যেভাবে বিএসএফের হাতে আটক হন দুই পুলিশ সদস্য

যেভাবে বিএসএফের হাতে আটক হন দুই পুলিশ সদস্য

ফন্ট সাইজ:

বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা। নিয়মিত টহল অভিযানে বের হন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের একটি টিম। সিএনজিতে করে দুই কনস্টেবল ও একজন এএসআই তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় ঘুরছিলেন। এক সময় তারা বাহ্মণপাড়ার আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় যান। সেখানে একটি চায়ের দোকানে কয়েকজন লোক বসে আছেন দেখে তারা সিএনজি থামান। যারা চায়ের দোকানে বসেছিলেন তারা মূলত দুই দেশের চোরাকারবারি ছিলেন। তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে দৌড় দেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে টহল টিমের কনস্টেবল রহিত দেওয়ান তাদের পিছু পিছু দৌড় দেন। পরে দুই দেশের চোরাকারবারিরা কনস্টেবল রহিত দেওয়ানকে পিটাতে থাকেন। এই খবর আসে টহল টিমের নেতা এএসআই মো. ইমরান হোসেনের কাছে। পরে তিনি কনস্টেবল রহিতকে বাঁচাতে না বুঝেই ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করেন। পরে চোরকারবারিরা তাকেও মারধর করে। একপর্যায়ে দু’জনকেই মারধর করে অনুপ্রবেশের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ’র কাছে তুলে দেয়। পরে বিএসএফ তাদের হেফাজতে নিয়ে রাখে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সহকর্মীরা বিপদে জেনেও সিএনজিতে থাকা আরেক কনস্টেবল সেখান থেকে পালিয়ে যান। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তদের বিষয়টি জানান। পরে বিএসএফ’র কাছে আটক পুলিশ সদস্যদের ছাড়াতে বিজিবি’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর আটক হওয়া পুলিশের দুই সদস্যকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নারায়ণপুর সীমান্তের মেইন পিলার এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তর হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন- ব্রাহ্মণপাড়া থানার কনস্টেবল রহিত দেওয়ান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন।

বিজিবি ও পুলিশের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর ভারতীয় চোরাকারবারিদের হাতে আটক হন ওই দুই পুলিশ সদস্য। পরে তাদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পতাকা বৈঠক শেষে দুই পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার দুপুরে নারায়ণপুর সীমান্তে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০-বিজিবি) শশীদল বিওপি’র কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শরিফুল ইসলাম, দেবিদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাহিন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন এবং শশীদল বিওপি’র কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন।