দুই দশক পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাংলাদেশে

দুই দশক পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাংলাদেশে

ফন্ট সাইজ:

গতকাল দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বড় আসরগুলোর পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে জানানো হয়, দুই দশক পর আবারো ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক হচ্ছে বাংলাদেশ। ২০৩১ সালের এই বিশ্বকাপ ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজন করবে। ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেবে ১৪টি দল। এর আগে, ২০২১ সালের নভেম্বরে ভারত ও বাংলাদেশকে এ আসরের যৌথ আয়োজক হিসেবে ঘোষণা করেছিল আইসিসি। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো দেশের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের উত্তেজনা উপভোগের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এর আগে, ২০১১ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ।

ওই আসরে দেশের মাঠে সফলভাবে আটটি ম্যাচ আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচসহ ছয়টি এবং চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দু’টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া, ২০১৪ সালে এককভাবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করে বাংলাদেশ। ওই আসরে অংশ নেয় ১৬টি দেশ। দেশের তিনটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় ৩৫টি ম্যাচ। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১৫টি, মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনালসহ ১৪টি এবং সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে শ্রীলঙ্কা। দুবাইয়ের সভায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পুরুষ, নারী ও অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের মোট ২৪টি বড় টুর্নামেন্টের সূচি চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। এর মধ্যে পুরুষদের ১২টি, নারীদের সাতটি এবং অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের পাঁচটি আসর রয়েছে। এসব টুর্নামেন্টের বাছাই পর্বও পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। ২০২৮ সাল হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততম সময়গুলোর একটি। ওই বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

৭ই সেপ্টেম্বর থেকে ১লা অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দলের এই প্রতিযোগিতা চলবে। ভারতের ম্যাচগুলো হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। এরপর ১২ই অক্টোবর থেকে ১২ই নভেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০ দলের এই আসরের পাশাপাশি একই বছর লস অ্যানজেলেস অলিম্পিকে ফিরবে ক্রিকেট। ১৯০০ সালের প্যারিস
অলিম্পিকের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০২৮ সালে অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরছে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই প্রতিযোগিতায় নারী ও পুরুষ- উভয় বিভাগে ছয়টি করে দল অংশ নেবে। লস অ্যানজেলেসের পমোনা ফেয়ারপ্লেক্সে ১২ থেকে ২৯শে জুলাইয়ের মধ্যে ক্রিকেটের ম্যাচগুলো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, ২০২৯ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনাল হবে ইংল্যান্ডে, ৮ থেকে ১২ই জুন।

অন্যদিকে, ২০৩০ সালের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচিতেও পরিবর্তন এনেছে আইসিসি। ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই আসর জুনের পরিবর্তে জুলাই-আগস্টে মাঠে গড়াবে। সবমিলিয়ে আগামী পাঁচ বছরের সূচিতে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় আসরগুলোর আয়োজন ও ভেন্যু নির্ধারণের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট করেছে আইসিসি। আর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ- যেখানে আবারো বিশ্ব সেরাদের লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকবেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।