প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সুন্দরবন উপকূলে উৎসবের আমেজ

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সুন্দরবন উপকূলে উৎসবের আমেজ

ফন্ট সাইজ:

দুর্গম উপকূলীয় জনপদ সুন্দরবনের পাশঘেরা দাকোপের নলিয়ানে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মানুষের ভিড়। কারও চোখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার আগ্রহ, কারও মনে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘোচানোর প্রত্যাশা। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা আর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত এ জনপদের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সফরকে দেখছেন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার হিসেবে। তার ঘিরে এই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থাও।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর দাকোপ ও বাগেরহাটের মোংলা সফর উপলক্ষে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের সম্ভাব্য স্থান নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াড দিয়ে চালানো হয়েছে তল্লাশিও।

এই সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পাশাপাশি নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয়েছে হেলিপ্যাড।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখান থেকে নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটিতে যাবেন তিনি। পরে সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তার।
এদিকে, সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

তবে স্থানীয়দের মতে, অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, সুপেয় পানির সংকট নিরসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। পর্যটনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এসব সীমাবদ্ধতায় পিছিয়ে রয়েছে উপকূলীয় জনপদটি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা কেবল উন্নয়ন প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের আশা, দাকোপ ও মোংলার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।