ইউরোপের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে চাপে পড়তে পারে বাংলাদেশের রফতানি

সহযোগীদের খবর

ইউরোপের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে চাপে পড়তে পারে বাংলাদেশের রফতানি

ফন্ট সাইজ:

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘ইউরোপের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে চাপে পড়তে পারে বাংলাদেশের রফতানি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের অস্থিরতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং তা আমদানি চাহিদাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে মনে করেন রফতানি খাতসংশ্লিষ্টরা।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ থেকে ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংস বিক্ষোভ। ১৭ অক্টোবর প্যারিস, লিওঁ, মার্সেই, লিমোজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে দেড় শতাব্দী পুরনো লিমোজের ঐতিহ্যবাহী সিটি হল।

একই দিন ইতালির মিলানেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ক্রেতা ও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকা পিয়াজ্জা দেল দুয়োমো ও এর পাশের বিলাসপণ্যের বিপণিবিতান খালি হয়ে যায়।

ফ্রান্স ও ইতালির পাশাপাশি বেলজিয়াম ও পর্তুগালেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক রফতানির অন্যতম বাজার ইউরোপ। সেখানকার বিভিন্ন দেশে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে রফতানিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন রফতানিকারকরা। বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানির প্রায় অর্ধেকের গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজার। ফলে ইউরোপে ভোক্তাদের ব্যয় ও ক্রয় আচরণে পরিবর্তন এলে বাংলাদেশের রফতানিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যদিকে ইউরোপের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধির গতি ধীর। এ অবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়লে দেশের পোশাক রফতানি চাপে পড়তে পারে। এ ঝুঁকির ক্ষেত্রে ইউরোপের পরিস্থিতির পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

তবে ইউরোপের অস্থিরতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং তা আমদানি চাহিদাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে মনে করেন রফতানি খাতসংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পর্যটকরা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। অস্থিরতার কারণে পর্যটন ও মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য বিক্রিতে প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে এবং ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানির ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশ গেছে ইইউর দেশগুলোয়। এ সময়ে বাজারটিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি ডলারের, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কম।

ইইউর বড় বাজারগুলোর মধ্যে জার্মানিতে বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানির ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ, স্পেনে ৯ দশমিক ৩১, নেদারল্যান্ডসে ৫ দশমিক ৬১, ফ্রান্সে ৫ দশমিক শূন্য ৯ এবং ইতালিতে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ গেছে।

বছরওয়ারি হিসাবে জার্মানিতে রফতানি কমেছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ফ্রান্সে ৮ দশমিক ৭৪ ও ইতালিতে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ফলে ইউরোপের এসব বড় বাজারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার পাশাপাশি এর আগেই চলা রফতানি মন্দার বিষয়টিও বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকদের চাপে রেখেছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের পরিসংখ্যানে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ইইউর দেশগুলোয় তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে স্পেনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৫ দশমিক ৭৭ ও সুইডেনে ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বিপরীতে ফ্রান্সে রফতানি কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ, ইতালিতে ৫ দশমিক ৮২ এবং জার্মানিতে দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে রফতানি বাড়লেও ইইউর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের রফতানি এখনো নিম্নমুখী। এর মধ্যে ফ্রান্স ও ইতালিতে চলছে সহিংস অস্থিরতা।

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে তৈরি পোশাকের অন্যতম বৃহৎ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এমএস ডায়িং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ইউরোপের বর্তমান অস্থিরতার প্রভাব তারা অনুভব করছেন।

বণিক বার্তাকে মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘সেখানকার পরিস্থিতি আমরাও ফিল (অনুভব) করছি। আমাদের কাছে এখন অর্ডার তুলনামূলক কম। নিয়মিত যা থাকে, তার চেয়ে এ মুহূর্তে কম আছে। বর্তমান যে অস্থিরতা, সেটা নতুন। কিন্তু তার আগে মন্দা পরিস্থিতির কারণে অর্ডার কম ছিল। আমাদের কারখানা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ রকম পরিস্থিতিতে পড়েনি।’

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্ডার কমে যাওয়ার পেছনে বর্তমান অস্থিরতার সুনির্দিষ্ট প্রভাব কতটা, তা এখনই আলাদা করে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রফতানি খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

ইউরোপভিত্তিক বড় পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রয়কৌশলে পরিবর্তন আসছে। এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স ও প্রাইমার্কের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে ক্রয়াদেশের একটি অংশ ভারত, মিসরসহ অন্যান্য গন্তব্যে সরিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন ও পণ্য সংগ্রহের উৎসে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি ক্রয়মূল্য, সরবরাহের সময় ও উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নিচ্ছেন ক্রেতারা।

দেশের রফতানিকারকদের মতে, এ পরিবর্তনের পেছনে বৈশ্বিক চাহিদায় মন্থরতা ও ক্রেতাদের ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তাও ভূমিকা রাখছে। ভারতসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোয় তুলনামূলক কম দামে পণ্য উৎপাদন এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ার সম্ভাবনাও ক্রয়াদেশ বণ্টনে প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে এখন ইউরোপে অস্থিরতা ক্রেতাদের ক্রয়প্রবণতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন শিল্পোদ্যোক্তারা।

ইউরোপের অস্থিরতার সম্ভাব্য প্রভাবের চেয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়ে বেশি উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (ইউরোচেম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইউরোপের অস্থিরতা বাংলাদেশের রফতানিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিশ্বজুড়েই ব্যবসা ও বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে। রাজনৈতিক মেরুকরণ, বিভিন্ন দেশে আসন্ন নির্বাচন, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে চাপ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।’

বাংলাদেশের পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে নুরিয়া লোপেজের বড় উদ্বেগ অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়ে। তার মতে, বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, শ্রম অসন্তোষ, মজুরি নিয়ে বিরোধ এবং ব্যবসার পরিবেশে স্থিতিশীলতার অভাব বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের কাছে স্থিতিশীলতার শক্তিশালী বার্তা দিতে হবে বাংলাদেশকে। একই সঙ্গে ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে ইউরোপের কাছে বাংলাদেশ যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার, সেই বার্তা দেয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা, রফতানি কার্যক্রমের নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কটনভিত্তিক পণ্যের ক্রয়াদেশ বাংলাদেশ থেকে ভারতে সরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইউরোপের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে।’

ইইউর পোশাক আমদানির পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশের রফতানির ওপর চাপের চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-আগস্টে ইইউর দেশগুলোয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পোশাক আমদানি এ সময়ে কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইইউর পোশাক আমদানির মূল্য ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৪৫ লাখ ইউরো থেকে কমে ১ হাজার ১৯২ কোটি ৮০ লাখ ইউরো হয়েছে। অর্থাৎ আট মাসে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানি হ্রাসের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমার হার প্রায় তিন গুণ।

নিট পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইউরোপের অস্থির পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা বাংলাদেশের রফতানির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হবে। এমনিতেই ইউরোপের বাজারে বিক্রি কমেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির অবনতির প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে।’

ইউরোপের পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের রফতানির ঝুঁকি নিয়ে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক গতকাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটাও ঠিক, এতে শুধু বাংলাদেশের রফতানি কমবে না। যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রফতানি করে, তাদের সবার ওপরই প্রভাব পড়তে পারে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে তেলের দাম। আবার শীতকালে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা ও দাম বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বর্তমান অস্থিরতা—এ দুটি বিষয় বিবেচনায় নিলে আমার মনে হয়, সামনের দিনগুলোয় ইউরোপের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে একটা সংকোচন থাকবে।’

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে র‍্যাপিড চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উদ্বেগটা বেশি হওয়ার কারণ আমাদের বাজারের ঘনত্ব। ইইউর বাইরে আমাদের বড় কোনো বাজার গড়ে ওঠেনি।’

ইউরোপের অস্থিরতাকে সরাসরি বাজার সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। এ ধরনের অস্থিরতা মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। কোনো দেশে অস্থিরতা দেখা দিলেই যে আমদানি কমবে, তা নিশ্চিত নয়। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘প্রলম্বিত হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা আসলে আগে থেকে অনুমান করা যায় না। ব্যবসা-বাণিজ্যে এ ধরনের সংকট আসতেই থাকবে। আমাদের রফতানিকারকদের এগুলো মোকাবেলা করতে শিখতে হবে এবং সম্ভাব্য সংকটের জন্য সবসময় প্রস্তুতি রাখতে হবে।’

প্রথম আলো

‘অবৈধ রিসোর্টের ছড়াছড়ি, প্রশাসন নিষ্ক্রিয়’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতের পাশে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) গড়ে উঠছে কোরাল বিচ রিসোর্ট। আগুনে পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্ট থেকে হেঁটে মাত্র এক মিনিটের পথ। টুপটুপের মতো এ রিসোর্টেও নেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেই প্রয়োজনীয় কোনো সনদ।

গতকাল রোববার দুপুরে রিসোর্টটিতে গিয়ে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রও পাওয়া যায়নি। প্রায় ১০ বিঘা জমিতে স্থাপনাটি গড়ে তোলা হচ্ছে। দোতলা একটি ভবন হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, সামনে আরও অবকাঠামো হবে। ধাপে ধাপে সব সনদ সংগ্রহ করা হবে।

পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্ট বন্ধ করতে নোটিশ দিয়েছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। ভেঙে ফেলতে দুই দফা নোটিশ দিয়েছিল কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে সতর্ক করেছিল ফায়ার সার্ভিসও। তবু অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা করে যাচ্ছিল রিসোর্টটি। গত শনিবার সকালে ভয়াবহ আগুনে সেই রিসোর্টে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। তাঁদের ছয়জন একই পরিবারের। এ ঘটনার পর পর্যটকদের নিরাপত্তা, রিসোর্ট নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।

টুপটুপে প্রাণহানির পরদিন গতকাল দিনভর কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে অনুমোদন ছাড়াই নতুন রিসোর্ট–কটেজ নির্মাণ এবং অতিথি কক্ষ তৈরির কাজ দেখা গেছে। শহরে আটতলা হোটেলও চলছে অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া। বিভিন্ন সংস্থা অনিয়ম চিহ্নিত করে নোটিশ দিচ্ছে। কিন্তু নির্মাণ ও ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না।

সরকারি সংস্থা, হোটেলমালিক সমিতি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় সাত শতাধিক আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে অগ্নিনিরপত্তার ঘাটতিসহ নানা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। হোটেলমালিকদের হিসাব অনুযায়ী, বছরে অন্তত ৯০ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। আগুন লাগলে তাঁদের সতর্ক করা, প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানো এবং নিরাপদে বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকার কথা। টুপটুপের প্রাণহানি সেই ব্যবস্থার ঘাটতি ও সরকারি তদারকির ব্যর্থতা সামনে এনেছে।

২৫ বছরে ২০০ থেকে ২০০০ হোটেল-রিসোর্ট

অনুসন্ধানে সংগৃহীত আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০০ সালে কক্সবাজারে হোটেল–রিসোর্ট ছিল ২ শতাধিক। ২০১০ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় প্রায় ৫০০। ২০২০ সালে তা এক হাজার ছাড়ায়। বর্তমানে জেলায় হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ মিলিয়ে সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। প্রায় আড়াই দশকে পর্যটকদের থাকার স্থাপনা বেড়েছে কয়েক গুণ।

শুধু কক্সবাজার শহরের প্রায় চার বর্গকিলোমিটার এলাকায় হোটেল–রিসোর্ট রয়েছে ৫৩৭টি। শহরের বাইরে মেরিন ড্রাইভ ধরে হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফেও ব্যবসা ছড়িয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর মেরিন ড্রাইভ এলাকায় প্রায় ৬০টি রিসোর্ট–কটেজ নির্মাণের তথ্য পাওয়া গেছে।

কিন্তু পর্যটন ব্যবসার এই বিস্তারের সঙ্গে অনুমোদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১১৫টি হোটেল–রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা সনদ রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের। এর বাইরে ঠিক কত প্রতিষ্ঠান এসব ছাড়া চলছে, তার কোনো সমন্বিত তালিকা পাওয়া যায়নি সরকারি দপ্তর ও সংস্থায়।

কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ প্রায় ২৫০টি। তারকা মানের কয়েকটি ছাড়া অন্যগুলোর বৈধ অনুমোদন নেই।

কটেজ উঠছে, কাগজপত্র পরে

মেরিন ড্রাইভের সোনারপাড়া এলাকায় দেখা গেল, বাঁশ ও বেত দিয়ে ছয়টি কটেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি দপ্তরের অনুমোদন না থাকলেও নির্মাণকাজ থেমে নেই। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কর্ণধার ইমরান নাজির নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, অগ্নিনিরাপত্তা সনদের জন্য আবেদন করেছেন। অন্য সরকারি সংস্থার অনুমোদনের কাগজপত্র প্রস্তুত করছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন বলে জানান তিনি।

পাটুয়ারটেকের সেইলর বিচ রিসোর্টে পর্যটকদের জন্য ১৫টি কক্ষ তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে ৩০ জনের বেশি মানুষ থাকতে পারবেন। প্রায় এক বছর আগে রিসোর্টটি নির্মিত হয়েছে। ব্যবস্থাপক মামুন হোসেন বলেন, অনুমোদনের জন্য সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন তাঁরা।

অর্থাৎ নির্মাণের আগে অনুমোদন নেওয়ার বদলে ভবন তৈরির পর দপ্তরে যোগাযোগ করছেন উদ্যোক্তারা। মাঠপর্যায়ে বাধা না পাওয়ায় আগে স্থাপনা তৈরি, পরে কাগজপত্র সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। হোটেল–রিসোর্টের ক্ষেত্রে ভবনের নকশা ও নির্মাণের অনুমোদন, ব্যবসা পরিচালনার প্রযোজ্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদন আলাদা বিষয়। এক সংস্থার কাগজ দিয়ে অন্য সংস্থার অনুমোদনের ঘাটতি পূরণ হয় না। ইসিএভুক্ত এলাকায় জমির ব্যবহার ও নির্মাণের বিধিনিষেধও মানতে হয়।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘এত মৃত্যুর দায় কার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ড এখন আর কেবল দুর্ঘটনা নয়, রীতিমতো জাতীয় বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন পরপরই ঘটছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এতে প্রাণ যাচ্ছে শত শত মানুষের। পুরান ঢাকার নিমতলী, চকবাজারের চুড়িহাট্টা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপো, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মেসার্স হাশেম ফুড লিমিটেডের কারখানা, বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের আগুনের ঘা এখনো দগদগে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টের ভয়াবহ আগুনের ঘটনা, যা মানুষকে কাঁদিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, গত ১১ বছরে সারা দেশে অগ্নিকাণ্ডে ১ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৯৫ জন। তবে এই হিসাবেও গরমিল রয়েছে। তাৎক্ষণিক মৃত্যুর হিসাব এটি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যারা মারা যান তাদের খবর কেউ রাখে না। প্রশ্ন উঠেছে, এসব হতাহতের দায় আসলে কার?

বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সাম্প্রতিক সময়ের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। ওই কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে ভয়াবহ সব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে দায় রয়েছে সরকারি-বেসরকারি ১১টি প্রতিষ্ঠানের। এসব প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তাদের উদাসীনতার কারণে অগ্নিঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দায়দায়িত্ব নিরূপণ করতে গিয়ে কমিটি বলছে, ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি, উন্নয়নকারী সংস্থা (যেমন-রাজউক, চউক, খুউক ইত্যাদি), সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, পুলিশ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা, বিস্ফোরক পরিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, ওয়াসা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন। তাদের দায়বদ্ধতার আওতায় আনতে হবে।

টুপটুপ রিসোর্ট অগ্নিকাণ্ডের পর জানা গেছে, কক্সবাজারের ইনানীর এই রিসোর্টটি চলছিল ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছাড়াই। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর বলছে, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রও ছিল না।

সূত্র বলছে, কোনো ভবনে অগ্নিঝুঁকি আছে কি না, তা তদারকিতে থাকেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। এলাকা ভাগ করে তারা দেখভাল করেন। অগ্নিঝুঁকি থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের। তবে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট খুব কমই পরিচালিত হয়। অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ভবন মালিক বা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেই দায় এড়িয়ে যান।

তবে ফায়ার সার্ভিসের দাবি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও সিলগালা করার একক নির্বাহী ক্ষমতা না থাকায় তাদের পক্ষে কার্যকর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না। তাদের নিজস্ব কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নেই; এজন্য অন্য সংস্থার দারস্থ হতে হয়। রয়েছে জনবলের স্বল্পতাও।

ফায়ার সার্ভিসের বাৎসরিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায়, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে সারা দেশে অগ্নিকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ ১ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৮৮ জন, ২০২৪ সালে ১৪১ জন, ২০২৩ সালে ১০২ জন, ২০২২ সালে ৯৮ জন, ২০২১ সালে ২১৯ জন, ২০২০ সালে ১৫৪ জন, ২০১৯ সালে ১৮৫ জন, ২০১৮ সালে ১৩০ জন, ২০১৭ সালে ৪৫ জন, ২০১৬ সালে ৫২ জন এবং ২০১৫ সালে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে অগ্নিদুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৯৫ জন। জানা গেছে, ২০২২ সালের ৪ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন (মারা যান ৪৯ জন); ২০২১ সালের ৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মেসার্স হাশেম ফুড লিমিটেডের কারখানার আগুন (মারা যান ৫২ জন); ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুন (৮১ জন মারা যান); ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারের আগুন (মারা যান ২৫ জন) এবং ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের আগুন (নারী-শিশুসহ মারা যান ৪৬ জন) স্মরণকালের বড় অগ্নিদুর্ঘটনা।

অগ্নিকাণ্ডের দায় : সূত্র বলছে, ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন করে রাজউক বা সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অনুমোদন (ট্রেড লাইসেন্স) দেয় সিটি করপোরেশন। কিন্তু আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে রেস্তোরাঁ, গুদাম বা রাসায়নিক কারখানা গড়ে উঠলেও নিয়মিত পরিদর্শন বা ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজের ঘটনার মতো অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পুরো ভবনকে বাণিজ্যিক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। অধিক মুনাফার আশায় অনেক ভবন মালিক ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা (যেমন : ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার, ফায়ার এক্সিট, স্মোক ডিটেক্টর, জরুরি সিঁড়ি) ছাড়াই ভবন ভাড়া দেন। বাণিজ্যিক ভবনে সিঁড়িতে মালামাল বা সিলিন্ডার রেখে পথ অবরুদ্ধ করে রাখা এখন খুবই সাধারণ দৃশ্য। ফায়ার সার্ভিস শত শত ভবনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসাবে চিহ্নিত করে নোটিশ জারি করেই দায় সারছে। অগ্নিকাণ্ডের দায় রয়েছে তিতাস, ডেসকো ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলোরও। পুরোনো জরাজীর্ণ তার, মানহীন সরঞ্জাম এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায় স্ফুলিঙ্গ থেকেই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ ও কর্মচারীদের মধ্যে ফায়ার ড্রিল বা জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় দুর্ঘটনার মুহূর্তে প্যানিক সৃষ্টি হয় এবং হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রাণহানি আসলে কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এখনো আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হইনি। শুধু এই সেক্টরে নয়, সব সেক্টরে আইনকানুন মানার ব্যাপারে আমরা খুবই শিথিলতা বজায় রেখেছি। সেফটি নিয়ে খরচ করতে চাই না, সেফটি নিয়ে ভাবতে চাই না, সেফটি নিয়ে কিছু করতে চাই না-যতক্ষণ না বিপদ আসে। এটাই হচ্ছে মূল কারণ। আমাদের আসলে এই কনসার্নটা সব লেভেলেই গ্রো করতে হবে।’

এদিকে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের ওই কমিটির বলছে, ৭ কারণে মাঝেমধ্যেই দেশে ঘটছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসাবে ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও শর্টসার্কিট, গ্যাস সিলিন্ডারের যত্রতত্র ব্যবহার ও লিকেজ, অসচেতনতা ও জ্বলন্ত সিগারেটের টুকরো, মশার কয়েল ও চুলার আগুন, কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থের অবৈধ মজুত, ট্রান্সফরমার ও বয়লার বিস্ফোরণ, ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাবকে চিহ্নিত করা হয়।

উচ্চপর্যায়ের ওই কমিটির প্রতিবেদনে দেশের অগ্নিদুর্ঘটনা রোধ ও প্রাণহানি কমাতে ‘বিট পুলিশিং’-এর বিটকে ভিত্তি করে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রাজউক, বিদ্যুৎ বিভাগসহ মোট দশটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘অগ্নিনিরাপত্তা সচেতন কমিটি’ গঠনের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আজও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে ওই কমিটির সুপারিশ এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

কালের কণ্ঠ

‘সংসার খরচ মেটাতে এক বছরে ঋণগ্রস্ত ৪৭.৪২% পরিবার’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতে পারছে না দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা এবং প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ায় জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে ঋণ করতে হচ্ছে তাদের।

শহরের তুলনায় গ্রামের পরিবারগুলোর সংকট আরো তীব্র। দেশের মোট পরিবারের ৪৭.৪২ শতাংশই গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ঋণ করতে বাধ্য হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এ উঠে এসেছে এমন চিত্র। জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল জরিপটি পরিচালনা করে।

গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রামীণ, শহরাঞ্চল ও সিটি করপোরেশন এলাকার তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

জরিপ অনুযায়ী, গত এক বছরে গ্রামের ৫১.৯১ শতাংশ পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ঋণ করেছে। শহরাঞ্চলে এই হার ৪০.১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩২.১১ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামের পরিবারগুলো বেশি আর্থিক চাপে রয়েছে।

জরিপের তথ্য বলছে, জাতীয় পর্যায়ে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। বিপরীতে গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড় আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি থাকছে এক হাজার ৭৯৮ টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে অনেক পরিবারকে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে কিংবা ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

অঞ্চলভেদে ব্যয়ের চিত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবারপ্রতি গড় মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। শহরাঞ্চলে তা ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা। জাতীয় পর্যায়ে মাসিক ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক খাদ্য ও অর্ধেক খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়। তবে গ্রামে খাদ্য ব্যয়ের চাপ বেশি। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ব্যয়ের ৫৬.৭ শতাংশ যায় খাদ্যবহির্ভূত খাতে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মহামারির পর থেকে দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রবৃদ্ধি কমছে, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং কর্মসংস্থান স্থবির রয়েছে। কমছে মানুষের প্রকৃত মজুরি। ফলে আয় কমলেও ব্যয় বাড়ায় অনেক পরিবার ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। জীবনযাত্রার মান উন্নত নয়, বরং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিই বাড়তি ব্যয়ের কারণ। গ্রামে আয়ের সুযোগ কম থাকায় ঋণের চাপ বেশি। প্রবাস আয়ের সুফলও সীমিতসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে।

এদিকে মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার বেশি থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৮.০৫ শতাংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল।

বিশ্বব্যাংকের গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটেও অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমের চাহিদায় ঘাটতি ও দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে দেশে দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে আনুমানিক ২২.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ঝুঁকিপূর্ণ ৮০ রিসোর্ট, ২০টি সংকটাপন্ন এলাকায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজার শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকা। সড়ক ঘেঁষে বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘সি ফুড ক্যাফে অ্যান্ড রিসোর্ট’। এক মাস আগে দোতলা ক্যাফের নির্মাণ শেষ হয়। এখন রিসোর্ট তৈরির কাজ চলছে।

সি ফুড ক্যাফের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বিচ আনাইয়া ফুড জাংশন অ্যান্ড রিসোর্ট’। এ রিসোর্টের কাঠামোর কিছু অংশে ইটের দেয়াল। বাকি পুরো অংশ বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি।

গতকাল রোববার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে সি ফুড ক্যাফে ও বিচ আনাইয়ার মতো ৮০টি রিসোর্ট চোখে পড়েছে।

গত শনিবার ইনানীর পাটুয়ারটেকের টুপটুপ নামে এমনই এক রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। অনুমতি না থাকায় এই রিসোর্টকে পরিবেশ অধিদপ্তর গত ১৩ মে জরিমানা করেছিল। তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পুলিশ জানায়, পুরো কক্সবাজার জেলার ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, কটেজ, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ আছে। এর মধ্যে ১২০টির মতো সব ধরনের নিয়ম মেনে চলছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সব সংস্থার ছাড়পত্র নেই।

স্থানীভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেরিন ড্রাইভের ৮০ রিসোর্টের বেশির ভাগই গড়ে উঠেছে ১ থেকে তিন বছরের মধ্যে। এখনও কোনো কোনোটির নির্মাণকাজ চলছে। এসব রিসোর্টের বেশির ভাগেরই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নেই। এগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম চোখে পড়েনি। এ ছাড়া অন্তত ২০টি রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ)।

হিমছড়ির সি ফুড ক্যাফের বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, কোনো রকম সরকারি অনুমতি ছাড়াই বাবুল নামে এক ব্যক্তি রিসোর্টটি নির্মাণ করছেন। যোগাযোগ করলে বাবুল বলেন, ‘শিগগিরই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমতির জন্য আবেদন করব।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেরিন ড্রাইভে প্রশাসনের নাকের ডগায় একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রিসোর্ট করেছে। কেউ টাকা লেনদেন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে হাত করে এসব স্থাপনা গড়েছে।

৩৬ রিসোর্টকে নোটিশ, ২২টিকে জরিমানা

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিচ আনাইয়াসহ কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ৩৬ রিসোর্টকে গত ৯ মাসে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২২ রিসোর্টের প্রতিটিকে বিভিন্ন সময়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। পেভেল স্টোন সি রিসোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো–সি সল্ট ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সানসেট বিচ ক্যাফে, টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাফে, সি স্টোন ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সি ফিশ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, কোরাল স্টেশন ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, বিচ আনাইয়া ফুড জংশন অ্যান্ড রিসোর্ট, রিয়ান ফুড রেস্তোরাঁ, সাওয়ারূ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, ক্যাপ্টেন কক্স বিচ ক্যাফে, বিচ সালসা রেস্টুরেন্ট, সাম্পান বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, নিসর্গ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, জাহাজপুরা ক্যাসেল, বিচ ভিউ রেস্টুরেন্ট, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, জিডি সমুদ্র বিলাস, মায়াবী বিচ রিসোর্ট, টাইটান হোটেল, হোটেল জানা ডাডা, হোটেল সুইট সাদাফ।

নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বে হিল গোল্ড স্যান্ডস গ্রুপ, বে ফ্রুট রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সাম্পান রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে, আরনিক রিসোর্ট, ছুটি রিসোর্ট, হোটেল ইনানী লং বে, ওশান পাল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এবং ফিরোজ আহমদ, মোজাম্মেল হক, কাশেম আলী ও শহীদুল হকের মালিকানাধীন নামবিহীন চারটি নির্মাণাধীন ভবন।

ইত্তেফাক

‘ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট বাতিলে চরম, বিপাকে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলার জেরে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট একের পর এক বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। ছুটিতে দেশে আসা কর্মীরা কাজে ফিরতে পারছেন না। যাত্রা পিছিয়ে যাওয়ায় তাদের ভিসার মেয়াদ ও চাকরি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

গতকাল রবিবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০ জনেরও বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। সরেজমিনে বিমানবন্দরে দেখা যায়, রিয়াদগামী যাত্রীরা হাতে টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। কেউ ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন, কেউ ট্রলির ওপর মালাপত্র নিয়ে অসহায় বসে আছেন, কেউ-বা আবার বিকল্প ফ্লাইটের সন্ধান করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা অন্য পরিবহনে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় আসার পর ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

তাদেরই একজন টাঙ্গাইলের মীর্জাপুরের মালেক। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২ নম্বর টার্মিনালে ট্রলি নিয়ে বিরস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন। চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার মেঘ। জানতে চাইলে ইত্তেফাককে তিনি বললেন, ‘এক মাসের ছুটিতে এসেছিলাম। ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে প্রথম টিকিট ক্যান্সেল

য়েছে। এখন দুবাই হয়ে মদিনায় যাচ্ছি। এতে ৮০ হাজার টাকা বাড়তি দিয়ে যেতে হচ্ছে। কারণ যদি যেতে না পারি মরণ ছাড়া গতি নেই।’

কুমিল্লার চান্দিনার মো. শরীফ সরকার বলেন, ‘তিন মাসের ছুটিতে বাড়ি এসেছি। আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আর যেতে পারব না। চাকরি হারানোর ভয়ে এজন্য তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছি। কিন্তু (রবিবার) এয়ারপোর্টে এসে শুনি সকাল ১১টায় রিয়াদ-দাম্মাম ফ্লাইটটি ক্যান্সেল হয়ে গেছে। আবার জানানো হলো রাত সাড়ে ৮টার ফ্লাইটে মদিনা হয়ে দাম্মাম নেয়া হবে।’ হতাশ কণ্ঠে মো. শরীফ সরকার বলেন, ‘যাইতে পারি কি না আল্লাহ জানেন।’

নাটোরের বড়াই গ্রামের আতিকুল ইসলাম চাকরি নিয়ে প্রথম বারের মতো সৌদী আরব যাচ্ছেন। গত ১২ অক্টোবর বিমানবন্দরে এসেই জানতে পারেন তার ফ্লাইট ক্যান্সেল হয়ে গেছে। গতকাল রবিবার দ্বিতীয় দফায় এসেও জানতে পারেন ফ্লাইট কখন কটায় ছাড়া হবে তা অনিশ্চিত। অগত্যা বাবা আদম আলীকে ব্যাগ অ্যান্ড ব্যাগেজসহ ট্রলির ওপর বসিয়ে রেখে ছুটলেন গুলশান-২ এ গাল্ফ এয়ারের অফিসে। আদম আলী জানান, ‘আমি কৃষক মানুষ অনেক আশা নিয়ে আমার সর্বস্ব দিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠাচ্ছি। যদি যেতে না পারে আমার ছেলের আকামা থাকবে না। আমার মুখের ভাষা বন্ধ হয়ে যাবে।’ প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফিরে এসে আতিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, রাত ৮টায় তার ফ্লাইট এবং অন্য রুট হয়ে যাওয়া হবে।

কুমিল্লার বামন পাড়ার মো আসাদ বলেন, ‘সৌদী এয়ার লাইন্সে রাত ১১টায় আমার ফ্লাইট ছিল। কিন্তু আমি জানিই না আমার ফ্লাইট ক্যান্সেল হয়েছে। যদি যাইতে না পারি তাহলে আমার সব ছারখার হয়ে যাবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মো. মাইনুদ্দীন বলেন, ‘রাত ১টা ৪০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সে সরাসরি ফ্লাইট ছিল। কিন্তু তারা জানিয়েছে, দুবাই হয়ে মদিনা যেতে হবে। এতে করে বাড়তি ভাড়া গুনতে না হলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

নোয়াখালী থেকে এসেছেন সৌদি আরবের রিয়াদ প্রবাসী আব্দুল মান্নান। দেশে ছুটি কাটিয়ে রবিবার দুপুরে তার ফেরার কথা ছিল। আগেই বিমানের টিকিট কেটে যাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন, তার ফ্লাইট বাতিল। এখন কবে কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন, তা তিনি জানেন না। ঠিক সময়ে কাজে যোগ দিতে না পারলে চাকরি নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে তার। আব্দুল মান্নান বলেন, ‘চার মাস আগে দেশে এসেছিলাম। নোয়াখালী থেকে ঢাকায় এসে ফ্লাইট ধরার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এখন হঠাত্ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। কবে যেতে পারব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। সৌদি আরবে আমার জরুরি কাজ আছে। তারিখমতো ফিরতে না পারলে ভয়াবহ সমস্যায় পড়তে হবে। ফ্লাইটের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হলে আমাদের ভোগান্তি কিছুটা কমত।’

শরীফ সরকার, মালেক, আসাদ কিংবা আব্দুল মান্নানের মতো হাজার হাজার প্রবাসীর যাত্রা আটকে গেছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘আগুন আতঙ্কে বাড়ছে উদ্বেগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের কোথাও না কোথাও প্রতিদিনই জ্বলছে আগুন। কখনো কারখানায়, কখনো বস্তিতে, কখনো বাণিজ্যিক ভবন কিংবা রাসায়নিকের গুদামে। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি, কোটি কোটি টাকার সম্পদহানি এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা- সব মিলিয়ে সারা দেশে সৃষ্টি হয়েছে আগুনের আতঙ্ক। অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নানা উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, দাহ্য পদার্থের অনিরাপদ মজুদ এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলছে।

ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, ২০২৫ সালে সারা দেশে গড়ে প্রতিদিন ৭৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৮৫ জন, আহত ২৬৭ জন। এর আগের বছর, ২০২৪ সালে, মোট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছিল ২৬ হাজার ৬৫৯টি। এসব ঘটনায় প্রাণ হারান ১৪০ জন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৪৬ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২৭ হাজার ৬২৪টি, নিহত হন ১০২ জন।

অর্থাৎ, অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে না। প্রাণহানি ও সম্পদহানির পাশাপাশি এসব ঘটনা শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জননিরাপত্তার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ১৯ হাজার ৮৪৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪৫৩ কোটি ৫ লাখ টাকার বেশি।

অধিদফতরের তথ্য বলছে, অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়ে। এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকে। তীব্র গরমে সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেও আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। শীতকালে হিটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবু নাইম মো: শহিদউল্লাহ বলেন, দেশের উন্নয়নের সাথে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতি বছর বিদ্যুৎ ও রাসায়নিকের ব্যবহার বাড়ছে। এর সাথে দাহ্য পদার্থের মজুদ ও ব্যবহারও বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ভবনগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা পর্যাপ্তভাবে বাড়ানো হয়নি।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হলে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এর একটি দিক হলো ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা, অন্যটি হলো ফার্স্ট রেসপন্ডার বা প্রাথমিকভাবে সাড়া দেয়ার সক্ষমতা। একই সাথে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও শক্তিশালী করতে হবে।

তার ভাষায়, কোথাও আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগতে পারে। এই সময়টুকুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেড়ে যায়। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও ভবন ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুনের প্রাথমিক পর্যায়েই তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে পারেন।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মাহমুদুল হাসান বলেন, আইন ও বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবনে যেসব অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা উচিত, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো নিশ্চিত করা হয় না। কাগজে-কলমে অনেক ব্যবস্থা দেখানো হলেও বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি থেকে যায়।

আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়- এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আগুনের খবর পাওয়ার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে স্টেশন থেকে বের হওয়া তাদের স্বাভাবিক কার্যপদ্ধতি। এ নিয়ম যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করা হয় এবং স্টেশনেও এর রেকর্ড থাকে।

ধ্বংস হচ্ছে ওষুধ ও গার্মেন্টশিল্প দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরী পোশাকশিল্প এবং দ্রুত বিকাশমান ওষুধশিল্প এখন অগ্নিঝুঁকির বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। দাহ্য সুতা, কাপড়, প্যাকেজিংসামগ্রী, রাসায়নিক ও সলভেন্টের উপস্থিতি এসব কারখানায় সামান্য আগুনকেও ভয়াবহ বিপর্যয়ে রূপ দিতে পারে।

আজকের পত্রিকা

‘দেশে বাড়ছে উচ্চশিক্ষিত বেকার’—এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মেজবাহ আহমেদ। ২০২৪ সালে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু চাকরি হচ্ছে না। হতাশ কণ্ঠে বললেন, ‘এখনো চাকরি না হওয়ায় পরিবার ও আশপাশের লোকজন বাঁকা চোখে দেখা শুরু করেছে।’

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর সিঁথি সাহা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না। তিনি বললেন, যেসব চাকরির প্রস্তাব পাচ্ছেন, সেগুলোর বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তাঁর প্রত্যাশার সঙ্গে মিলছে না।

মেজবাহ ও সিঁথির মতো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর ডিগ্রি নিয়ে বের হওয়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অনেকে এখন বেকারত্বে ধুঁকছেন। আর যাঁরা চাকরি পাচ্ছেন, তাঁদেরও অনেকে যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী পাচ্ছেন না। দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের উচ্চহারের চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিবেদনেও। প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, ওই বছর দেশে প্রায় ২৬ লাখ ২৪ হাজার বেকারের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে না তোলায় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। ব্যবহারিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতার ঘাটতিও এ সংকটের অন্যতম কারণ।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকির দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন গত শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ভাষা ও কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

‘গ্র্যাজুয়েটিং ইন টু আনসার্টেনটি’ শীর্ষক আইএমএফের গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের উচ্চহার উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী শ্রমশক্তির উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গত সেপ্টেম্বরে।

তবে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আইএমএফের ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক: এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে শুধু চাকরি না পাওয়াই সমস্যা নয়। চাকরি পেলেও অনেকের কাজ তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে মিলছে না। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশ এমন চাকরিতে আছেন, যে কাজের জন্য তাঁদের পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ তাঁরা নিজেদের যোগ্যতার তুলনায় কম দক্ষতার কাজে যুক্ত।

বিবিএসের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে মোট বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ লাখ ২৪ হাজার। তাঁদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার। শ্রমশক্তি জরিপ-২০২২ অনুসারে, তখন দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ৮২ হাজার। তাঁদের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ছিলেন ৭ লাখ ৯৯ হাজার।

পেশাবিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়োগদাতারা এখন তথ্যপ্রযুক্তি, ইংরেজি ভাষা, যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান ও দলগত কাজের দক্ষতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এসব দক্ষতার ঘাটতি থাকলে উচ্চতর ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও চাকরির বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষিত বেকার বাড়ছে।

জানতে চাইলে চাকরি খোঁজার অন্যতম অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বিডিজবস ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর বলেন, স্নাতক ডিগ্রিধারী বাড়ছে। কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি, অর্থনৈতিক কাঠামোও পরিবর্তন হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। তিনি বলেন, শুধু সনদ অর্জন নয়, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের গ্র্যাজুয়েটদের এ বিষয়ে ঘাটতি দেখা যায়।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি থেকে খালাসে যত জটিলতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্য আমদানির আইনি ঘোষণা দিতেই সময় লাগছে সাত দিনের বেশি। বিক্রেতার পণ্যের ডকুমেন্ট আমদানিকারকের হাত হয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাছে আসতে ছয় হাত ঘুরেই এই সময় লাগছে। আর এতেই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্য খালাসে কার্গো (পণ্য) ঘোষণার পর ১৩ দিনের বেশি সময় লাগছে।

কেন এই বাড়তি সময় সে বিষয়ে আমদানিকারক, শিপিং এজেন্ট ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পণ্য যে দেশ থেকে বিক্রি হচ্ছে সেই দেশের বিক্রেতা জাহাজীকরণের আগে সেখানকার ব্যাংকে মূল ডকুমেন্ট জমা দেন। সেই ডকুমেন্ট কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আমদানিকারক যে ব্যাংকে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) করেছে সেই ব্যাংকে আসে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আবার এসব ডকুমেন্ট রিচেক করে ফাইনাল করে সার্টিফাইড কপি আমদানিকারকের কাছে দেয়। আমদানিকারক সেই ডকুমেন্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাছে দিলেই পণ্যের বিল অব এন্ট্রি (আইনি ঘোষণা) দাখিল করা হয়। এই প্রক্রিয়াতেই সময় চলে যায় গড়ে ৭ দশমিক ৪ দিন। বিল অব এন্ট্রি দাখিলের পর পণ্য ছাড়করণের জন্য আরও চারটি ধাপ রয়েছে। এসব ধাপের পরই মেলে পণ্য ছাড়করণ। ডকুমেন্ট সংক্রান্ত বিলম্বের কারণে পণ্য এসে বন্দরে পড়ে থাকলেও খালাসে বিলম্ব হয়। এতে পণ্য বন্দরে নামার চার দিনের ফ্রি টাইমের পর থেকেই জরিমানা গুনতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানিকারকরা যাতে কনটেইনারগুলো নিয়ে যান সেজন্য বাড়তি চাপ প্রয়োগ করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায়ই স্টোর রেন্ট (ইয়ার্ডের ভাড়া) চারগুন (ফ্রি টাইমের পর থেকে) করে দিয়ে থাকে। তখন দ্রুত বন্দরের ইয়ার্ড থেকে পণ্য খালাস হয়ে যায়। কিন্তু কাস্টমসের তথ্য দিচ্ছে ভিন্ন উপাত্ত। তাতে দেখা যায়, পদে পদে বিলম্ব করছেন আমদানিকারকরা।

কী আছে কাস্টমসের উপাত্তে?: গত এপ্রিল মাসের ৩ হাজার ১৯১টি বিল অব এন্ট্রির উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস। তাতে দেখা যায়, আইজিএম ঘোষণার পর যেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা সম্ভব সেখানে লাগছে ৭ দিনের বেশি। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে থাকা একটি প্ল্যাটফর্ম অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে পণ্যের আইনি ঘোষণা (আইজিএম) দেওয়া হয়। আর তা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাস্টমস থেকে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যায়। এই রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করতে হয়। বিল অব এন্ট্রি দাখিল করতে ৭ দশমিক ৪ দিন সময় নিচ্ছেন আমদানিকাররা। এরপর পণ্যটির পরীক্ষণ শেষ করতে চট্টগ্রাম কাস্টমসের দুই দিন সময় লাগে। তাদের পরীক্ষণ শেষে ফি চূড়ান্ত হয়ে গেলে তা পরিশোধে আমদানিকারক বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ১ দশমিক ৮ দিন সময় নিচ্ছে। কাস্টমসের পাওনা পরিশোধের পর বন্দরের পাওনা পরিশোধ করে পণ্য বের করার অনুমতি পেতে সময় নিচ্ছে ১ দশমিক ১ দিন। অনুমতি পাওয়ার পর পণ্যটি ইয়ার্ড থেকে বের করতে সময় লাগছে শূন্য দশমিক ৯ দিন। এই ৫টি ধাপে গড়ে মোট সময় লাগছে ১৩ দশমিক ২ দিন।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে অনেক আমদানিকারক বিমানবন্দরের মতো গ্রিন চ্যানেল সুবিধা পেয়ে থাকেন। কাস্টমসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ২০টি কোম্পানি এই গ্রিন চ্যানেল সুবিধা পেয়ে আসছে। তাদের আমদানিকৃত পণ্য কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষা-পরীক্ষণ হয় না। বিল অব এন্ট্রি অনুযায়ী কাস্টমস এসেসমেন্ট করে মূল্য পরিশোধের পর তারা পরবর্তী ধাপগুলো অনুসরণ করবে। কিন্তু সেখানেও কিন্তু বিল অব এন্ট্রিতে ৫ দিন সময় লাগছে। আবার পচনশীল পণ্যে (খাদ্যজাতীয়) সেগুলো আবার তিন দিনে বিল অব এন্ট্রি দাখিল হয়ে যায়।

বিল অব এন্ট্রিতে দেরি হয় কেন?: এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা হয়। তাদের উত্তরে উঠে আসে ব্যাংকিং চ্যানেলে আমদানিকৃত পণ্যের ডকুমেন্ট পেতে দেরি হয়। আর এতে বিল অব এন্ট্রি দাখিলেও বিলম্ব হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধান অনুযায়ী পণ্য সর্বশেষ পোর্ট থেকে ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা আগে আইজিএম সম্পন্ন করতে হবে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে। কিন্তু এই সাবমিশন হয় আসলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ আসার পর। এ বিষয়ে কথা হয় গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাজ করা হালিম ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হালিমের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাহাজ বহির্নোঙরে আসার পর মূলত আইজিএম হয়ে থাকে। আইজিএম সম্পন্ন করে শিপিং এজেন্ট কিংবা ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার। আইজিএম হওয়ার পর আমদানিকারকের কাছ থেকে পণ্যের মূল ডকুমেন্ট পেলে আমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করি।’

তাহলে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করতে ৭ দিনের বেশি সময় লাগছে কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা মূল ডকুমেন্ট যখন পাই তখনই এন্ট্রি করি। এখন আমদানিকারক ব্যাংক থেকে ডকুমেন্ট পেতে দেরি করলে সেটার দায় তো আমাদের না।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘দেশে অবৈধ রিসোর্টের ছড়াছড়ি’—এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ফায়ার লাইসেন্স এবং স্থানীয় প্রশাসনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ রিসোর্ট ও কটেজ। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড় কেটে, বনাঞ্চল উজাড় করে এবং নদী-জলাশয় দখল করে গড়ে ওঠা এসব বাণিজ্যিক স্থাপনা এখন দেশের পর্যটন খাতের জন্য বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় ও জমকালো প্রচারণার আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও পরিবেশ ধ্বংসের এক ভয়ংকর মহোৎসব। কক্সবাজারে অনুমোদনহীন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১০ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি দেশের পর্যটন খাতের অন্ধকার দিকটি উন্মোচন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধিদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সারা দেশের অবৈধ রিসোর্ট বাণিজ্যের ভয়ংকর চিত্র। পর্যটন এলাকার অধিকাংশ রিসোর্টের কোনো ফায়ার লাইসেন্স নেই, নেই জরুরি বহির্গমন পথ বা অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা। কাঠ এবং বাঁশ দিয়ে তৈরি করা এসব নান্দনিক রিসোর্টে যেন মৃত্যুদূতের বাস। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারে অনুমোদন ছাড়াই চলছে সাত শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট। বান্দরবানের পাঁচ শতাধিক রিসোর্টের মধ্যে অনুমোদন রয়েছে মাত্র ৭৯টির। রাঙামাটিতে ১০০টি রিসোর্টের মধ্যে ৭০টি অবৈধ। খাগড়াছড়িতে শতাধিক ইকো রিসোর্টের মধ্যে ফায়ার সার্টিফিকেট রয়েছে মাত্র চারটির। সুন্দরবনের কটেজগুলোর বেশির ভাগই অবৈধ। ইতোমধ্যে ১৮টি কটেজ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গাজীপুরের অধিকাংশ রিসোর্টই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। এই অঞ্চলের শতাধিক রিসোর্ট ঝুঁকিপূর্ণ। সাভারে অর্ধশতাধিক অবৈধ রিসোর্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, নেপাল, থাইল্যান্ড, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ইকো ও কমিউনিটি ট্যুরিজম বেশ জনপ্রিয় ও নিরাপদ বিবেচিত হলেও বাংলাদেশে এমন পর্যটন ধারণা এখনো আস্থা অর্জন করতে পারেনি। এখানে একদিকে যেমন খেয়ালখুশিমতো রিসোর্ট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে এসব রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, পানি সংরক্ষণাগারের অভাব, অনিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগসহ নানা ঘাটতি রয়েছে। আর তদারকি কর্তৃপক্ষ ও উদ্যোক্তাদের উদাসীনতায় তা পর্যটকদের সর্বনাশ ডেকে আনছে।

কক্সবাজার থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার শহর ও কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ৮০ কিলোমিটার এলাকায় সাত শতাধিক হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসন, মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ৫০০-৬০০টি হোটেল-মোটেল-রিসোর্টের তথ্য রয়েছে। কয়েক বছর ধরে মেরিন ড্রাইভকে কেন্দ্র করে ইনানী, হিমছড়ি, পাটুয়ারটেকসহ গোটা মেরিন ড্রাইভে রিসোর্টকেন্দ্রিক ব্যবসা জমজমাট। কিন্তু যাচাইবাছাই করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর বেশির ভাগই এসবের কোনো ধরনের বৈধতা পায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানকে নোটিস প্রদান করে সতর্ক করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এর মধ্যে আলোচিত টুপটুপ রিসোর্টেরও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছিল না। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, কক্সবাজারে ২০১৩ সালের মাস্টারপ্ল্যান সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সম্পন্ন হলে সবকিছু নিয়মে চলে আসবে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, টুপটুপ রিসোর্ট ছাড়াও দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে সতর্ক করে নোটিস দেওয়া হয়েছে আগেই। এসব প্রতিষ্ঠানের ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স নেই।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টসহ আড়াই শ প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, পর্যটনের উর্বর ভূমি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলা। বিশেষ করে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য অবগাহনে ভিড় করেন পর্যটকরা। আর পর্যটকদের আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিতে এখানে অন্তত দেড় হাজার হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, হাউসবোট গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে গত এক দশকে পাহাড়ি এলাকা ও কক্সবাজারে গড়ে উঠেছে সাত শতাধিক ইকো রিসোর্ট। নামমাত্র আবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই খেয়ালখুশিমতো গড়ে তোলা এসব রিসোর্ট এখন পর্যটকদের আতঙ্কের কারণ। বান্দরবান জেলা হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, শুধু বান্দরবানেই পাঁচ শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন আছে মাত্র ৭৯টির, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন আছে ৩২টির, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র আছে ৬০টি হোটেল-রিসোর্টের। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন অথবা ইউনিয়ন পরিষদের কাছে নামমাত্র আবেদন দিয়ে এসব রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর এসব রিসোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। এসব সংস্থার পক্ষ থেকে নোটিসসহ নানাভাবে সতর্ক করলেও রিসোর্টের মালিকরা এর তোয়াক্কা করেন না। আবার আইনগত, আঞ্চলিক ও স্থানীয় নানা সীমাবদ্ধতায় সরাসরি রিসোর্টও বন্ধ করা যায় না।

রাঙামাটি পর্যটনশিল্প সমবায় সমিতির তথ্যমতে, এই জেলায় শহর ও আশপাশে ৬০টি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। ইকো রিসোর্ট আছে ১০টি। এ ছাড়া কাপ্তাই থেকে আসামবস্তি পর্যন্ত লেকের কোলঘেঁষে আরও ১০টি ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া কাপ্তাই লেকে ১৫টির মতো হাউসবোট আছে। এর মধ্যে কেবল ৩০টি সমিতির তালিকাভুক্ত। অনুমোদনহীন কিংবা দালিলিক জটিলতা আছে এমন রিসোর্টগুলো সমিতির তালিকাভুক্ত নয়।

২০১৭ সালের পর থেকে এই পর্যন্ত সেখানে অন্তত পাঁচবার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে অন্তত ৩০টি রিসোর্ট আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে দ্রুত সময়ে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ায় হতাহতের ঘটনা কম হয়।