২০১১ ও ২০১৪ সালের পর ২০৩১ সালে আবারো বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ভেন্যু হিসেবে মিরপুর শেরে-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের পাশাপাশি আলোচনায় ছিল পূর্বাচলের স্টেডিয়াম। তবে পূর্বাচলে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এবার স্বপ্ন দেখছে আনভীর বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি। পূর্বাচলের কাছেই নির্মাণাধীন নতুন আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করতে চায় তারা। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিয়মিত ম্যাচ হচ্ছে। গতকাল থেকে সেখানে বিসিবি একাদশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুইদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু হয়েছে। মাঠের পাশেই চলছে নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ। এখন চলছে মাটি ভরাট ও ঘাস বসানোর প্রস্তুতি। আগামী বছর থেকে আইসিসি’র ভেন্যু পরিদর্শন শুরু হতে পারে। তার আগেই স্টেডিয়াম প্রস্তুত করার লক্ষ্য আয়োজকদের। স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমাদের আশা, আইসিসি’র পরিদর্শনের সময়ের মধ্যে স্টেডিয়ামটি প্রস্তুত করতে পারবো। আমাদের বিশ্বাস, বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ এখানে আয়োজন করা সম্ভব হতে পারে।’
ঢাকায় মিরপুরের বাইরে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনের উপযোগী মাঠের সংকট রয়েছে। সেই সংকট কাটাতে আনভীরের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সোমবার বিসিবি’র একটি পরিদর্শক দল মাঠের পিচ, আউটফিল্ড, ড্রেসিংরুম ও চিকিৎসাব্যবস্থা পরিদর্শন করে। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন সৈয়দ আবদুল বাতেন। মাঠের সুযোগ-সুবিধা দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশের পাশাপাশি কিছু পরামর্শও দিয়েছেন বোর্ডের প্রতিনিধিরা। আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে ইনডোর ও আউটডোর অনুশীলন সুবিধার পাশাপাশি ব্রডকাস্ট মিডিয়া বক্স ও জরুরি চিকিৎসাকক্ষ তৈরির কাজ চলছে। আউটফিল্ডও প্রস্তুত করা হচ্ছে আইসিসি’র নিয়ম মেনে। ইমরুল হাসান জানান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়েরা মাঠ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন স্টেডিয়ামেও আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা নিশ্চিত করতে চান তারা। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের উদ্যোগে যুবসমাজকে খেলাধুলায় যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে উঠছে এই স্পোর্টস সিটি। ফুটবলের মাঠের পাশাপাশি ক্রিকেটের অবকাঠামোও তৈরি হচ্ছে। স্টেডিয়ামটি চালু হলে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ ও জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে।
এতে বিসিবি’র ব্যস্ত সূচি সামলানোর পাশাপাশি বসুন্ধরা ক্রিকেট একাডেমির খেলোয়াড়দের নিয়মিত খেলার সুযোগ বাড়বে। দর্শকদের যাতায়াতের জন্য থাকছে শাটল সার্ভিস। নতুন স্টেডিয়ামের নাম চূড়ান্ত না হলেও তা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলার স্বপ্ন দেখছেন আয়োজকেরা। ইমরুল হাসান বলেন, ‘বিসিবি’র কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তবে আলোচনা ও নির্মাণকাজ এগিয়ে নিচ্ছি। বিসিবি’র সঙ্গে বৈঠক করে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চাই।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজের আগে আনভীর মাঠে প্রস্তুতি ম্যাচটি তিনদিনের পরিবর্তে দুইদিনে আয়োজন করা হচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমানো হয়েছে। এই মাঠে আগেও বিসিবি’র বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ম্যাচ হয়েছে। নতুন স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হলে আরও বড় পরিসরে ক্রিকেট আয়োজনের পাশাপাশি ২০৩১ বিশ্বকাপের ভেন্যু হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যেতে চায় আনভীর বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি।
