ময়মনসিংহে পুলিশ পরিদর্শক অবৈধ সম্পদ অর্জন জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা ও তার স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ময়মনসিংহে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। দুদকের এজাহার অনুযায়ী, জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে স্বামীর অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ পরিদর্শক ফখরুদ্দীন ভূঞার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রী’র নামে ওই সম্পদ অর্জনে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফখরুদ্দীন ভূঞা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
তার স্ত্রী বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকার সৌহার্দ্য টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, জাহানারার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৯ই জানুয়ারি সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। ওই বছরের ১৭ই জানুয়ারি তার পক্ষে স্বামী ফখরুদ্দীন সম্পদ বিবরণীর ফরম গ্রহণ করেন। পরে ১০ই মার্চ জাহানারা খানম নিজের নামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা ও আয়ের উৎসের বিবরণী জমা দেন। দুদকের অনুসন্ধানে জাহানারার নামে ৯৮ লাখ ৯২ হাজার ৭৭৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শিত ঋণের পরিমাণ বাদ দিয়ে তার নিট সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪২ টাকা। এজাহারে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানে পাওয়া সম্পদের সঙ্গে তার ঘোষিত সম্পদের পরিমাণের কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। তবে তার আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৪ টাকা। একই সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ১৮ লাখ ৬০ হাজার ২৬৩ টাকা।
সম্পদ ও ব্যয়ের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের দায়ের করা এজাহারে জাহানারার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় এবং ফখরুদ্দীনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তদন্তকালে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল বলেন, গত বুধবার ফখরুদ্দীন ও তার স্ত্রী’র নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
