ক্রমশ চাপে পড়ছে ইসরাইল, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে

আল জাজিরার মন্তব্য কলাম

ক্রমশ চাপে পড়ছে ইসরাইল, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে

ফন্ট সাইজ:

২০২৩ সালে ইসরাইল যখন ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছিল, তখন উরসুলা ভন ডার লিয়েন তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। ইউরোপিয়ান কমিশনের এই প্রেসিডেন্ট ওই বছর ২৩শে এপ্রিল বলেন, ইউরোপ ও ইসরাইল বন্ধু ও মিত্র হতে বাধ্য।

কূটনীতিকে অতিক্রম করেছিল সেই বন্ধুত্ব। এর ফলে ইউরোপে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছে ইসরাইল। ইউরোপিভশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ইউরোপিয়ান সরকারগুলোর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করেছে। ইউরোপের উৎপাদন ধারায় অস্ত্র তৈরির কারখানা অস্ত্র তৈরি করেছে। এসব সম্পর্ক এখনও বিদ্যমান। কিন্তু ইসরাইল গাজায় পর্যায়ক্রমিক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে কমপক্ষে ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর তা পরিণত হয়েছে ব্যাটলগ্রাউন্ড বা যুদ্ধক্ষেত্রে। ইসরাইল অংশগ্রহণ করছে বলে ইউরোভিশন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইউরোপিয়ান দেশগুলো। ইসরাইলি টিমের সঙ্গে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইউরোপের ফুটবলাররা। কোনো কোনো বন্ধুত্ব পরিণত হয়েছে নিন্দায়। ফিলিস্তিনি ইসরাইলের নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন সমালোচনা চালিয়ে আসছে আয়ারল্যান্ড ও স্পেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন বলেছেন, গাজায় ইসরাইলি কর্মকাণ্ড বিশ্বকে লজ্জিত করবে। পক্ষান্তরে গাজায় প্রবেশ করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাহিনী অব্যাহতভাবে যে গণহত্যা চালিয়েছে দ্ব্যর্থহীনভাবে তার নিন্দা জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃটেনের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন কিভাবে, কতটা হয়েছে গত তিন বছরে তা এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইসরাইল প্রতিষ্ঠায় বালফোর ডিক্লেয়ারেশন সহায়তা করেছিল। এই ডিক্লেয়ারেশন ছিল বৃটেনের। তাই ইসরাইলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সম্প্রতি বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের জাতি নিধনকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।

শনিবার ইউরোপিয়ান কিছু কূটনীতিক, বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কিছু কর্মকর্তার ওপর হামলা করেছে একদল বসতি স্থাপনকারী। এ সময় ওই কূটনীতিকরা দখল করে নেয়া ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরের গ্রাম তাইবেহ’র কাছে ফিলিস্তিনিদের জলপাই তোলা পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। এর একদিন আগে উত্তরের রামাল্লাহতে যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে বসতি স্থাপনকারীরা। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। ইউরোপ ও ইসরাইলের মধ্যে আতঙ্কের যে সম্পর্ক তা কখনোই হয়তো পুরোপুরি মেরামত হবে না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আগামী ২৭ শে অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। তার প্রেক্ষিতে এ সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হবে না।

থিংকট্যাংক চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক ইয়োশি মেকেলবার্গ বলেন, যদি উগ্র ডানপন্থা নিয়ে আবার ক্ষমতায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তাহলে অবশ্যই পরিস্থিতি থাকবে অপরিবর্তনীয়। এই সরকার যে ক্ষতি করেছে তার ক্ষত অনেক গভীর। ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র লেকচারার নিকোলা পেরুগিনি সতর্ক করেন, যে নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, তিনি যদি আবার নির্বাচিত হন তাহলে গাজার জনগণকে বাসযোগ্য নয় এমন পরিস্থিতির সঙ্গে অব্যাহতভাবে লড়াই করতে হবে। অধিক উদারপন্থি দলগুলোর সঙ্গে নেতানিয়াহু যদি সরকার গঠন করেন তাহলে বসতি সম্প্রসারণের গতি ধীর হতে পারে। কিন্তু আইসিসি থেকে যে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, তিনি ইসরাইল ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ককে আরো খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে সমালোচনার যে নীতি গড়ে উঠেছে, নেতানিয়াহুর পরিবর্তে অন্য কেউ এলেও তার পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে হয় না।

নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন সাবেক সেনা প্রধান ও মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট। তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছেন। গত বছর ইসরাইলের মিটভিম ইন্সটিটিউট বার্ষিক এক জনমত জরিপ চালায়। তাতে দেখা যায় ইউরোপকে একটি প্রতিপক্ষ বলে মনে করেন শতকরা ৬৭ ভাগ ইসরাইলি। আর বন্ধু মনে করে শতকরা ১৪ ভাগ। তবে অধিক উদারপন্থি সরকারের অধীনে একটি ভিন্ন রকম সম্পর্ক দেখেন মেকেলবার্গ। তিনি বলেন, ইউরোপের সঙ্গে আলোচনা হবে অধিক যৌক্তিক। তবে তিনি সতর্ক করেন, এই চিত্র রাতারাতি বদলে যাবে না। বিশ্লেষকরা বলেন, এমন হলে ফিলিস্তিনিদের কাছে অধিক হারে মানবিক সহায়তা দেয়া হতে পারে। বসতি স্থাপনের সম্প্রসারণ ধীরগতির হতে পারে। বাতিল হতে পারে ই১ বসতি পরিকল্পনা।

কিন্তু চ্যাথাম হাউসের এসোসিয়েট ফেলো জুলি এম নরম্যান বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এবং দখলদারিত্ব বন্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে ইউরোপকে। তিনি বলেন, কিন্তু এ পর্যন্ত আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ বর্তমান সরকার বা পরবর্তী সরকারের অধীনে নেয়া হবে বলে মনে হচ্ছে না।

ইসরাইলের গাজা যুদ্ধের শুরুতে পশ্চিমা নেতারা ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা থামাতে পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি হয়। মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক আদালত, ট্রেড ইউনিয়ন, পেশাজীবী সংগঠন থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের বিক্ষোভ— সব মিলিয়ে সরকারগুলোকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবাধিকার আইনের ইসরাইলি অধ্যাপক নেভে গর্ডন বলেছেন, এখন বেশ কয়েকটি দেশের শাসকগোষ্ঠী জনমতের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান মেলানোর চেষ্টা করছে। তার মতে, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন সরকারগুলোর প্রচলিত চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইল সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণকারী মানুষের অনুপাত বৃটেনে ২০২৫ সালের বসন্ত থেকে চলতি বছরের বসন্ত পর্যন্ত ৬১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৯ শতাংশ হয়েছে। ইতালিতে এ হার ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৫ শতাংশ হয়েছে। আর ইসরাইলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র জার্মানিতে তা ৬৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ইতালির রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাতালি তচ্চি এই জনচাপের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইসরাইল সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করার উদ্যোগ এবং ইসরাইলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপগুলোর যোগসূত্র তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ইসরাইলের বিষয়ে ইউরোপের নীতিতে যদি কোনো কিছু প্রভাব ফেলে থাকে, তাহলে তা নিঃসন্দেহে গত কয়েক বছরের বিক্ষোভের ঢেউ। লন্ডনের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক নরম্যান বলেছেন, ইউরোপের দেশগুলো এখন ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ থেকে সরে এসে আরও বিস্তৃত কাঠামোগত পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ইসরাইল রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের ওপর সরাসরি নজরদারি ও পর্যালোচনা’।

তবে ইউরোপের কিছু অংশে এখনো ইসরাইলের প্রতি সমর্থন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জানিনা ডিল। তিনি বলেছেন, জার্মানির পরপর দুটি সরকারই ‘ইসরাইলকে কূটনৈতিক ও বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে জার্মানির অবস্থানের বিরুদ্ধে জনগণের যৌক্তিক সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ অনিচ্ছুক’। সামগ্রিকভাবে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন কমতে থাকায় দেশটি ইউরোপের উগ্র ডানপন্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামবিরোধী মনোভাবের জায়গায় তারা অভিন্ন অবস্থান খুঁজে পেয়েছে। যদিও ঐতিহাসিকভাবে এবং বর্তমান সময়েও উগ্র ডানপন্থীদের সঙ্গে ইহুদিবিদ্বেষের সম্পর্ক রয়েছে।

বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মেনাখেম ক্লেইন আল জাজিরাকে বলেছেন, বর্তমান ইসরাইলি সরকার ‘বন্ধু ও মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপক ক্ষতি করেছে’। এই ক্ষত সারিয়ে তুলতে সময় লাগবে। মেকেলবার্গ আরও বলেছেন, সম্পর্কের উন্নতি করতে হলে শান্তি প্রক্রিয়ার দিকে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য ভিন্ন ভবিষ্যৎ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। তা করা হলেও ক্ষতির প্রভাব দীর্ঘদিন থেকে যাবে।

ইসরাইলের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা
ইসরাইলের নির্বাচনী বিতর্কে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর অব্যাহত হত্যাকাণ্ডের নৈতিকতা কিংবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থান নিয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে অনুপস্থিত। বিদেশে ইসরাইলের পরিচালিত যুদ্ধগুলোর প্রতি দেশটির অভ্যন্তরে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের এপ্রিলে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক বাহিনীর ভূমিকার ব্যাপারে ৯২ শতাংশ ইহুদি ইসরাইলি উচ্চ মূল্যায়ন করেছেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হলেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে, ইহুদি পিপল পলিসি ইনস্টিটিউটের সেপ্টেম্বরে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ ইহুদি ইসরাইলি গাজা থেকে ইসরাইলের সীমান্তে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি মেনে নিতে রাজি নন, যদি না ওই ভূখণ্ডের ভেতরে ইসরাইলি নিরাপত্তাবেষ্টনী বজায় রাখা হয়। এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা নয়।

মধ্যপ্রাচ্য আমেরিকান ডায়ালগ ফোরামের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইয়াকভ কাটজ চ্যাথাম হাউসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রায় কোনো আলোচনাই হচ্ছে না।’ বরং নির্বাচনী বিতর্কের প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে হামাসকে দুর্বল করা এবং হিজবুল্লাহ ও ইরানের শক্তি খর্ব করা। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ও পরে ঘটে যাওয়া ব্যর্থতাগুলোর তদন্ত এবং অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কাটজ লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, ইউরোপে ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সম্পর্কে ইসরাইলিরা যে জানেন না, তা নয়।

তিনি আরও লিখেছেন, ৭ই অক্টোবরের হামলা ইসরাইলের জনমতকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে যে, কোনো বিদেশি সরকার ইসরাইলের সমালোচনা করলেই ইসরাইলিরা মাত্র দুটি দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে পান: হয় ওই সমালোচনা ইহুদিবিদ্বেষপ্রসূত, নয়তো সমালোচনাকারী অজ্ঞ।’