জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় আদায়ে অটল থাকার ঘোষণা জামায়াত আমীরের

জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় আদায়ে অটল থাকার ঘোষণা জামায়াত আমীরের

ফন্ট সাইজ:

জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি বদলে গেলেও তারা নিজেদের কথা বদলাবেন না। বিরোধীদল হিমালয় পর্বতের মতো অটল থেকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবি পার্টি এই আয়োজন করে।

সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, বৈষম্য সৃষ্টি এবং বিরোধীদলের প্রস্তাব গ্রহণ না করার অভিযোগ তুলে জামায়াত আমীর বলেন, গত সাত মাসে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হচ্ছে। আগের স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছিল, বর্তমান সরকারও হুবহু সেই পথে হাঁটছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকেও জানানো হয়েছিল, একই দিনে শপথ অনুষ্ঠিত হবে। একদিকে বিরোধীদল, অন্যদিকে সরকারি দল শপথ নেবে। কিন্তু পরে সরকার বলেছে, তারা আলাদাভাবে শপথ নেবে। এর মধ্য দিয়ে মূল থেকেই জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ওয়াদা ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। একজন মন্ত্রী সংসদে বলেছেন, গণভোটের চারটি বিষয়ের মধ্যে ৪১টি তিনি নিজেই বোঝেন না। আমরা জানতে চেয়েছিলাম, এখানে তো চারটি দফা ছিল, আর সেখানে ছিল ৩১টি দফা। জনগণ যদি চারটি দফা না বোঝে, তাহলে ৩১টি দফা বুঝল কীভাবে? জনগণকে কি তারা মূর্খ মনে করেন? তারা কি জনগণকে অবমূল্যায়ন করে নিজেদেরই শুধু জ্ঞানী মনে করেন?

সরকারের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রথমে রাস্তায় নেমেছিলেন মেধার ভিত্তিতে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য। তারা চেয়েছিলেন, যোগ্যতা অনুযায়ী রাষ্ট্রে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করতে এবং রাষ্ট্রের সেবা করতে। আর এই কাজটি হয় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে। একের পর এক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার পর এখন পিএসসির ওপরও হাত পড়েছে।

সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন নিয়ে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমীর বলেন, মাঝে মাঝে এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যেন নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনকে ভোট না দিলে সেখানে কোনো বরাদ্দ যাবে না। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এর আগে বর্তমানে যিনি প্রেসিডেন্ট, তিনিও রংপুরে গিয়ে একই ধরনের কথা বলেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে বলা হয়েছে, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে ভোট দেবেন, আর উন্নয়ন চাইবেন বিএনপির কাছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এটা কি বিএনপির বাবার তহবিল থেকে উন্নয়ন হবে?’

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তহবিলে আজ জন্ম নেওয়া শিশু থেকে শুরু করে সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রয়েছে। এটি একটি সামষ্টিক তহবিল। গরিবের টাকা আলাদা করে রাখা হয় না। সব অর্থ এক জায়গায় জমা হয়। তাই এ ধরনের বক্তব্য শুধু অশালীনতা নয়, রাষ্ট্রের প্রতি অপরাধের শামিল।

সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের ২০৮টি আসনে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যকেও দেওয়া হয়নি বলে তারা দেখেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, এই বৈষম্যের জন্যই কি এতগুলো জীবন গেল? ২০২৪ সালের আন্দোলন কি এমন পরিবর্তনের জন্য হয়েছিল?

তিনি বলেন, জনগণ আশা করেছিল, পুরোনো রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন রাজনীতির জন্ম হবে। কিন্তু দেশকে আবারও আগের পথে টেনে নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা ঘটনা ঘটছে, এমনকি শেষ পর্যন্ত মহিষের ওপরও কর আরোপ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মহিষকে ঘাস খাওয়াতে হলেও টাকা দিতে হবে, না হলে বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলা হবে—এমন পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?
ফ্যাসিবাদের পতন কবে হবে, তা আসমানি ফয়সালার বিষয় উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, তারা ঘরে বসে থাকলে তা হবে না। তারা সরকারের পতন চাননি; বরং সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন। কারণ, সরকারের সফলতা মানেই দেশের সফলতা।