প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর নামে আগামী ২৩ থেকে ২৫শে অক্টোবর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে তিনদিনের ‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬’। শুক্রবার বিকাল ৪টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকস মোটেই ভালো অবস্থানে নেই। এই পরিস্থিতি অচিরেই কাটিয়ে উঠতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের এই গ্রীষ্মকালীন অ্যাথলেটিকসকে ঘিরে দেশ জুড়ে ভিন্নমাত্রার একটি সাড়া পড়েছে, যা ফেডারেশনকে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।’
ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী পুরুষদের ২২টি ও নারীদের ১৮টি মিলে মোট ৪০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা হবে। ইভেন্টের তালিকায় রয়েছে স্প্রিন্ট, মধ্য ও দীর্ঘ পাল্লার দৌড়, হার্ডলস, রিলে, জাম্প ও থ্রো। দেশের ৬৪ জেলা, বিভিন্ন বিভাগ ও সার্ভিসেস দলের প্রায় ৮০০ অ্যাথলেট অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে ফেডারেশন। সার্ভিসেস দলের মধ্যে আছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার, বিজিবি ও পুলিশ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শারীরিক শিক্ষা কলেজের অ্যাথলেটদেরও অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। সব জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাকে দল পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। অংশ নিতে আসা অ্যাথলেটদের যাতায়াত, আবাসন ও খাবারের শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ফেডারেশন। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জাতীয় স্টেডিয়াম সরজমিন দেখে আয়োজকদের সঙ্গে প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রতিযোগীতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীরা পাবেন যথাক্রমে ৬ হাজার, ৪ হাজার ও ৩ হাজার টাকা। নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়লে মিলবে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা। প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক সেরা অ্যাথলেটকে দেবে একটি এক্সপ্লোর ই-বাইক মোটরসাইকেল। ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাবের বলেন, ‘আমরা শতভাগ প্রস্তুত এবং একটি সফল আয়োজন উপহার দিতে চাই। একটু আগেই আমরা অ্যাথলেটদের খোঁজ নিতে ট্র্যাকে গিয়েছিলাম। তারা খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এই আসরে ভালো ফলাফল দেখাতে সক্ষম হবে।’
প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর ১৩ জেলায় প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম শুরু করবে ফেডারেশন। ডিসেম্বরে লক্ষ্মীপুর ও যশোর থেকে শুরু হবে এই কার্যক্রম। পরে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায়ও খোঁজা হবে প্রতিভা। শারীরিক গঠন ও সক্ষমতার পাশাপাশি সম্ভাবনা বিবেচনায় বাছাই করা অ্যাথলেটদের পেছনে সময় ও অর্থ বিনিয়োগ করতে চায় ফেডারেশন। লক্ষ্য এসএ গেমস, এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিকে পদক-খরা ঘোচানো। অ্যাথলেটিকসের গুরুত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘অ্যাথলেটিকস হলো অলিম্পিকের মূল খেলা। এই খেলাটি এমন করুণ অবস্থায় থাকলে দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের অ্যাথলেটিকসে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।’
