পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে নতুন শুরু টাইগারদের

পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে নতুন শুরু টাইগারদের

ফন্ট সাইজ:

ইফতারের ঠিক আগেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে উৎসবের রং। পাকিস্তানের সব প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিয়ে বিশাল এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো বাংলাদেশ দল। মাত্র ১৫.১ ওভারেই ১১৪  রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ৩৪.৫ ওভার (২০৯ বল) হাতে রেখেই ৮ উইকেটের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। বল হাতে রীতিমতো আগুনের গোলা ছুড়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। মাত্র ২৪ রান খরচায় একাই তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটাই তার প্রথম ফাইফার। মূলত তার গতির তোপেই তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। উইকেটের ব্যবধানে এবং এত বেশি ওভার হাতে রাখার দিক থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। আগেও ৮ উইকেটে জয়ের রেকর্ড থাকলেও দাপটে এটি অনন্য। পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল স্বাগতিকদের একচ্ছত্র আধিপত্য। রোজা রেখে এমন আগ্রাসী ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। ইফতারের আগে এমন দারুণ এক জয়ে ড্রেসিংরুমের পরিবেশও ফুরফুরে। ম্যাচ শেষে তৃপ্ত ম্যাচসেরা নাহিদ রানা শোনালেন সেই আনন্দের কথাই, ‘জয় অবশ্যই প্রত্যেকটা ম্যাচেই আমাদের জন্য স্পেশাল আর এই ম্যাচটাও অবশ্যই। প্রত্যেকটা সিরিজের যদি প্রথম ম্যাচ জিতি তো অবশ্যই টিমকে আরও আনন্দ দিতে পারে এবং টিমের ইনভলভমেন্ট আরও ভালো হয়।’

রানার এমন আগুনে বোলিংয়ের আড়ালে কিছুটা হলেও ঢাকা পড়েছে অধিনায়ক মিরাজের দারুণ একটি স্পেল। ১০ ওভারে মাত্র ২৯ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। এছাড়া তাসকিন ও মোস্তাফিজ পেয়েছেন একটি করে উইকেট। শেষদিকে ফাহিম আশরাফের লড়াকু ৩৭ রানের সুবাদে অলআউট হওয়ার আগে শেষ পর্যন্ত ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রান করতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। পর শুধুই তানজিদের সেই ঝড়ো ব্যাটিংয়ের গল্প। দলীয় ১০৯ রানে শান্ত আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। অভিজ্ঞ লিটনকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের বাকি কাজটুকু খুব অনায়াসেই সেরে ফেলেন তানজিদ। ইফতারের ঠিক আগমুহূর্তে মোহাম্মদ ওয়াসিমের করা একটি ওয়াইড বল থেকে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে এত ওভার হাতে রেখে এটাই প্রথম জয়। মিরপুরের গ্যালারিতে তখন উৎসবের উন্মাদনা, আর খেলোয়াড়দের চোখেমুখে তৃপ্তির এক চওড়া হাসি।

ছিল মাত্র ১১৫ রানের। কিন্তু তাড়া করতে নেমে সাইফ হাসান ফিরলেন দ্রুতই। শাহিন আফ্রিদির বলে তিনি আউট হওয়ার পর সাময়িক একটা ধাক্কা লাগার কথা ছিল। তাতে অবশ্য বিন্দুমাত্র বিচলিত হয়নি বাংলাদেশ। বরং এরপরই শুরু হলো চার-ছক্কার বৃষ্টি। তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত যেন ৫০ ওভারের ম্যাচকে পুরোপুরি টি-টোয়েন্টি বানিয়ে ফেললেন। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন মিলে মাত্র ১০ ওভার একসঙ্গেই গড়েন ৮২ রানের বিশাল এক জুটি। ৩৩ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ২৭ রান করে আউট হন শান্ত। তবে অপর প্রান্তে থাকা তানজিদ ছিলেন শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ৪২ বলে অপরাজিত ৬৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তার এই ঝড়ো ইনিংসে ছিল ৭টি দৃষ্টিনন্দন চার ও ৫টি বিশাল ছক্কার মার। ফাহিম আশরাফ থেকে শুরু করে আবরার আহমেদ, কাউকেই ছাড় দেননি তিনি। প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিম রোলার চালিয়ে জয়টাকে ত্বরান্বিত করেছেন এই তরুণ।

অথচ ম্যাচের শুরুটা এমন দাপুটে আভাস দেয়নি মোটেও। টস জিতে আগে বোলিংয়ে নেমেছিলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত কিছু উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। কিন্তু প্রথম ৯ ওভারে কোনো উইকেটই হারায়নি শাহিন আফ্রিদির দল। বিনা উইকেটে তারা তুলে ফেলে ৩৫ রান। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান নতুন বলে শুরুতে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না। পাকিস্তানের দুই তরুণ ও অভিষিক্ত ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত থিতু হওয়ার জোর চেষ্টা করছিলেন। উইকেট না পড়ায় কিছুটা হতাশা উঁকি দিচ্ছিল স্বাগতিক শিবিরে। কারণ, প্রথম পাওয়ার প্লেতে উইকেট না পেলে পরে রান আটকে রাখা কঠিন হতে পারে, এমন একটা শঙ্কা ছিল। কিন্তু ঠিক দশম ওভারেই বল হাতে দৃশ্যপটে হাজির হন পেসার নাহিদ রানা। আর তাতেই পুরোপুরি বদলে যায় মিরপুরের ম্যাচের চিত্রনাট্য।

দশম ওভারে বোলিংয়ে এসেই প্রথম আঘাত হানেন রানা। ওভারের শেষ বলে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের দুর্দান্ত এক ক্যাচ বানিয়ে ফেরান ২৭ রান করা সাহিবজাদা ফারহানকে। এরপর শুধুই রানার গতির প্রদর্শনী আর পাকিস্তানের অসহায়ত্ব। নিজের প্রথম পাঁচ ওভারের প্রতিটিতেই একটি করে উইকেট নিয়েছেন এই গতিদানব। তার শর্ট বল ও বিপজ্জনক বাউন্সারে রীতিমতো দিশাহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি ব্যাটাররা। এরপর দ্বাদশ ওভারে রানার লাফিয়ে ওঠা বাউন্সারে উইকেটকিপার লিটনের হাতে ক্যাচ দেন শামিল হোসেন। একে একে সাজঘরে ফেরেন মাজ সাদাকাত, অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা। ৪১ রানে বিনা উইকেট থেকে মুহূর্তের মধ্যেই পাকিস্তানের স্কোর হয়ে যায় ৩ উইকেটে ৫৫। টানা পাঁচ ওভারের স্পেলে রানার ওই এক অবিশ্বাস্য স্পেলেই কার্যত ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় সফরকারীরা। গতির সাথে সঠিক লেংথ বজায় রেখে মিরপুরের এই উইকেটে তিনি যেন রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন