দিয়াবাতের গোলেও জয় নেই মোহামেডানের, শীর্ষে বসুন্ধরা কিংস

দিয়াবাতের গোলেও জয় নেই মোহামেডানের, শীর্ষে বসুন্ধরা কিংস

ফন্ট সাইজ:

সুলেমান দিয়াবাতের গোলে এগিয়ে গিয়েও জয় পাওয়া হলো না মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। শেষ পর্যন্ত ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড ইয়োহান মাবিদার দুর্দান্ত ওভারহেড কিকে পয়েন্ট হারিয়েছে সাদা-কালোরা। অন্যদিকে সিটি ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বসুন্ধরা কিংস। দিনের অন্য ম্যাচে আরামবাগ ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের লড়াই শেষ হয়েছে ২-২ গোলের সমতায়।
মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ তপন স্টেডিয়ামে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বসুন্ধরা কিংস। ম্যাচের ১৭ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় তারা।

কিংসের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবসনকে নিজেদের বক্সে ফাউল করেন সিটি ক্লাবের গাম্বিয়ান ডিফেন্ডার ফোদায়ে ডার্বো। রেফারি আলমগীর সরকার পেনাল্টির নির্দেশ দিলে পরের মিনিটেই স্পটকিক থেকে গোল করেন রবসন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কিংস। ৪০ মিনিটে রাকিব হোসেনের শট ফিরিয়ে দেন সিটি ক্লাবের গোলকিপার ইসহাক আকন্দ। তবে ফিরতি বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হেডে বল জালে পাঠান এমেকা ওগবুগ। বিরতির আগে পাওয়া দুই গোলের লিড ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে কিংস। তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে বসুন্ধরা কিংস।

মুন্সীগঞ্জের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে পিডব্লুডির বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল মোহামেডান। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের গোলমুখে ছয়টি শট লক্ষ্যে রেখেও গোলের দেখা পায়নি তারা। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যেতে হয় সান্তিয়াগো ভারেলার দলকে। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য গোলের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি সাদা-কালোদের। ৬১ মিনিটে ডান দিক থেকে ফয়সাল আহমেদের বাড়ানো লম্বা পাস বক্সে পেয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান দিয়াবাতে। এগিয়ে গিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে মোহামেডান।

কিন্তু সেই স্বপ্ন স্থায়ী হয় মাত্র ১৫ মিনিট। ৭৬ মিনিটে দারুণ এক ওভারহেড কিকে পিডব্লুডিকে সমতায় ফেরান মাবিদা। তার চোখধাঁধানো গোলেই ম্যাচে ফেরে পিডব্লুডি। এরপর জয়সূচক গোলের জন্য আক্রমণের চাপ বাড়ালেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি মোহামেডান। শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। কিংসের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মোহামেডান।
দিনের সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচটি হয়েছে গোপালগঞ্জে, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের মধ্যে। ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ওয়ান্ডারার্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক অ্যাঙ্গুস জন বেইলি। সেই ব্যবধান ধরে রেখেই এগোচ্ছিল দলটি। কিন্তু শেষ দিকে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৮৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে আরামবাগকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক মোহাম্মদ রকি। দুই মিনিট পর নেপালি মিডফিল্ডার যুবরাজ ধাকালের গোলে আবার এগিয়ে যায় ওয়ান্ডারার্স। তবে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ৮৮ মিনিটে গোল করে আরামবাগকে ফের সমতায় আনেন সামিন ইয়াসার। শেষ ছয় মিনিটে তিন গোলের নাটকীয়তার পরও কোনো দল জয় পায়নি। ২-২ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে ওয়ান্ডারার্স ও আরামবাগ।