অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ সংসদ উঠছে

ফন্ট সাইজ:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ ১২ই মার্চ। শুরুতেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন হতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, ফৌজদারি অপরাধ, দুর্নীতি দমন, অর্থ পাচার, জনপ্রশাসন ও শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার, অর্থনীতি, রাজস্ব, কর ও বাজেট, ব্যাংকিং, আর্থিক খাত ও নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা, মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার ও সুশাসন বিষয়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। প্রেসিডেন্টের জারি করা এসব অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে সংসদে।
সংবিধানের আর্টিকেল ৯৩ অনুযায়ী সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। এই সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করেই অন্তর্বর্তী সরকারের ৫৫৯ দিনে রাষ্ট্রপতি মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর প্রথম বৈঠকেই রাষ্ট্রপতির জারি করা এসব অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করতে হবে। এটি আইন হিসেবে বলবৎ রাখতে হলে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে পাস হতে হবে, অন্যথায় সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।
আলোচিত ও স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ: জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে গণভোট সংক্রান্ত বিধান, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের দায়মুক্তি, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি, গুম ও হত্যার অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন পরিবর্তন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হলে তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হতে পারে। বিশেষ করে গণভোট এবং দায়মুক্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কয়েকটির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি), দেওয়ানি কার্যবিধি (সিপিসি) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এগুলো অনুমোদন না পেলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন আইনজ্ঞরা।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকেই অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তবে রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশ সংসদ তা গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। সংসদ স্বাধীনভাবে তা অনুমোদন করতে পারে, আবার প্রয়োজন মনে না করলে বাতিলও করতে পারে। আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ আইনে সংশোধন হয়েছে অধ্যাদেশের মাধ্যমে। যদি এগুলো অনুমোদন না হয়, তাহলে বিচারিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজ্ঞরা। কারণ এটি কোনো অধ্যাদেশ নয়, বরং রাষ্ট্রপতির একটি আদেশ হিসেবে জারি হয়েছিল। ফলে এটি সংসদে অনুমোদনের বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন