ত্রিদেশীয় সিরিজে মরুঝড়ের সামনে বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজে মরুঝড়ের সামনে বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

আফগানিস্তানকে হারালেই কি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠবে বাংলাদেশ? উত্তর- না। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন করে ফেলেছে টাইগাররা। এখন আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারলেই বিদায়, আর জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে রান রেটের কঠিন সমীকরণের দিকে। সবমিলিয়ে মরুঝড়ের সামনে কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বিকাল সাড়ে পাঁচটায় গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয় মাঠে নামবে তাওহীদ হৃদয়ের দল। নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস ছিটকে যাওয়ায় নেতৃত্বের দায়িত্ব পড়েছে তাওহীদ হৃদয়ের কাঁধে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিং- দুই বিভাগেই হতাশ করেছে বাংলাদেশ। সেই হারের পর দলের রান রেট দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১.৯৮০। ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে আজ শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে। প্রথমে ব্যাটিং করলে আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারানোর কঠিন সমীকরণ রয়েছে। আর পরে ব্যাটিং করলে দ্রুত লক্ষ্য তাড়া করে রান রেটের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে হবে। অর্থাৎ জয় পেলেও ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত নয় বাংলাদেশের। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। প্রধান কোচ ফিল সিমন্স মনে করেন, একটি বাজে পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো দলের সামর্থ্য বিচার করা উচিত নয়। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য ক্রিকেটারদের রয়েছে বলেও বিশ্বাস তার। সিমন্স জানিয়েছেন, কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব মনে রাখার বার্তা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। কোটি কোটি সমর্থকের প্রত্যাশার কথাও ক্রিকেটারদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হবে না। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ওয়ানডেতে দুই দল ২২ বার মুখোমুখি হয়ে ১১টি করে ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু সবশেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। আবুধাবিতে সবশেষ তিন ম্যাচে বাংলাদেশকে যথাক্রমে ২০০ রান, ৮১ রান ও পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে তারা। ফলে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে আফগানদের আধিপত্য ভাঙাই হবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ভেন্যুর পরিসংখ্যানও খুব একটা পক্ষে নেই টাইগারদের। শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডেতে সাত ম্যাচ খেলে মাত্র দু’টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতেও পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে হার। ওয়ানডেতে এই মাঠে বাংলাদেশের পাঁচটি হারের চারটিই এসেছে
পরে ব্যাটিং করতে নেমে। বিপরীতে দু’টি জয়ই আগে ব্যাটিং করে। তাই টসে জিতলে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে শারজাহর উইকেট ও কন্ডিশন বিবেচনায় নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা করাটাও জরুরি। ব্যাটিংয়ে লিটনের অনুপস্থিতি বাড়তি চাপ তৈরি করবে বাংলাদেশের জন্য। ওপেনিংয়ে নতুন সমন্বয়ের পাশাপাশি মিডল অর্ডারে হৃদয়সহ অন্যদের দায়িত্ব নিতে হবে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাটারদের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে বড় সংগ্রহ গড়ার বিকল্প নেই। বোলিংয়েও ফিরতে হবে ছন্দে। পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে রান দেয়ার প্রবণতা কমিয়ে শুরুতেই উইকেট তুলে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে। মাঝের ওভারগুলোতে আফগানিস্তানের শক্তিশালী স্পিন আক্রমণ সামলানোও হবে বড় পরীক্ষা।

রশিদ খানদের চাপে পড়ে আবারো ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটলে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ওয়ানডে পারফরম্যান্সও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। সবশেষ ১০ ম্যাচে জয় ও হার পাঁচটি করে। ত্রিদেশীয় সিরিজের ইতিহাসেও সাফল্য সীমিত। ১৩টি আসরে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ শিরোপা জিতেছে মাত্র একবার। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল টাইগাররা। আজ তাই হৃদয়দের সামনে চ্যালেঞ্জ দ্বিমুখী- আফগানিস্তানের শক্তিশালী দলকে হারানো এবং রান রেটের কঠিন হিসাব মেলানো। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভুলগুলো শুধরে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে পারলেই কেবল বেঁচে থাকবে বাংলাদেশের ফাইনালের আশা। অন্যথায় মাঝপথেই শেষ হবে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপার স্বপ্ন।