গাড়িচাপায় মারাত্মক আহত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য হেলেন হেইনস। পুলিশ জানিয়েছে, গুরুতর সংকটজনক অবস্থায় হেইনসকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিক্টোরিয়া রাজ্যের ওয়ানগারাট্টায় নিজের আঞ্চলিক কার্যালয়ের কাছের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় ছিলেন হেইনস। এ সময় একটি চার চাকার যান তাকে ধাক্কা দেয়। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
আলবানিজ বলেছেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। এটি পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর এ ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি হেলেনের জন্য প্রার্থনা করছি এবং তার পরিবার ও প্রিয়জনদের কথা ভাবছি। এটি আমাদের জাতির জন্য একটি শোকাবহ দিন। এভাবে কাউকে টার্গেট করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ওয়ানগারাট্টায় নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ের বাইরে হেলেনের ওপর হামলার ঘটনায় অস্ট্রেলীয়রা ক্ষুব্ধ ও হতবাক। টেলর বলেন, আমাদের দেশ এমন জায়গায় পরিণত হতে পারে না, যেখানে সহিংস হামলাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে তার কথা হয়েছে জানিয়ে টেলর বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা কখনোই জনজীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না— এ বিষয়ে তারা একমত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উত্তর-পূর্ব ভিক্টোরিয়ার হেলেন, তার পরিবার এবং তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ বুঝতে পারবেন যে এই কঠিন সময়ে সারা অস্ট্রেলিয়ার মানুষ তাদের পাশে রয়েছেন। ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেন ক্যারল এই ‘সহিংস হামলার’ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ওয়ানগারাট্টার জনগণ এবং হেলেন যাদের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাদের জন্য ঘটনাটি কতটা বিধ্বংসী হতে পারে, তা তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন। সন্দেহভাজনকে আটক করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
ভিক্টোরিয়া পুলিশ জানিয়েছে, হেলেন হেইনসের কার্যালয়ের কাছে তাকে গাড়িচাপা দেয়ার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পথচারী প্রথমে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ভিক্টোরিয়ার কাছাকাছি এলাকা টারাওয়িঙ্গির বাসিন্দা। তিনি সাদা রঙের টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার চালাচ্ছিলেন। গাড়িটির ভেতর থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এক পথচারী তাকে আটক করার পর পুলিশ হেফাজতে নেয়। হামলার উদ্দেশ্য জানা যায়নি। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তারাও তদন্তে যুক্ত হয়েছেন।
