আবাহনীর বিপক্ষে ব্রাদার্সের জয়ের নায়ক এক পাকিস্তানি

আবাহনীর বিপক্ষে ব্রাদার্সের জয়ের নায়ক এক পাকিস্তানি

ফন্ট সাইজ:

শুরুটা ভালো হলেও শেষটা রাঙাতে পারলো না আবাহনী লিমিটেড। ড্র দিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লীগ শুরু করার পর টানা দুই ম্যাচে জয় পেয়েছিল আকাশি-নীলরা। তবে চতুর্থ ম্যাচে এসে তাদের থামিয়ে দিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আবাহনীকে ২-১ গোলে হারিয়েছে দলটি। ব্রাদার্সের জয়ের নায়ক পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড সৈয়দ আলী রেজা। তার জোড়া গোলেই চলতি লীগে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে দলটি। ম্যাচের শুরুতে আবাহনীর রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় ব্রাদার্স। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে নিজেদের সীমানা থেকে লম্বা করে বাড়ানো বলে নিয়ন্ত্রণ হারান আবাহনীর ডিফেন্ডাররা। সুযোগ বুঝে বলের দখল নিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালে পাঠান আলী রেজা। তার গোলে এগিয়ে যায় ব্রাদার্স। গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে আবাহনী। তবে প্রথমার্ধে ব্রাদার্সের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি মারুফুল হকের দল।

বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়িয়ে অবশ্য সমতায় ফেরে আকাশি-নীলরা। পরিকল্পিত একটি ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের গড়ানো শটে ব্রাদার্সের জাল কাঁপান রবিউল হাসান। তার গোলে ১-১ সমতায় ফেরে আবাহনী। সমতায় ফেরার পর জয়ের লক্ষ্যে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আবাহনী। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে গিয়ে নিজেদের রক্ষণ সামলানোর ক্ষেত্রে আবারও ভুল করে বসে তারা। আর সেই ভুলেরই মাশুল দিতে হয় দ্বিতীয় গোল হজম করে। জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার বাড়ানো লম্বা বল ধরে দ্রুত আবাহনীর বক্সে ঢুকে পড়েন আলী রেজা। তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন আবাহনীর ডিফেন্ডাররা। কিন্তু বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন বাবলু। সেই সুযোগে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আলী রেজা। একই সঙ্গে ব্রাদার্সকে এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ লিড। এরপর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও আর গোলের দেখা পায়নি আবাহনী। শেষ পর্যন্ত আলী রেজার জোড়া গোলের ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে ব্রাদার্স। ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ায় ৬১ মিনিটে।

আবাহনীর নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ওকাচি ব্রাদার্সের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার সান্তানাকে ধাক্কা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে সান্তানাও পাল্টা ধাক্কা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারি দু’জনকেই সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফলে ম্যাচের বাকি সময় দুই দলকেই ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়। তবে একজন করে খেলোয়াড় কমে গেলেও স্কোরলাইনে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি। এদিন আবাহনীর গোলবার সামলান মাহফুজ হাসান প্রিতম। মিতুল মারমার পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া এই গোলকিপার প্রথম গোলের ঘটনায় পুরোপুরি দায় এড়াতে না পারলেও পরে দুটি ভালো সেভ করেন। তবে সতীর্থদের রক্ষণভাগের ভুল আর আলী রেজার কার্যকর ফিনিশিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি আবাহনী। চার ম্যাচে এটি আবাহনীর প্রথম হার। লীগের প্রথম ম্যাচে ড্র করার পর পরের দুই ম্যাচে জয় পেয়েছিল দলটি। অন্যদিকে, মৌসুমের শুরুটা ভালো হয়নি ব্রাদার্সের।

প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতে ড্র এবং একটিতে হারের পর চতুর্থ ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেল তারা। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার অষ্টম স্থানে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। চার ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আবাহনী লিমিটেড। চার ম্যাচে তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। দিনের অন্য ম্যাচে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে ফকিরেরপুলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জ। পাঁচ ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার সপ্তম স্থানে রহমতগঞ্জ। চার ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে ১১তম স্থানে ফকিরেরপুল।