জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছে জনগণ লুটপাটের লাইসেন্স দেয়নি ডা. শফিকুর রহমান

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য রক্ত দেয়নি। জনগণ লুটপাট, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি করতে হবে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের ওপর জুলুম করা, অধিকার হরণ করা এবং অন্যের প্রাপ্য কেড়ে নেয়ার পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যায় করে কেউ পার পাবে না।

ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব আমৃত্যু পালন করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, গত ১৭ বছরে তাদের ওপর বিভিন্নভাবে জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে অসংখ্য নারী-পুরুষকে জীবন দিতে হয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামী আন্দোলন ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রাপ্তির জন্য নয়; বরং আদর্শিক বিশ্বাস ও আল্লাহ’র সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের উপস্থিতি তাদের আদর্শিক চেতনার প্রতিফলন। এই সম্মেলন শুধু মিলনমেলা নয়, বরং দেশের প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দেশের মানুষ আদর্শিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। ন্যায়বিচার, সততা ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছাত্রজীবনে অর্জিত নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ ও নেতৃত্বের গুণাবলি কর্মজীবন এবং সমাজে কাজে লাগাতে হবে। সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু’র জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ইনসাফ ও জনকল্যাণভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে ছাত্রশিবির প্রস্তুত।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি আদর্শিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সংঘবদ্ধ জীবনযাপন ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ প্রয়োজন। যতক্ষণ নিঃশ্বাস থাকবে, ততক্ষণ ইসলামী আন্দোলনের পথে অবিচল থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে। সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন, সাবেক চাকসু ভিপি এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সভাপতি মুমিনুল হক, দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন এবং ছাত্রনেতা হাসান ইমামসহ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটিসহ বিভিন্ন এলাকার জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।