যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন শুক্রবার ইউএফও বা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুসংক্রান্ত নতুন একগুচ্ছ নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথির একটিতে দুই জ্যেষ্ঠ সামরিক পর্যবেক্ষক এ বছরের শুরুর দিকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি স্পর্শকাতর স্থাপনার ওপর অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে উড়ে যাওয়া রহস্যময় কালো ত্রিভুজাকৃতির একটি বস্তু দেখার কথা জানিয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এতে বলা হয়, অজ্ঞাত বস্তুটির সঙ্গে প্রচলিত সামরিক বিমানের কোনো বৈশিষ্ট্যের মিল ছিল না। দাবি করা হয়েছে, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বস্তুটি হঠাৎ ও নিঃশব্দে অদৃশ্য হয়ে যায়। এর পেছনে কোনো ধোঁয়া বা গ্যাসের রেখা কিংবা বস্তুটির উপস্থিতির অন্য কোনো চিহ্নও দেখা যায়নি। সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন পরিচয় দেয়া দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হয়েছে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। শুক্রবার জনসাধারণের জন্য প্রকাশিত নথিতে ঘটনাস্থলের নামও গোপন রাখা হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, মে মাস থেকে পেন্টাগন যে শত শত নথি প্রকাশ করেছে, এটি তারই একটি। ইউএফও নিয়ে গোপন নথি প্রকাশ্যে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সেই প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতেই নথিগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে এসব নথির অনেক তথ্য এখনো অস্পষ্ট, আবার বেশ কিছু অংশ কালো কালিতে ঢেকে রাখা হয়েছে। অন্য কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে বাস্তব ছবি বা ভিডিও থাকলেও এই প্রতিবেদনে একই গিরিখাতের ছবির নয়টি কপি যুক্ত করা হয়েছে। কথিত বস্তুটি কোন পথে উড়েছিল, তা বোঝাতে ছবিগুলোর ওপর ছোট ছোট ত্রিভুজের আকৃতি বসানো হয়েছে।
পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও জৈবনীতিবিষয়ক অধ্যাপক এবং ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘আফটার দ্য ফ্লাইং সসার্স কেইম: আ গ্লোবাল হিস্ট্রি অব দ্য ইউএফও ফেনোমেনন’ বইয়ের লেখক গ্রেগ এগিজিয়ান বলেন, এটি আসলে ভূদৃশ্যের ওপর বসানো ছোট একটি কালো ত্রিভুজের আকৃতির চেয়ে বেশি কিছু বলে মনে হচ্ছে না। প্রতিবেদনটি বোঝানোর জন্যই সম্ভবত এটি ব্যবহার করা হয়েছে। আমার মনে হয় না, এটি প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন তথ্য যোগ করেছে।
