অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ চেয়ে বাংলাদেশের চিঠি পেয়েছে ভারত: প্রণয় ভার্মা

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সরবরাহের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছি। আমি এটি গ্রহণ করেছি এবং দ্রুত বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেবো। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে ‘খুব ভালো বৈঠক’ হওয়ার কথা তুলে ধরে আলোচনার বিষয়ে হাইকমিশনার বলেন, এতে সহযোগিতার ক্ষেত্র, পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় এবং দুই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতা কীভাবে আরও এগিয়ে নেয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে হাইকমিশনার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘খুব শক্তিশালী’ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগ রয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও পাইপলাইন রয়েছে। কীভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এমন আলোচনা চলার মধ্যে আগের চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে ৫ হাজার টন ডিজেল পাঠানো শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই তেল পাইপলাইনে ৯ই মার্চ বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে পাম্পিং শুরু হয়েছে, যা দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে বুধবার নাগাদ পৌঁছানোর কথা। বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনটি ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ। ২০২৩ সালের মার্চে এটি উদ্বোধন করা হয়। এ পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ২ লাখ টন হলেও দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল ভারত সরবরাহ করবে। ২০২৬ সালে ১ লাখ ২০ হাজার টন সরবরাহের সূচি রয়েছে, যা চাইলে আরও ৬০ হাজার টন বাড়ানো যাবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন