কুমিল্লায় গৃহবধূ সোনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্বপনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

কুমিল্লায় গৃহবধূ সোনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্বপনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার চৌয়ারা রায়পুর এলাকার গৃহবধূ সোনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি স্বপনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও স্বজনেরা। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চৌয়ারা বাজারে এ মানববন্ধন ও শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সোনিয়ার মৃত্যুর জন্য স্বপনকে দায়ী করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের দাবি জানান বক্তারা।
চৌয়ারা রায়পুর এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উলুরচর, পাঠানকোট, রায়পুর ও মাটিয়ারা গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন। মানববন্ধনে সোনিয়ার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, স্বপন দীর্ঘদিন ধরে সোনিয়াকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত, কুপ্রস্তাব ও নির্যাতন করতেন। এসব ঘটনার পরিণতিতেই সোনিয়ার করুণ মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রায়পুরের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার বাড়ি চৌয়ারা রায়পুরে। যে মেয়েটি নির্মমভাবে মারা গেছে, সে আমার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী। আমাদের অভিযোগ, স্বপন দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত ও নির্যাতন করতেন। আমরা সোনিয়ার মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এলাকাবাসীর পক্ষে জাকির হোসেন বলেন, “সোনিয়া খুব ভালো মেয়ে ছিল। আমাদের অভিযোগ, স্বপনের কারণে সে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
মাটিয়ারা গ্রামের স্বপন মজুমদার বলেন, “আমরা এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাদের দাবি, কোনো নিরীহ মানুষ যেন অন্যায়ের শিকার না হয় এবং সোনিয়ার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তি যেন আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পান।”
সোনিয়ার মেজো বোন উম্মে আসমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমার বোনকে আমরা অনেক শখ করে বিয়ে দিয়েছিলাম। সংসার করার আগেই তাকে হারাতে হলো। আমাদের অভিযোগ, স্বপন প্রতিনিয়ত আমার বোনকে বিরক্ত করত এবং কুপ্রস্তাব দিত। তার নির্যাতনে আমার বোনের জীবন শেষ হয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই, তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

সোনিয়ার আরেক বড় বোন বলেন, “আমরা তিন বোন ও এক ভাই ছিলাম। আজ আমার বোন অকালে চলে গেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার বোন মৃত্যুর আগে একটি চিঠিতে স্বপনকে অভিযুক্ত করে গেছে বলে আমরা দাবি করছি। ওই চিঠিসহ ঘটনার সব প্রমাণ তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
সোনিয়ার স্বামী ইতালিপ্রবাসী আব্দুল্লাহর বড় ভাই কবির হোসেন বলেন, “স্বপন আমাদের আত্মীয়। তাকে আমরা অনেক আদর-স্নেহ করেছি। অথচ আজ আমাদের পরিবারের এমন ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই, সোনিয়ার মৃত্যুর পেছনে যাঁর দায় রয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হোক এবং তিনি যেন সর্বোচ্চ শাস্তি পান।”

মানববন্ধনে উপস্থিত অন্যরাও সোনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। কোনো নারী যেন হয়রানি, ভয়ভীতি কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়ে অসহায় বোধ না করেন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তাঁরা।
কর্মসূচি থেকে সোনিয়ার মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট চিঠি ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা, মামলার দ্রুত বিচার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এলাকাবাসী ও স্বজনদের একটাই দাবিÑসোনিয়ার মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।