ট্র্যাকে ফিরছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদন

ট্র্যাকে ফিরছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

ফন্ট সাইজ:

ভারতে বাংলাদেশের দূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ মঙ্গলবার মধ্যপ্রদেশের মাওহে অবস্থিত আর্মি ওয়ার কলেজে প্রথমবারের মতো তার দায়িত্বকালের সময় ১৮০ জন ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তার সামনে বক্তব্য রেখেছেন। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন নয়াদিল্লি এবং ঢাকা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উপায় খুঁজছে। হামিদুল্লাহ এক্সে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আর্মি ওয়ার কলেজ, মাওহে এসে খুশি, কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল হারজিৎ সিং সাহী স্বাগত জানিয়েছেন। আর্মি ওয়ার কলেজের দীর্ঘ ঐতিহ্য জানলাম। ১৮০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে (ভারতের) তিন বাহিনী থেকে হায়ার কমান্ড কোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সামনে বাংলাদেশের এবং ভারতের সম্পর্কের অবস্থা, সমস্যা/চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপায় এবং সম্মিলিত স্বার্থে ‘পথের মানচিত্র’ শেয়ার করেছি।’

আর্মি ওয়ার কলেজ তাদের নিজস্ব বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, হামিদুল্লাহ জেওসিএপিতে ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক সংযোগ যা উভয় দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করছে’ তা নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, কূটনীতিকদের সফর নিয়মিত ঘটনা এবং পূর্ববর্তী বাংলাদেশ হাই কমিশনারও ২০২৪ সালে আর্মি ওয়ার কলেজে সফর করেন। কিছু কূটনীতিক সরাসরি বক্তৃতা দেন, কিছু সময় সীমাবদ্ধতার কারণে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। এক সূত্র বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্বব্যাপী উপস্থিতি রয়েছে, যেখানে বিদেশি কর্মকর্তারা জুনিয়র কমান্ড, সিনিয়র কমান্ড এবং ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার কোর্সে অংশগ্রহণ করেন।’

হামিদুল্লাহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ভারতীয় হাই কমিশনার নিযুক্ত হয়েছেন। বারবার উভয় দেশের যৌথ সামরিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, যদিও রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ ছিল দুদেশের। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই অবস্থা সৃষ্টি হয়।

২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে হাই কমিশন আয়োজিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে হামিদুল্লাহ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নিহত ১৬৬৮ জন ভারতীয় সৈন্যকে শ্রদ্ধা জানান। ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস লে. জেনারেল মানিশ লুতরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
হামিদুল্লাহর আর্মি ওয়ার কলেজ সফর করেছেন ঢাকা সেনা গোয়েন্দা মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রাশিদ চৌধুরীর নয়াদিল্লি সফরের মাত্র এক সপ্তাহ পর। চৌধুরীর সফরে তিনি ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র)-এর প্রধান পরাগ জৈন এবং তার ভারতীয় সমক্ষ লে. জেনারেল আর.এস. রমন-এর সঙ্গে বৈঠক করেন, যেমন দ্য প্রিন্ট রিপোর্ট করেছে।

২রা মার্চ জৈন এবং চৌধুরীর মধ্যে ব্যক্তিগত নৈশভোজ দু’দেশের জমাট বাঁধা যোগাযোগ চ্যানেল খুলে দেয়ার একটি পদক্ষেপ ছিল। এতে বোঝাপড়া হয় যে ভারত ও বাংলাদেশের অঞ্চল ‘শত্রুতাপূর্ণ স্বার্থ’ অনুসরণকারী কোনো পক্ষের জন্য ব্যবহার হবে না।

চৌধুরী ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং প্রতিবছর আয়োজিত রাইসিনা ডায়ালগের আগের দিন অনুষ্ঠিত ইন্টেলিজেন্স রাউন্ডটেবিলে অংশ নেন।
ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক মেরামত এবং স্বাভাবিক করার উপায় খুঁজছে। বিশেষ করে ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তারেক রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের পর। চৌধুরীর ভারত সফর ছিল তারেক রহমানের জয়ের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, যা দুটি দেশের উদ্দেশ্য নির্দেশ করে যে, তারা ইউনূস যুগের সম্পর্কের অবনতির পর এগোতে চায়।
কিছু জটিলতা এখনও রয়েছে, যেমন হাসিনার ভারতের মধ্যে অব্যাহত অবস্থান। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গত বছর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

দুটি দেশ গত বছর একে অপরের উপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যেমন কাস্টমস চেক বাড়ানো এবং ট্রান্সশিপমেন্ট অ্যাক্সেস বাতিল। তবে ভারত মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং কাঁচা তেলের সরবরাহে চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও, নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।

সূত্র জানিয়েছে, তেল ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ দিয়ে সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশ প্রশাসন জানিয়েছে, ভারত প্রায় ৫০০০ টন ডিজেল সরবরাহ করবে।
দুই দেশ অন্যান্য উপায়ও খুঁজছে যাতে পার্থক্য কমানো যায়। কারণ কিছু কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখনও রয়েছে, যেমন গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তির নবায়ন, যা ডিসেম্বর ২০২৬-এ শেষ হবে।