উয়েফার ৪২ প্রশ্ন, ইনফান্তিনোর সময় দুই সপ্তাহ

উয়েফার ৪২ প্রশ্ন, ইনফান্তিনোর সময় দুই সপ্তাহ

ফন্ট সাইজ:

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা আগামী ২রা নভেম্বরের মধ্যে ফিফাকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নথিপত্র প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলে ইনফান্তিনো তার বিতর্কিত বিশ্বকাপ সেল-অফ প্ল্যানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেও, এই প্রস্তাব কীভাবে তৈরি হয় সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থিওডোর থিওডোরিদিস প্রেরিত আট পাতার ওই চিঠিতে ৪২টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) বেসরকারি বিনিয়োগ থেকে শুরু করে ফিফা শান্তি পুরস্কার এবং মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের বিতর্কিত শাস্তিমুক্তি স্থগিতাদেশের মতো গুরুতর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনই দিতে হবে। ফিফার পরবর্তী কাউন্সিলের সভা পর্যন্ত এগুলো ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।’ ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উয়েফার উত্থাপিত প্রশ্নমালায় মূলত কোনো টেন্ডার ছাড়াই জশ কুশনারের ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’কে এফএফই প্রকল্পের প্রধান বিনিয়োগকারী করা, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুরোধে বালোগানের শাস্তি মওকুফের নেপথ্য কাহিনী এবং ইনফান্তিনোর কোনো অপ্রকাশিত অতিরিক্ত বেতন বা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

এর পাশাপাশি ট্রাম্প টাওয়ারে অপ্রয়োজনীয় অফিস ভাড়া, ক্রিপ্টোকারেন্সি আলোচনা এবং ফিলিস্তিনে তহবিল বরাদ্দের মতো সিদ্ধান্তগুলোতে স্বচ্ছতার অভাব ও স্বার্থের সংঘাতের বিষয়গুলোরও সুনির্দিষ্ট জবাব চেয়েছে উয়েফা।

ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ার এবং ফিফার সহ-সভাপতি ডেবি হিউইট স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন, ‘যদি তিনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেন, তবে তিনি ফিফা সভাপতি হওয়ার যোগ্য নন।’

উয়েফা জানিয়েছে, এফএফই প্রস্তাবের ওপর ভোটের মাত্র দুদিন আগে ইনফান্তিনো তার ম্যানেজমেন্ট বোর্ডকে আচমকা জানান যে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ফিফা প্রশাসন নিয়ে তদন্ত করছে। ভোটের ঠিক আগে এমন তথ্য প্রকাশের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এটি সদস্যদের ওপর কোনো অদৃশ্য চাপ সৃষ্টির চেষ্টা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, বাছাইপর্বে অযোগ্য খেলোয়াড় খেলানোর পরও ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন নেয়া হলো না, তার রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার জবাবও চেয়েছে ইউরোপিয়ান সংস্থাটি।

আগামী ১৮ই নভেম্বর পরবর্তী ফিফা সভাপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের নাম জমা দেয়ার চূড়ান্ত তারিখ। এর আগেই ইনফান্তিনোর ওপর এই চাপ বিশ্ব ফুটবলের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।