সরকার দলীয় এমপিদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের চাল, চলন এবং আচরণে মার্জিত থাকার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার জন্যও এমপিদের নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের নবমতলায় বিএনপি’র সংসদীয় দলের সভায় এমপিদের প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন বলে কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন। বেলা সোয়া ১১টায় সংসদীয় দলের সভা শুরু হয়। শেষ হয় বেলা ১টার দিকে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সভায় সম্প্রতি একজন মন্ত্রীর ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি সেই মন্ত্রীর নাম বলেননি। তারেক রহমান জানিয়েছেন, ইফতারের কিছু আগে সেই মন্ত্রীর গাড়ির আগে তিনটি গাড়ি ছিল। তার গানম্যান দায়িত্বরত ট্রাফিক কর্মকর্তার কাছে গিয়ে বলেন, গাড়িগুলো সরিয়ে দিলে মন্ত্রীর গাড়িটি যেতে পারে। ওই সময় ট্রাফিক কর্মকর্তা গানম্যানকে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িও তো ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে থাকে। ঘটনাটি উল্লেখ করে এমপিদের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া জুলাই সনদে বিএনপি যেসব বিষয়ে একমত হয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বলেও সভায় আলোচনা হয় বলেও সূত্রটি জানায়।
প্রধানমন্ত্রীকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার মনোনয়নের দায়িত্ব দিয়েছেন এমপিরা:
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা। গতকাল বিএনপি’র সংসদীয় দলের সভায় এমপিরা এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন বলে জানিয়েছেন সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সংসদীয় দল সিদ্ধান্ত দিয়েছি, সংসদ নেতা স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার মনোনয়ন নির্ধারিত করবেন।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন:
সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনের কর্মসূচি তুলে ধরে প্রধান হুইপ বলেন, সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা আজকে একটা দিকনির্দেশমূলক বক্তব্য রেখেছেন। সেটা হচ্ছে, সংসদে আমরা কেমন আচরণ করবো এবং আমাদের কার্যক্রম কি হবে- সে বিষয়ে তিনি একটা কথা বলেছেন। আমাদের কার্যক্রমের বিষয়ে আপনাদের একটা ধারণার জন্য বলছি, সংসদ চিরাচরিত মতো বসবে না। আমাদের যেহেতু পুরনো স্পিকার নাই, ডেপুটি স্পিকার নাই। আমরা সংসদে একটা খালি চেয়ার দিয়ে শুরু করবো। একজন কোরআন তেলাওয়াত করবেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সংসদ নেতা, তিনি ঘোষণা করবেন এই সভার সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জেষ্ঠ্য নেতাকে, প্রস্তাব করার পর কোনো একজন সমর্থন করবেন। তারপর তিনি সেখানে সভাপতিত্ব করবেন। সেই সভায় আমরা স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করবো।
তিনি বলেন, তারপরে স্পিকার নির্বাচন হওয়ার পরে তিনি আসন গ্রহণ করলে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন হবে, শোক প্রস্তাব উত্থাপন হবে এবং তা নিয়ে আলোচনা হবে। শোক প্রস্তাবে প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে আলোচনা হবে, জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা হবে, দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ যারা শাহাদত বরণ করেছেন, তাদের নিয়ে আলোচনা হবে। এরপরে ১৩৩ টা অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে। অধ্যাদেশগুলো আইনমন্ত্রী উপস্থাপন করবেন। ২০২৪ সালে কর্মকমিশনের প্রতিবেদন উত্থাপন হবে এবং এরপরে সংসদ নেতা বক্তব্য রাখবেন।
হুইপ বলেন, সংসদের বিজনেস এডভাইজারি কমিটি, বিশেষ কমিটি, প্রিভিলাই কমিটি, সংসদ কমিটি- এসব কমিটিগুলো করার জন্য আমরা চেষ্টা করবো। যদি বৃহস্পতিবার না করা যায়, আমরা পরবর্তী দিনে এসব কমিটিগুলো করবো।
সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দল থেকে দেয়ার প্রস্তুাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা এবং বিরোধী দল থেকে এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পাওয়া গেছে কিনা- জানতে চাইলে প্রধান হুইপ বলেন, এ ব্যাপারে আমরা এখনো পজিটিভ কোনো রেসপন্স পাইনি। রেসপন্স পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সংসদ উপনেতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদ নেতা এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদ উপনেতা হবেন কি হবেন না।
জাতীয় ঐকমত্যে কমিশনের জুলাই সনদ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান হুইপ বলেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা শপথ নেইনি। কারণ এটা সংবিধানে নেই, সেজন্য। সংবিধানে ইনক্লুড করার পরে তখন পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।
