মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

সচিবালয় যাচ্ছে শেরেবাংলা নগরে

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ সচিবালয় সরিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে (পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠ) নেয়া হবে। বর্তমানে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয়। ২০২৯ সালে নতুন জায়গায় অফিস শুরু হবে। রোববার বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার এ সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। এর আগে সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সচিবালয়ের বর্তমান অবস্থানে ১৭.৫৭ একর জায়গায় মোট ১৩টি ভবন আছে, তন্মধ্যে ৮টি ভবন স্বাধীনতা-পূর্বকালে নির্মিত। সচিবালয়ের পুরনো ১ ও ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবনসমূহ ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালে, ৫ নম্বর ভবনটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত হওয়ায় ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে নির্মিত হয়নি। ঢাকা শহর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় উক্ত স্থাপনাসমূহে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়/বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ভবনসমূহে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারযোগ্য পর্যাপ্ত স্পেস না থাকায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ভবনসমূহে পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াশ-ব্লক নেই, ধারণক্ষমতার অধিকসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক ব্যবহৃত হওয়ায় স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

এতে আরও বলা হয়, বিদ্যমান বাংলাদেশ সচিবালয়ে মোট অফিস স্পেস প্রায় ১৮.৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত অফিস স্পেসের চাহিদা এবং সচিবালয়ের কম্পাউন্ডের বাইরে অবস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের স্থান সংকুলানের জন্য আরও প্রায় ১০.০০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন। এ বিষয়ে একনেক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, লুই আই কান-এর মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপনের লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রণীত নকশা অনুযায়ী শেরেবাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠের প্রায় ৩১.৫৮ একর জায়গায় মোট প্রায় ৩৩.১৬ লাখ বর্গফুট স্পেস সংবলিত ৩টি বেজমেন্টসহ (২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিংসহ ৩,৮০০টি গাড়ি পার্কিং) ১৪টি ১২ তলা ভবন [মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন, ২টি মাল্টিপারপাস হল, ১টি ক্যাফেটেরিয়া, ১টি ডাকঘর ইত্যাদি] নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৩০% জায়গায় সবুজায়ন ও জলাধারের সংস্থান রাখা হয়েছে। ঢাকার শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ নামকরণের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়েছে। এ ছাড়া আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসসহ বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমানো, অধিকতর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের পূর্বে ৩,০০০-৪,০০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার ইতিমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।

এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ইতিমধ্যে সকল সরকারি/আধাসরকারি/ স্বায়ত্তশাসিত/স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান/সরকারি কোম্পানির স্থাপনার ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে  Operational Expenditure (OPEX) Model-এ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সেই সঙ্গে, যে সকল প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় আছে, তাদের ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় Capital Expenditure (CAPEX) Model-এ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে ঙচঊঢ গড়ফবষ-এ স্থাপনের ক্ষেত্রে গ্রাহক কর্তৃক দীর্ঘ (পনের বৎসর) মেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া হিসেবে বিদ্যুতের শেয়ার এবং রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিবিধান নেই। সেইসঙ্গে, CAPEX Model-এ সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬; ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-তে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি-বিধান না থাকায় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভায় খসড়া অধ্যাদেশটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।