দ্রুততম মানব ইমরানুর মুকুট ধরে রাখলেন শিরিনও

দ্রুততম মানব ইমরানুর মুকুট ধরে রাখলেন শিরিনও

ফন্ট সাইজ:

আরাফাত রহমান কোকো জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে দ্রুততম মানবের খেতাব ধরে রেখেছেন ইমরানুর রহমান। পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবার আগে দৌড় শেষ করেছেন তিনি। নারীদের ১০০ মিটারেও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন শিরিন আক্তার। গত জাতীয় অ্যাথলেটিকসে সুমাইয়া দেওয়ানকে হারিয়ে দ্রুততম মানবীর খেতাব পুনরুদ্ধার করেছিলেন শিরিন। এবারো তার শ্রেষ্ঠত্বের পথে বাধা হতে পারেননি সুমাইয়া। তৃতীয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে। এর আগে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ইমরানুরের পর দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। তিনি সময় নিয়েছেন ১০.৬৬ সেকেন্ড। ১০.৭৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন তারেক রহমান। অন্যদিকে, নারীদের ১০০ মিটারে ১২.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবার আগে দৌড় শেষ করেন শিরিন। ১২.২৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন শরীফা খাতুন। আর ১২.৩৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন সুমাইয়া দেওয়ান। আরাফাত রহমান কোকোর নামে আয়োজিত ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে ৫৭টি সংস্থার ৫৬৫ জন অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। পুরুষদের ২২টি ও নারীদের ১৮টি- মোট ৪০টি ইভেন্টে হচ্ছে পদকের লড়াই। এবারই প্রথম কোনো ঘরোয়া অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় প্রেসিডেন্টের হাত থেকে পদক নেয়ার অভিজ্ঞতাও হলো দ্রুততম মানব- মানবীর। প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীরের হাত থেকে পদক পাওয়াকে নিজের পাশাপাশি দেশের অ্যাথলেটিকসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ইমরান। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে পুরস্কার নেয়া অবশ্যই সম্মানের। অ্যাথলেটিকসের জন্যও এটি বিশেষ উপলক্ষ। আমাদের খেলাটির আরও প্রচার ও সমর্থন দরকার। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এভাবে পাশে থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হবে।’ এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়ার পর এবার ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় নিজের টাইমিং নিয়ে প্রশ্নের মুখেও পড়েন ইমরান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সব সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী দৌড়ানো সম্ভব হয় না। প্রস্তুতি যথাযথ না হওয়া কিংবা অন্য কিছু কারণেও টাইমিংয়ে পার্থক্য আসতে পারে।’ সামনে এসএ গেমসে ভালো করার লক্ষ্যও রয়েছে তার। তবে সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন এই স্প্রিন্টার। এদিকে, বাংলাদেশের নারী স্প্রিন্টে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন শিরিন আক্তার। জাতীয় পর্যায়ে ১৮ বারের মতো সেরা হয়ে উচ্ছ্বসিত এই অ্যাথলেটের লক্ষ্য এখন নিজের টাইমিংয়ের উন্নতি এবং আগামী এসএ গেমসে ভালো ফল করা। পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে উচ্চশিক্ষাও চালিয়ে যেতে চান তিনি। দেশের বাইরে পিএইচডি করার প্রস্তুতির পাশাপাশি বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগও খুঁজছেন শিরিন। ১৮
বার সেরা হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে শিরিন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, অসাধারণ ছিল। প্রতিটি সফলতা নিজের একার হয় না। অনেক মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এর পেছনে কাজ করে। আমার কোচ আব্দুল্লাহেল কাফি, তার পরিবার, আমার ছোট ভাই ও তার পরিবার, নিজের পরিবার এবং স্বামী লিংকনসহ সবাই সব সময় পাশে ছিলেন।’ শিরিন যোগ করেন, ‘কতোবার চ্যাম্পিয়ন হবো, তা নির্দিষ্ট করিনি। তবে সামনে নিজের টাইমিংগুলো সেরা করার ইচ্ছা আছে। বাকিটা আমার কোচ বলতে পারবেন, আমাকে নিয়ে তার কী পরিকল্পনা রয়েছে।’ সামনে এসএ গেমস। সেখানে ভালো করতে হলে নিজের টাইমিং আরও কমাতে হবে, সেটি বুঝতে পারছেন শিরিন। এ নিয়ে কাজও করছেন তিনি। তার আশা, পরিকল্পিত অনুশীলনের মাধ্যমে সামনে আরও ভালো সময় উপহার দিতে পারবেন। প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি ও তার হাত থেকে পদক পাওয়া বিশেষ অভিজ্ঞতা জানিয়ে শিরিন বলেন, ‘এটা অসাধারণ অনুভূতি। এতে বোঝা যায়, সরকার খেলাধুলাকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। আমরাও উৎসাহিত হচ্ছি। পুরো বাংলাদেশ দেখছে কে দ্রুততম মানবী হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান এসে আমাদের পুরস্কৃত করছেন- বিষয়টি আমার কাছে সত্যিই অসাধারণ লেগেছে।’