩ সালের আইন আধুনিকায়নের মাধ্যমে ঋণ আদায় প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ডিসট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৬ : খেলাপি ঋণ আদায়ের নতুন কাঠামো দাঁড় করাতে একটি কমিটি কাজ করছে। ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপ্টসি অ্যাক্ট, ২০২৬ : ১৯৯৭ সালের আইন হালনাগাদ হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেউলিয়াত্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হবে।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘বাংলাদেশে শ্রমশক্তি সবচেয়ে বেশি কৃষিতে, উৎপাদনশীলতায় দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে দেশের কৃষি খাতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির এ সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে খণ্ডিত জমি, উন্নত বীজ ও কৃষিপ্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, কৃষকের বাজারে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা, কৃষিপণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণাগার সংকট ও বিপণন অবকাঠামো ঘাটতির মতো সমস্যা রয়েছে।

দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫ শতাংশ বর্তমানে কৃষি খাতে নিয়োজিত। কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে ৩ কোটি ৮ লাখ মানুষ। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ যুগেও কৃষি খাতে আরো বেশি মানুষ যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে, ২০১৭ সালে মোট শ্রমশক্তির ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ কৃষি খাতে যুক্ত ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কৃষি খাতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির হার বেশি হলেও কৃষি শ্রমিকপ্রতি উৎপাদনশীলতায় বাংলাদেশ অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

কৃষি শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বলতে নির্দিষ্ট সময়ে একজন শ্রমিকের মাধ্যমে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বা সৃষ্ট মূল্য সংযোজনকে বোঝায়। মূলত একজন কৃষকের শ্রমের বিপরীতে বার্ষিক উৎপাদনের অর্থমূল্যই তার উৎপাদনশীলতা। কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উৎপাদনশীলতায় দেশের কৃষি শ্রমিকদের পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ এ খাতে প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার। এছাড়া কৃষকের প্রযুক্তিগত জ্ঞান-দক্ষতার অভাব এবং সে দক্ষতা বৃদ্ধিতে কম বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে আরো তীব্র করছে।

বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে দেশের কৃষি খাতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির এ সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে খণ্ডিত জমি, উন্নত বীজ ও কৃষিপ্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, কৃষকের বাজারে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা, কৃষিপণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণাগার সংকট ও বিপণন অবকাঠামো ঘাটতির মতো সমস্যা রয়েছে। এছাড়া ধাননির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা কৃষি খাতে আয় ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে না।

বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা মূলত চারটি খাতের একটি উৎপাদন কাঠামো—ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও হর্টিকালচার। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে এসব খাতে নিয়োজিত কোনো কর্মীর শ্রমের বিপরীতে কৃষি উৎপাদনের বার্ষিক অর্থমূল্য ১ হাজার ২৩৬ দশমিক ২২ ডলার। ডলারের বিপরীতে (১ ডলার = ১২৩ টাকা হিসেবে) এ অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৫ টাকা। সে হিসাবে সব শ্রমিকের কৃষি উৎপাদনের বার্ষিক অর্থমূল্য দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। আর দেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, উৎপাদনশীলতায় বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকদের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ যুগের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার না বাড়া। এ কারণে একই পরিমাণ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশে অনেকে বেশি শ্রমিক কাজ করছেন।

জানতে চাইলে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কৃষি খাতে অন্য দেশগুলো প্রযুক্তিগত ব্যবহারে এগিয়ে গেছে। আমরাও কৃষিতে প্রযুক্তিগত ব্যবহারে যাব। এখন ১০ জন শ্রমিক যেটুকু উৎপাদন করেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে দেখা যাবে দুজন শ্রমিকই সেই পরিমাণ উৎপাদন করতে পারছেন। সরকার কৃষিতে প্রযুক্তিগত বিষয়ে জোর দিচ্ছে। এটা বাস্তবায়ন হলে আমাদের উৎপাদনশীলতা বাড়বে।’

পাকিস্তানে কৃষি খাতে নিয়োজিত শ্রমশক্তি ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ। সে দেশের পরিসংখ্যান বিভাগের হিসাব অনুসারে, কৃষি খাতে (২০২৪-২৫ অর্থবছর) কর্মীর সংখ্যা ২ কোটি ৫৬ লাখ।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, পাকিস্তানের কৃষি খাতে প্রতিকর্মীর বার্ষিক উৎপাদনশীলতা ৩ হাজার ১৮৬ ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ৮৭৮ টাকা। আর সব কৃষিকর্মীর বার্ষিক উৎপাদনশীলতার আর্থিকমূল্য দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের মোট শ্রমশক্তির ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ কৃষিতে জড়িত। নিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির হারে বাংলাদেশের কাছাকাছি হলেও উৎপাদনশীলতায় তারা এগিয়ে আছে। ভারতের কৃষি শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বার্ষিক ২ হাজার ১৫৯ ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৭ টাকা। দেশটির কৃষি খাতের সব কর্মীদের উৎপাদনের বার্ষিক অর্থমূল্য দাঁড়ায় ৬৪২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে।

কৃষি খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও উৎপাদনশীলতায় অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে আছেন মালদ্বীপের কৃষি শ্রমিকরা। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, মালদ্বীপের একজন কৃষি শ্রমিকের বছরে উৎপাদিত পণ্যের অর্থমূল্য ৮ হাজার ৬৭২ ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৬ টাকা। নেপালে কৃষি শ্রমিকপ্রতি উৎপাদন ৫ হাজার ৩৯ ডলার (৬ লাখ ১৯ হাজার ৭৯৭ টাকা) ও শ্রীলংকায় ৩ হাজার ৩৩৪ (৪ লাখ ১০ হাজার টাকা)।

কৃষি শ্রমিকের উৎপাদনশীলতায় ছোট আয়তনের দেশ ভুটান তুলনামূলক পিছিয়ে আছে। সেখানে একজন কৃষি শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা ১ হাজার ৯৯০ ডলার (২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭০ টাকা)।

কৃষকের উৎপাদনশীলতায় দক্ষিণ এশিয়ায় সবার পেছনে আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান। দেশটির কৃষিতে একজন শ্রমিকের উৎপাদনের বার্ষিক অবদান কত তার হালনাগাদ হিসাব নেই। তবে ২০২৪ সালের তথ্য বিবেচনায় বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আফগানিস্তানে একজন কৃষি কর্মীর বার্ষিক শ্রমের অর্থমূল্য ১ হাজার ১৫৩ ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ১ লাখ ৪১ হাজার ১৯ টাকা।

দেশ রূপান্তর

‘প্রথার বৃত্তে বন্দি জামিনের হিসাব’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ১৯৯৮ সালের মে মাসে ঢাকার শান্তিনগর এলাকায় সংঘটিত হত্যা মামলায় ২০০০ সালের ৩১ অক্টোবর ফাঁসির রায় হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শরীফা বেগমের। ২০০৩ সালের ২২ জুলাই হাইকোর্টে তার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) নিষ্পত্তি শেষে ফাঁসির সাজা বহাল থাকে। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট আপিল বিভাগ শরীফার মৃত্যুদন্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়। এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর শরীফাকে গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের কনডেমড সেল থেকে সাধারণ সেলে নেওয়া হয়। তবে, কারাগারে যাওয়ার ২৮ বছর এবং ২৪ বছর ফাঁসির সেলে থাকা ৫৬ বছর বয়সী শরীফা কখনোই উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেননি।

এ পরিস্থিতি শুধু শরীফার ক্ষেত্রেই নয়, অধস্তন আদালতে ফাঁসির রায়ের পর কনডেমড সেলে থাকা ফাঁসির আসামিদের প্রায় কেউই জামিনের আবেদন করেন না। আবেদন করলেও নিশ্চিতভাবেই তা খারিজ হবে কিংবা হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ শুনতে অপারগতা প্রকাশ করবে এমনটি ধরে নিয়ে কেউ আবেদন করেন না এবং এ বিষয়টি অলিখিত প্রথার মতো বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অধস্তন আদালতে ফাঁসির রায়ের পর কমপক্ষে ৬ বছরের মধ্যে ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি শুরু হয় না এবং সর্বোচ্চ ২৪ বছর পর্যন্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার নজিরও আছে। আর এ সময় পর্যন্ত ফাঁসির আসামিকে থাকতে হয় ‘কারাগারের ভেতর কারাগার’ বলে পরিচিত কনডেমড সেলে।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশের কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারগুলোর কনডেমড সেলগুলোতে ২ হাজার ৪৮২ ফাঁসির আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে নারী আসামি আছেন ৭০ জন। এসব আসামির মধ্যে কমপক্ষে ৫ বছর থেকে ১৫ বছর বা এর বেশি সময় বন্দি আছেন ৬৩৭ ফাঁসির আসামি। কারা অধিদপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, কনডেমড সেলে স্পর্শকাতর কিংবা গুরুতর মামলার আসামি যেমন আছেন, তেমনি পরিস্থিতি কিংবা প্রথমবারের মতো গুরুতর অপরাধের সংস্পর্শে আসা আসামিরাও আছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বেশিরভাগ দরিদ্র। অনেক আসামি বয়স্ক ও অসুস্থ। তাদের অনেকের আচরণ অস্বাভাবিক। অনেকেই কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তাদের আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার সামর্থ্য নেই। সেসব আসামির পক্ষে জেল আপিল করা হয়। কিন্তু সেই আপিলও বছরের পর বছর পড়ে থাকে। জামিনের প্রসঙ্গ কেউ তোলেন না এবং জামিনের আবেদনের বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারেও পড়ে না।

কেন জামিন হয় না, কী বলছেন আইনজীবীরা :

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফৌজদারি আইনের ধারা পর্যালোচনাসহ তিনজন ফৌজদারি আইনবিদ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের অভিমত নিয়েছে দেশ রূপান্তর। তিন জ্যৈষ্ঠ আইনবিদ দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন নিকট অতীতে দুএকটি ব্যতিক্রম ছাড়া ফাঁসির আসামি জামিনের আবেদন করেছেন বা শুনানি হয়েছে এমন তারা শুনেননি।

আইনজীবীরা বলেন, অপরাধের গভীরতা, ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, কঠোর শাস্তি দিয়ে সমাজে বার্তা দিতে মৃত্যুদ-ের মতো সাজা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে আসামিদের জামিন হলে তারা মামলা প্রভাবিত করতে পারেন, সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাতে পারেন, পলাতক হতে পারেন, অপরাধের পুনরাবৃত্তি হতে পারে এসব বিবেচনায় জামিন বিবেচনা করা হয় না। তবে, আসামিদের জামিনের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে সরাসরি মত দিয়েছেন দুজন আইনবিদ।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাবজ্জীবন, ১০ বছর বা অন্যান্য মেয়াদের সাজার পরে জামিনের প্রসঙ্গ তখনই আসে, যদি বোঝা যায় আসামির খালাসের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু মৃত্যুদন্ডের ক্ষেত্রে এটি বিবেচনায় আনা হয় না। প্রথাগতভাবে আবেদন গ্রহণ করা হয় না। কিন্তু এই চর্চাটা (ফাঁসির আসামির জামিনের আবেদন গ্রহণ না করা) ভাঙতে হবে।’ যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, ‘ফাঁসির মামলায় সব বিচারেই যে ন্যায়বিচার হচ্ছে, সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। বহু লোক তো খালাস পাচ্ছেন। অধস্তন আদালতের অনেক বিচার সঠিক হয় না এবং বিচারিক ত্রুটিও উঠে আসছে। নুসরাত হত্যা মামলায় তো হাইকোর্টে ১০ জনের খালাস হলো, তারা জামিনও পেতে পারতেন।’

ফৌজদারি আইনবিদ অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপিল বিভাগে চূড়ান্ত বিচারে আসামি খালাস পেতে পারেন এ বিবেচনায় জামিন পাবেন না কেন, সে প্রশ্ন আছে। কিন্তু আমরা জামিন চাই না, এ কারণে যেহেতু প্রথা বা নিয়ম নেই। কিন্তু আইনে কোথাও বলা নেই যে, ফাঁসির আসামির জামিনের আবেদন করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘জামিন আসামির অধিকার। কিন্তু রামিসা হত্যার ঘটনার আসামিকে কি জামিন দেওয়া যায়? তাহলে তো ভয়ংকর আসামিরা জামিন চাইবেন এবং জেল থেকে বেরিয়ে আরেকটা খুন করবেন।’ জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘হাইকোর্টে দুই বছরের মধ্যে এবং আপিল বিভাগে এক বছরের মধ্যে ফাঁসির মামলা নিষ্পত্তি হলে জামিনের প্রশ্ন আসবে না।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান নিয়ে একাধিক প্রস্তাব’। প্রতিবেদনে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, নির্বাচনব্যবস্থা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে উচ্চকক্ষের স্পিকারকে প্রধান করার পাশাপাশি উচ্চকক্ষের ভাইস প্রেসিডেন্টকে ঘিরেও বিকল্প প্রস্তাব এসেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনের অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে প্রায় ৬০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৪ জন উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ আলোচনা চলে।

আলোচনায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ আইন করার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণ অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো শিথিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি বিশেষ কমিটি। বিভিন্ন অংশীজনের মতামত লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমিটি আরও এক-দুটি বৈঠক করবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বিরোধী দলকে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার বিষয়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে মতামত সংকলন ও মূল্যায়নের কাজ দ্রুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদে যেভাবে ঐকমত্য হয়েছিল, সে অনুযায়ী বিচার বিভাগকে বাইরে রেখে এবং রাষ্ট্রপতিকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে না রেখে সবার সম্মতির ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সেটি নিম্নকক্ষের সঙ্গে একই সময়ে বিলুপ্ত না হওয়ার ব্যবস্থা রাখা যায় কি না, সে বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে। সে ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। আবার সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে তাঁকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার ধারণাও দিয়েছেন কেউ কেউ। অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুই পক্ষের সম্মতি নিশ্চিত করার প্রস্তাব এসেছে। তবে এগুলো এখনো চূড়ান্ত প্রস্তাব নয়। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া ও এখতিয়ার নিয়ে লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। সবার মতামত পর্যালোচনা করে কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘স্থানীয় নির্বাচনে জোট করতে শরিকদের চাপে জামায়াত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের কৌশল নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করতে চায়, কিন্তু জোটের কয়েকটি শরিক দল চায় জোটবদ্ধভাবে অংশ নিতে। এ নিয়ে সমঝোতা না হলে শরিকদের কেউ কেউ বিকল্প জোটে নির্বাচনের কথা ভাবছে। তাতে ১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জোটের কয়েকটি শরিক দলের যুক্তি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার পর স্থানীয় নির্বাচনে সমন্বয় করা না হলে ঐক্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যাবে।

জামায়াত ও শরিক দলগুলোর একাধিক নেতা সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে জোটের প্রশ্নটি শুধু প্রার্থী সমন্বয়ের নয়; এর সঙ্গে শরিক দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব, সাংগঠনিক বিস্তার এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী অবস্থানও জড়িত।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি রাজনৈতিক দল ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি রয়েছে। তবে নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়া দলগুলো পুরোনো জোট ছাড়বে কিনা, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কোনো কোনো দল দুই প্ল্যাটফর্মেই থাকার পক্ষে।

গত ২২ অক্টোবর হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সাত দলের বৈঠকে নতুন প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন রয়েছে। দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে ২১ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠকে প্ল্যাটফর্মের কাঠামো ও কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন সমকালকে বলেছেন, কওমি ধারার সাতটি দল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

কেন একক নির্বাচন চায় জামায়াত

জামায়াতের নেতাদের বক্তব্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো নয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে বিপুলসংখ্যক পদে প্রার্থী বাছাই এবং সমঝোতা করা কঠিন। তা ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি ও আঞ্চলিক হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে আসন ভাগাভাগি না করে স্থানীয় নেতৃত্বের ভিত্তিতে নির্বাচন করতে চায় দলটি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট করার সিদ্ধান্ত নেই। তবে কোনো জেলা, উপজেলা বা এলাকায় শরিক দলগুলো নিজেরা আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না।

জামায়াত নেতারা আরও বলছেন, অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার সময়ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে আসন ভাগাভাগি হয়নি। ২০১৪ সালের উপজেলা ও ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে কোথাও বিএনপি জামায়াতকে, কোথাও জামায়াত বিএনপিকে ছাড় দিয়েছিল। সেসব সমঝোতা হয়েছিল স্থানীয় পর্যায়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের আসন ছেড়ে দিতে গিয়ে জামায়াতের কয়েকটি আসনে সম্ভাবনাময় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যায়নি। অন্তত তিনটি আসনে স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, স্থানীয় নির্বাচনে আবারও শরিকদের জন্য ছাড় দিতে গেলে দলের সাংগঠনিক অসন্তোষ বাড়তে পারে। যেসব নেতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের সুযোগ দিতে চায় জামায়াত।

দলটির এই অবস্থানের পেছনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের হিসাবও রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে জোটের আসন সমঝোতার কারণে কোন এলাকায় জামায়াতের প্রকৃত জনসমর্থন কতটা, তা নির্ণয়ের সুযোগ সীমিত ছিল। স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিলে সেই চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন নেতারা।

শরিকদের অসন্তোষ কেন

১১ দলীয় ঐক্যের কয়েকটি শরিক দলের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও তারা জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের সঙ্গে আন্দোলন করছেন। অথচ স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা না হলে তাদের সাংগঠনিক ও নির্বাচনী লাভের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।

একাধিক শরিক দলের নেতার বক্তব্য, জাতীয় নির্বাচনে যেসব আসনে তাদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, স্থানীয় নির্বাচনেও সেসব এলাকায় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে তৃণমূলে দলগুলোর ভিত্তি তৈরি হবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করলে শরিকদের জন্য সেই সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

শরিকদের একাংশের অসন্তোষের পেছনে আদর্শিক ও রাজনৈতিক দূরত্বও রয়েছে। কওমি ধারার দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের মতাদর্শগত পার্থক্য দীর্ঘদিনের। এর পরও জাতীয় নির্বাচনে আসন সমঝোতা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তারা একসঙ্গে ছিল। শরিক নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন, এই সহযোগিতার সুফল জামায়াত তুলনামূলকভাবে বেশি পাচ্ছে।

তবে সব শরিক দল যে বিকল্প জোটে যেতে চায়, তা নয়। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান সমকালকে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে তাদের সঙ্গে জামায়াতের সমন্বয় রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও পৌরসভায় লেবার পার্টির ভালো প্রার্থী থাকলে স্থানীয় জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতা করা হবে।

হেফাজতের উদ্যোগে বিকল্প মেরূকরণ

জামায়াতের সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে সমঝোতা না হলে কওমি ধারার দলগুলো নিজেদের মধ্যে নির্বাচনী বোঝাপড়া গড়ে তুলতে পারে। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সাত দলের নতুন প্ল্যাটফর্ম সেই সম্ভাবনা সামনে এনেছে।

জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর মতবাদের বিরোধিতা কওমি ধারার ধর্মীয় পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের। ফলে হেফাজতের মধ্যস্থতায় দেওবন্দি আদর্শের অনুসারী দলগুলোর এক মঞ্চে আসাকে শুধু নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্ট নেতারা; এর সঙ্গে আদর্শিক বলয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ও জড়িত।

তবে নতুন প্ল্যাটফর্মের দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান এক নয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে রয়েছে। অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় যায়নি। ফলে সাত দলের অভিন্ন নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে পুরোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক বড় বিবেচনা হয়ে উঠতে পারে।

জামায়াত নেতারা অবশ্য এ উদ্যোগকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাদের কারও কারও ধারণা, স্থানীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থি ভোট ভাগ করতেই বিএনপির স্বার্থে বিকল্প মেরূকরণ তৈরি করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

এনসিপির অবস্থান

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে। নেতারা জানান, শতাধিক উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীর সংকট রয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কৌশল বিবেচনায় ভবিষ্যতে কিছু স্তরে সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, দলের সমর্থিত প্রার্থীরা এককভাবে নির্বাচন করবেন। সিটি করপোরেশনের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী বাছাই চলছে।

এনসিপি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এবং উত্তরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণে জামায়াতের প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম। উত্তরে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

এ দুই দলের আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নির্বাচন যত এগোবে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।