শঙ্কামুক্ত নয় লিটন তবুও টেস্ট দলে

শঙ্কামুক্ত নয় লিটন তবুও টেস্ট দলে

ফন্ট সাইজ:

চোট কাটিয়ে এখনো পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারেননি লিটন কুমার দাস। তবুও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার ব্যাটারকে। তবে মাঠে নামার আগে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে তাকে। শেষ পর্যন্ত লিটন খেলতে না পারলে বিকল্প হিসেবে তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটার অমিত হাসানকে ভাবনায় রেখেছেন নির্বাচকরা। আগামী ২৮শে অক্টোবর মিরপুরে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। সিলেটে দ্বিতীয় টেস্ট ৫ই নভেম্বর। আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে চোট পেয়ে দেশে ফেরেন লিটন। পরে স্ক্যান পরীক্ষায় গুরুতর কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে দলে খুব বেশি পরিবর্তন আনেননি নির্বাচকরা।

গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দলের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য তুলে ধরেন জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে সামনে দুটি টেস্ট আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দলে খুব বেশি পরিবর্তন করিনি। লিটনের ফিটনেস নিয়ে সামান্য অনিশ্চয়তা থাকলেও আমরা আশাবাদী, সে সুস্থ হয়ে উঠবে। আমাদের টেস্ট দল ভালো ক্রিকেট খেলছে। আশা করি, এই সিরিজেও সাফল্য ধরে রাখতে পারবে।’
এদিকে চোটের কারণে সিরিজে খেলতে পারবেন না পেসার নাহিদ রানা। জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে চোট পাওয়ার পর পুনর্বাসনে ছিলেন তিনি। আগস্টে বোলিং শুরু করলেও আবার অস্বস্তি দেখা দেয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়। বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, বোলিংয়ে ফিরতে রানার আরও আট সপ্তাহ সময় লাগবে। তার পরিবর্তে দলে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ। পেস আক্রমণে রয়েছেন এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। বাদ পড়েছেন খালেদ আহমেদ। নাহিদ রানার অনুপস্থিতিকে বড় ক্ষতি মনে করছেন বাশার। তবে অন্য পেসারদের ওপরও আস্থা রয়েছে নির্বাচকদের।

তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানা না থাকাটা অবশ্যই বড় ক্ষতি। সে দলে এক্স-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করত। তবে তাসকিন, এবাদত, হাসান ও শরিফুলও চমৎকার বোলিং করছে। বর্তমান পেস আক্রমণ নিয়েও আমরা আশাবাদী।’ টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার। সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে রান না পেলেও এর আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজে ব্যাট হাতে ভালো করেছিলেন তিনি। তবে দেশে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট চলায় সৌম্যকে স্কোয়াডে বসিয়ে না রেখে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে চায় বিসিবি। নিয়মিত ওপেনাররা একাদশে থাকলে সৌম্যর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল বলে মনে করেন নির্বাচকরা। তাই তৃতীয় ওপেনার হিসেবে কাউকে দলে নেওয়া হয়নি।

বাশার বলেন, ‘এ মুহূর্তে সৌম্যকে বাদ দেওয়ার যৌক্তিক কারণ হলো, দেশে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট চলছে। টেস্টে আমাদের নিয়মিত ওপেনিং জুটিই হয়তো খেলবে। সে ক্ষেত্রে একাদশে সৌম্যর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। আমরা চেয়েছি, সে স্কোয়াডে বসে না থেকে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলুক।’ অন্যদিকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়েও কথা বলেছেন বাশার। তার মতে, মিডল অর্ডার নয়, বরং টপ অর্ডারের ব্যর্থতাই দলের মূল সমস্যা। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে দুই-তিনটি উইকেট পড়ে গেলে পরের ব্যাটারদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হয়। লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়কে অনেক সময় ধসে পড়া ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। ওপেনাররা ভালো ভিত গড়ে দিতে পারলে মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা বড় স্কোর গড়ার সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন এই নির্বাচক। প্রথম টেস্টের দল: নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহীম, লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন ও শরীফুল ইসলাম।