সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে লিয়ান হুয়ান হু নামক আরও একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় এসে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে গত ১১ দিনের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় ডিজেলবাহী জাহাজের আগমন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে লিয়ান হুয়ান হু ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এছাড়া এসপিটি থেমিস নামের একটি ট্যাংকার ১২ই মার্চ ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ১৩ই মার্চ র্যাফেলস সামুরাই এবং ১৫ই মার্চ চাং হাং হং তু নামে দু’টি ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছবে আশা করা হচ্ছে। এ দু’টি ট্যাংকারে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে। বিপিসি’র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল, যার বেশির ভাগই সরাসরি আমদানি করা হয়। জানা যায়, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পাঁচটি ট্যাংকার মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ টন পরিশোধিত ডিজেল রয়েছে। এই পাঁচটি ট্যাংকারের ডিজেল দিয়ে দেশে আগামী ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে মজুত ধরে রাখতে সরকার রোববার থেকে দৈনিক ডিজেল সরবরাহ কমিয়ে ৯ হাজার টনে নামিয়ে এনেছে। এই হারে সরবরাহ করা হলে ওই পরিমাণ ডিজেল দিয়ে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বর্তমানে যে মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আরও ১৬-১৭ দিন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। ফলে নতুন চালানসহ মোট সরবরাহ দিয়ে প্রায় এক মাসের ডিজেল চাহিদা মেটানো সম্ভব। বিপিসি’র বাণিজ্যিক ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও সোমবার প্রথম জাহাজটি আসার পরপরই দ্রুততার সঙ্গে জ্বালানি খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের দ্বিতীয় জাহাজটির খালাস প্রক্রিয়াও সচল রয়েছে এবং পরবর্তী জাহাজগুলো সময়মতো পৌঁছালে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে ‘শিউ চি’ নামের একটি ট্যাংকার।
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালো ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী আরও একটি ট্যাংকার
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে
১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
