‘রোজার মাস বেচাবিক্রি নাই’

‘রোজার মাস বেচাবিক্রি নাই’

ফন্ট সাইজ:

রোজার মাস, বেচাবিক্রি নাই- আক্ষেপ করে কথাটি বলছিলেন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গেটের কাছের জার্সি বিক্রেতা মোশারফ হোসেন। তার আক্ষেপের যথেষ্ট কারণও রয়েছে। সচরাচর মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলে লাল-সবুজ জার্সিতে গ্যালারি ছেয়ে যায়। তবে চলতি বছরে টাইগারদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে এমন দৃশ্য দেখা গেল না। খেলা শুরুর পরও গ্যালারিতে চিরচেনা সেই গর্জন শোনা যায়নি। সাড়ে চার মাস পর ওয়ানডে খেলতে নামা বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠে শেষ কবে এমন দর্শকখরার মুখে পড়েছিল, তা মনে করা কঠিন।
এক দশক পর বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছে পাকিস্তান। এর আগে ২০১৫ সালে তারা ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। তিন ম্যাচের সেই ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। দীর্ঘ বিরতির পর ঘরের মাঠে এই দুই দলের সিরিজ নিয়ে টাইগার সমর্থকদের বাড়তি উন্মাদনা থাকবে আশা করা হচ্ছিল। তবে রমজান মাসে আয়োজিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে দর্শক সমাগম হয়নি ।
সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ। নিরাপত্তা ইস্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় বৈশ্বিক আসরে টাইগারদের খেলা হয়নি। বিশ্বকাপ না খেলায় সমর্থকেরা পাকিস্তান সিরিজের জন্য উন্মুখ। কিন্তু মিরপুর স্টেডিয়ামে সেই চিত্র দেখা গেল না। এর দায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও এড়াতে পারে না। প্রচারণায় বেশ কমতি ছিল। জানুয়ারিতে শেষ হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগকে (বিপিএল) সামনে রেখে সজ্জিত মিরপুর স্টেডিয়ামের চেহারায় খুব একটা বদল আসেনি। স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে স্পনসর প্রতিষ্ঠানের তিনটি ও সিরিজের তিনটি পোস্টার ঝুলছে। বাইরে চোখে পড়ার মতো বড় পোস্টার ছিল একটিই, যেখানে দুই অধিনায়ক মিরাজ ও আফ্রিদির ছবি ছিল। মিরপুরে টাইগারদের কোনো ম্যাচ মাঠে গড়ালে স্টেডিয়ামের ফুটপাত লোকারণ্য হয়ে ওঠে। তবে কাল সেটি দেখা যায়নি। টিকিট কালোবাজারিদের মাথায়ও হাত। ৩ ও ৫ নম্বর গেটের সামনে অন্য সময়ের চেয়ে কম দামে টিকিট বিক্রির আশ্বাস দিয়েও তারা দর্শক টানতে পারেননি। সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জে পড়ে ফুটপাতে গড়ে ওঠা দোকানগুলো। রমজান মাস বলে দিনের বেলা খাবারের বেচাবিক্রি বন্ধ ছিল। সন্ধ্যায় ইফতারি বিক্রি হলেও অন্য সময়ের মতো নয়। বেশি ভুক্তভোগী পতাকা বিক্রেতা ও জার্সির দোকানগুলো। প্রায় ১৬-১৭ জন পতাকা নিয়ে এলেও ক্রেতার অভাবে তাদের হতাশ হতে হয়। এ নিয়ে স্টেডিয়ামের পাশের ফুটপাতের জার্সি বিক্রেতা মোশারফ বলেন, ‘রোজার মাস, বেচাবিক্রি নাই। অল্পস্বল্প বিক্রি। আগে ঘণ্টায় ৪০-৪৫টি জার্সি বিক্রি করতাম। আজ ৫টি জার্সিও বিক্রি হয়নি।’
কিছু দর্শক ব্যস্ততা দূরে ঠেলে মাঠে আসেন। তাদের কারো কারো হাতে ও গালে ছিল রংতুলিতে আঁকা বাংলাদেশের পতাকা। তেমনই এক ক্রিকেট-অন্তপ্রাণ সমর্থক আনহাফ তাহমিদ। সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী টাইগারদের খেলা দেখতে মুখিয়ে ছিলেন। গতকাল তার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। তিনি বলেন, ‘কত দিন মাঠে খেলা দেখি না! বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ খেলেনি। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে লিটন-তামিমদের খেলা দেখতে এলাম।’ মাঠে পাকিস্তানের কিছু সমর্থকের উপস্থিতি দেখা গেছে। তাদের বেশির ভাগই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসা এ শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের খেলা উপভোগের লোভ সামলাতে পারেননি। এদের একজন জুবাইদা আনসারি। পাকিস্তান দলকে সমর্থন দিতে আসা এ তরুণী বলেন, ‘পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। ছুটি পেলাম। এই সুযোগে দেশকে সাপোর্ট দিতে এসেছি। রিজওয়ানের খেলা আমার বেশি ভালো লাগে।’
মিরপুরে আগামী ১৩ই মার্চ তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি হবে। একদিন পর ১৫ই মার্চ হবে সিরিজের শেষ ওয়ানডে লড়াই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন