ময়মনসিংহে ২৫৭ পূজামণ্ডপে সাড়ে ১৪ লাখ টাকার আর্থিক সহযোগিতা

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় জেলার ১৪টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন এলাকাসহ মোট ২৫৭টি মন্দিরে আর্থিক সহযোগিতা হিসাবে সরকারি অর্থে ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার অনুদান দেয়া হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ে প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এসব তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পূজামণ্ডপের জন্য আর্থিক বরাদ্দ ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য সাধারণ বরাদ্দের চাল ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজিতে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদ, ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে পূজামণ্ডপগুলোতে সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জেলার ১৪টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনসহ ২৫৭টি পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এর আগে এবারের মতো সরকারি অনুদান আর কখনো পাইনি বলেও স্বীকার করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দ।

বিএনপি গঠিত পূজা পর্যবেক্ষণ টিমের অন্যতম এই সদস্য আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পেরিয়ে এবার নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে শারদীয় দুর্গোৎসব আরও ব্যাপক পরিসরে, উৎসাহ, উদ্দীপনা ও মহাসমারোহে উদ্‌যাপিত হচ্ছে। উৎসবের আয়োজন সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সহজতর করা এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের ইতিবাচক অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর সাহা জানান, এবারের দুর্গোৎসবে ময়মনসিংহ জেলায় মোট পূজামণ্ডপ হয়েছে ৮১৬টি। এর মধ্যে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮৮টি এবং সদর উপজেলায় ৪৪টি মণ্ডপ রয়েছে। এসব পূজামণ্ডপে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, বলেও তিনি দাবি করেন। শঙ্কর সাহা আরও বলেন, এবারের পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীন। মৎস্য দপ্তর, তুলা উন্নয়ন থেকে সরকারের সকল দপ্তর এবার পূজা আয়োজনে সম্পৃক্ত হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সরকারি বরাদ্দ এবং ছুটি। এ ছাড়াও খোদ প্রধানমন্ত্রী পূজা পর্যবেক্ষণে সফরে বেরিয়েছেন, এটিও ব্যতিক্রম। এর আগে এবারের মতো পূজা উৎসবে সরকারিভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার নজির নেই।