সুন্দরবন উপকূল ও মোংলা বন্দর বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে নৌপথে তিনি মোংলার নৌবাহিনীর ঘাঁটি বানৌজা মোংলায় পৌঁছান। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে তিনি ওয়ার্ডরুমে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় অংশ নেন। পরে মোংলা বন্দর ও জেটি এবং প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন। এর আগে সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সৌজন্য বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নলিয়ান লঞ্চঘাট থেকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে নৌপথে সুন্দরবন ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি মোংলার নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে পৌঁছান।
হেলিকপ্টারে চড়ে সুন্দরবন ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
এদিকে হেলিকপ্টারে চড়ে জীববৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট, হিরণ পয়েন্ট, ত্রিকোণ আইল্যান্ড সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে খুলনার দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার। সুন্দরবন বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট, হিরণ পয়েন্ট, ত্রিকোণ আইল্যান্ড সংলগ্ন এলাকার উঁচুতে থেকে আকাশপথে চক্কর দিয়ে খুলনার দাকোপের দিকে চলে যায়। তবে, হেলিকপ্টারের শব্দ সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতির জন্য অনুকূল না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী হেলিকপ্টারটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইড ম্যানগ্রোভ এই বনের কোথাও অবতরণ করেনি বলে জানান- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রী নলিয়ান থেকে নৌপথে বাগেরহাটের মোংলা পৌঁছান। বিকালে মোংলা আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী মোংলা এলাকায় প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখেন।
ওদিকে সুন্দরবনসহ মোংলা বন্দর পরিদর্শন ও শুভাগমন উপলক্ষে সরকারপ্রধানকে এক নজর দেখতে এবং শুভেচ্ছা জানাতে মোংলায় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে।
ওদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে মোংলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। মোংলা বন্দর থেকে দিগরাজ পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল সীমিতও করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সম্ভাব্য পথ ও পরিদর্শনস্থলগুলোতে সাদা পোশাকেও নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। খুলনা ও বাগেরহাট সফর শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফিরেন তিনি।
মোংলা বন্দর সমপ্রসারণ ও আধুনিকায়নে চীনের সঙ্গে হওয়া চুক্তির কার্যক্রমেও গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সমপ্রসারিত হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যদিকে, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে সেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুলসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
