পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী

ফন্ট সাইজ:

দুর্গাপূজার ছুটিতে রাজধানী ছেড়েছে মানুষ। পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এবার পাঁচদিনের লম্বা ছুটি। গতকাল ছুটির প্রথম দিনেও অনেক মানুষকে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। এর আগে সোমবার শেষ কর্মদিবসে অনেকেই ঢাকা ছাড়েন। এতে বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে এখন ঘরমুখো মানুষের ভিড় ছিল। তবে যানবাহন ও মানুষের চাপ কমে রাজধানীর ব্যস্ত পথঘাট অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে। ঢাকার রাস্তায় যানজট নেই বললেই চলে। ফলে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে পৌঁছাচ্ছে যাতায়াত করেন। চলাচলে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন নগরাবাসীও।

সরজমিন দেখা যায়, রাজধানীতে গাড়ির চাপ খুবই কম। সিগন্যালগুলা দ্রুত ছেড়ে দিচ্ছে। বাস, মেট্রোতে খুব একটা ভিড় নেই। মানুষ সহজেই যাতায়াত করছেন। অনেকে অফিসে যাচ্ছেন। অনেকে ঘুরতে বেরিয়েছেন। অনেকে আবার গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। পটুয়াখালী যেতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসেন চাকরির প্রস্তুতি নেয়া রবিউল তালুকদার। তিনি মানবজমিনকে বলেন, দু’দিনের জন্য বাড়িতে যাবো। সোমবার শেষ কর্মদিবস ছিল। এজন্য একটু ভিড় ছিল। তাই একদিন পরে বের হয়েছি। নিয়মিত যাতায়াতের কথা ভেবে একটু আগেই বের হয়েছি। রাস্তা ফাঁকা থাকায় এক ঘণ্টা আগে পৌঁছেছি। একই সময়ে কুমিল্লা যাওয়ার জন্য সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসেন শিক্ষার্থী তানভীর হাসান শুভ। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমি বাড্ডা থেকে এসেছি। ৩টার দিকে বাসে উঠবো ভেবে ১টায় বের হয়েছি। এখন দেড়টায় টার্মিনালে চলে এসেছি। রাস্তা একেবারে ফাঁকা। এমন শহর হলে ঢাকায় শান্তিতে থাকা যায়। ঠাকুরগাঁও যাওয়ার জন্য সকাল ১০টায় গাবতলী বাস টার্মিনালে আসেন মাহফুজ সরকার। সাড়ে ১০টায় বাস তার। মিরপুরের শেওড়াপাড়া থেকে ১৫ মিনিটে গাবতলী চলে যান তিনি। মাহফুজ মানবজমিনকে বলেন, ৪৫ মিনিট হাতে নিয়ে বের হয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তায় কোনো জ্যাম নেই। তাই ১৫ মিনিটে চলে এসেছি। এমন রাজধানীই আমাদের চাওয়া।

এদিকে, ফাঁকা সড়কে স্বাচ্ছন্দ্যে গাড়ি চালানোর কথা জানিয়েছেন সিএনজিচালকরা। বোরহান উদ্দিন নামে এক সিএনজিচালক মানবজমিনকে বলেন, সকাল থেকে ৫ জন যাত্রীকে নিয়েছি। এমনি দিনে অফিস সময়ে এতগুলো ভাড়া নেয়া সম্ভব না। কিন্তু রাস্তা ফাঁকা থাকায় সহজেই চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে। সাইফুল হক নামের এক সিএনজিচালক বলেন, প্রতিদিন খুব সকালে বের হয়ে দুপুরে বাসায় ফিরি। আবার বিকালে বের হই। আজকে যাত্রী খুব কম। কিন্তু রাস্তা ফাঁকা হওয়ায় সারা দিনের যা ভাড়া তা এক বেলায় কামিয়েছি। খাইরুল ইসলাম নামে এক মোটসাইকেল চালক মানবজমিনকে বলেন, আজকে যদিও যাত্রী কম তবে শান্তিমতো বাইক চালাতে পারছি। জ্যামের কারণে এক যায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে অনেক সময় লাগতো। আজকে সহযেই যাত্রীকে পৌঁছে দিয়ে বিশ্রাম নিতে পারছি।

অপরদিকে, ফাঁকা ঢাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কর্মজীবীরাও। পিয়াস সরকার নামে এক গণমাধ্যমকর্মী মানবজমিনকে বলেন, সকালে মিরপুর থেকে কাজের জন্য উত্তরায় গিয়েছিলাম। মোটরসাইকেল নিয়ে আধাঘণ্টার মধ্যে চলে যাই। আসতেও একই সময় লেগেছে। অথচ সাধারণ দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকা থাকতে হয়। এই শহরের বসবাসকারীদের যাতায়াতের থেকে বড় ট্রমা আর কিছু নেই। অথচ বছরের পর বছর এই ট্রমা বাড়তেই আছে। সরকারে উতিৎ এই দিকটিকে নজর দেয়া। প্রতিদিন মিরপুর থেকে কুর্মিটোলা হাসপাতাল যাতায়াত করেন বদরুল আলম। তিনি মানবজমিনকে বলেন, প্রতিদিন আমাকে এক ঘণ্টা হাতে রেখে বের হতে হয়। কিন্তু আজকে ২০ মিনিটের মধ্যে চলে এসেছি। জ্যামের কারণে মাঝে-মধ্যে অফিস শেষ করে বের হওয়ার ইচ্ছ হয় না। এর থেকে বড় স্বস্তি আর কিছু হয় না। বারিধারায় একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন লোকমান ইসলাম। প্রতিদিন গাজীপুর থেকে যাতায়াত করেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, সকালে গাজীপুর থেকে আসতে আমার প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ আজ ১ ঘণ্টার কম সময়ে চলে এসেছি। প্রতিদিন যেন এমন স্বাচ্ছন্দ্যে অফিস করতে পারি- এটাই চাওয়া।