ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাকি পার্লামেন্টে পেলেন নিরঙ্কুশ সমর্থন

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাকি পার্লামেন্টে পেলেন নিরঙ্কুশ সমর্থন

ফন্ট সাইজ:

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহরদাদ আখলাকি কেতাবচিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। রোববার পার্লামেন্টের অধিবেশনে ভোটাভুটির পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে জানা গেছে, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত ওই অধিবেশনে মোট ২৭৭ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে ২৩৭ জন আখলাকির পক্ষে ভোট দেন। এতে নিরঙ্কুশ সমর্থন পেয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন তিনি। আখলাকির পক্ষে-বিপক্ষের বক্তব্য শোনা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ে তার পরিকল্পনা পর্যালোচনার পর এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। তিনি সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহের স্থলাভিষিক্ত হলেন। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রাথমিক যৌথ হামলায় নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছিলেন।

তার মৃত্যুর পর থেকে মাজিদ ইবন আল-রেজা ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভোটাভুটির আগে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে আখলাকি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তবে তেহরান এক ‘বিস্ময়কর ও সর্বাত্মক’ জবাব দেবে। তিনি আরো বলেন, আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রু যদি আবারও কোনো ভুল হিসাব করে, তবে ইরানি জাতি এবং ইসলামের যোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত বিস্ময়কর ও ব্যাপক। যেকোনো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিণতির জন্য ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদেরই সম্পূর্ণ দায়ভার নিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

আখলাকি উল্লেখ করেন, তিনি গত ৩৫ বছর ধরে শত্রুদের ‘হত্যাতালিকায়’ রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ইরানের ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’কে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন। তার মূল অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে থাকবে ইরানের শিল্প নেটওয়ার্কজুড়ে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানো, গবেষণা বৃদ্ধি এবং বর্তমান নিরাপত্তা হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাঠামোগত সংস্কার করা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আখলাকি এর আগে দেশটির অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান ছিলেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিপূর্বে তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।