মাঠের লড়াই থেমেছে অনেক আগেই, কিন্তু রোনালদো-মেসি দ্বৈরথ থামেনি। সর্বকালের সেরা কে, এই বিতর্কের নতুন মঞ্চ ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। সেখানে ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম বাছাইয়ের এক বিশেষ ভোটে মেসিকে অনেক পেছনে ফেলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
অক্টোবরের শুরুতে চালু হওয়া ভোটে ফুটবলার নয়, বেছে নিতে হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট বছরের পারফরম্যান্স। এ পর্যন্ত রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুম পেয়েছে ৭৫ শতাংশ ভোট। মেসির ২০১২ সালের মৌসুমের পক্ষে পড়েছে মাত্র ৯ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রোনালদোর ২০১৭ সালের মৌসুম, ৬ শতাংশ ভোট নিয়ে। গত শনিবারও ২০০৮ সালের পক্ষে ছিল ৬২ শতাংশ, মেসির ২০১২ সালের পক্ষে ১৩ শতাংশ। এক সপ্তাহে ব্যবধান আরও বেড়েছে। ভোট চলবে ২৭ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত।
২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লীগ ও চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতেন রোনালদো। একই বছর জেতেন ক্লাব বিশ্বকাপ, কমিউনিটি শিল্ড ও ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। সব প্রতিযোগিতা মিলে তার গোল ছিল ৪২টি। চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনালে চেলসির বিপক্ষে গোল করে ইউনাইটেডকে টাইব্রেকারে জয়ের পথে রাখেন তিনি।
সেই বছরই প্রথমবার ব্যালন ডি’অর ওঠে তার হাতে। পান ৪৪৬ পয়েন্ট। সেবার ২৮১ পয়েন্টে নিয়ে দ্বিতীয় হন মেসি। তৃতীয় ফার্নান্দো তোরেস, ১৭৯ পয়েন্টে। রোনালদো হন এউসেবিও (১৯৬৫) ও লুইস ফিগোর (২০০০) পর তৃতীয় পর্তুগিজ ব্যালন ডি’অরজয়ী। ইউনাইটেডের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে পান এ পুরস্কারটি। এর আগে পেয়েছিলেন ডেনিস ল, বব্বি চার্লটন ও জর্জ বেস্ট। মেসির জন্য ২০১২ সাল স¥রণীয় বছর। ২০১৩ সালে ঘোষিত ওই পুরস্কার ছিল তার টানা চতুর্থ ব্যালন ডি’অর। এক পঞ্জিকাবর্ষে বার্সেলোনার হয়ে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। তবু সমর্থকদের এই ভোটে তিনি অনেক পিছিয়ে। মেসির ২০২৩ সালের মৌসুমও ভোটের তালিকায় আছে, যে বছর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে অষ্টমবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন তিনি। তবে প্রকাশিত হিসাবে সেটি রোনালদোর ২০১৭ সালের মৌসুমকে ছাড়াতে পারেনি। ২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লা লিগা জিতে পঞ্চমবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন রোনালদো। অন্তত দুবার ব্যালন ডি’অর জেতা ১০ ফুটবলার আছেন ভোটের তালিকায়। রোনালদো ও মেসির বাইরে আছেন রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হাইঞ্জ রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেদো দি স্তেফানো। এই আটজনের সম্মিলিত ভোট মাত্র ০.৪ শতাংশ।
ভোট দিতে হয় অর্থ খরচ করে। প্রতিটি ভোটের দাম এক ইউরো। একই খেলোয়াড়কে বারবার ভোট দেওয়া যায়, তালিকার অন্য সংস্করণও বেছে নেওয়া যায়। ফলে এটি নির্ভুল জনমত জরিপ নয়। বরং দুই তারকার সমর্থকদের আগ্রহ ও ব্যয়ের প্রতিফলন। লটারির মাধ্যমে একজন ভোটার পাবেন আগামী বছরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের টিকিট। এদিকে আগামী ২৬শে অক্টোবর লন্ডনে হবে ৭০তম ব্যালন ডি’অর। ৩০ জনের চূড়ান্ত তালিকায় আছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছেন লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। রোনালদো এবার মূল দৌড়ে নেই।
