লালনের সুরে মুখর ছেঁউড়িয়া, বসছে সাধুরহাট

লালনের সুরে মুখর ছেঁউড়িয়া, বসছে সাধুরহাট

ফন্ট সাইজ:

খাঁচার ভেতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়, জাত গেল জাত গেল বলে কিংবা মিলন হবে কতো দিনে, মরমি সাধক ফকির লালন শাহের এমন কালজয়ী গানের সুরে আবারও মুখর হতে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়া। সাধু-বাউলদের কণ্ঠে ধ্বনিত হবে আত্মজিজ্ঞাসা, মানবপ্রেম আর জাত-ধর্মের বিভেদ ভুলে মানুষকে চেনার আহ্বান। বসবে সাধুসঙ্গের ঐতিহ্যবাহী আসর, জমবে গ্রামীণ মেলা। শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব। চলবে আগামী ১৯শে অক্টোবর পর্যন্ত।

স্মরণোৎসব ঘিরে এরই মধ্যে নতুন সাজে সেজেছে ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ী। প্রস্তুত করা হয়েছে মঞ্চ, সাজানো হয়েছে উৎসবের মাঠ। আখড়াবাড়ীর আশপাশে বসেছে নানা পণ্যের দোকান। কোথাও আসবাবপত্র, কোথাও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, আবার কোথাও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপকরণ নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন সাধু, বাউল ও লালনভক্তরা। তাদের পদচারণায় ধীরে ধীরে জমে উঠছে উৎসবের আমেজ। ইতিমধ্যে আখড়াবাড়ীতে সাধুভক্তরা খণ্ড খণ্ড ভাগে বিভক্ত হয়ে লালনের সেই আধ্যাত্মিক গানের সুর একতারা ও তবলার তালে তালে গাইতে শুরু করেছেন।

তবে ছেঁউড়িয়ার এই আয়োজন কেবল স্মরণোৎসব কিংবা গ্রামীণ মেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শত বছরের সাধুসঙ্গের ঐতিহ্য, গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক, আত্মসাধনা এবং ধর্ম-বর্ণের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষকে জানার দর্শনই এই আয়োজনের প্রাণ। লালনের গানে গানে তাই এখানে মিলেমিশে একাকার হন নানা শ্রেণি-পেশা ও বিশ্বাসের মানুষ। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় কালীগঙ্গা নদীর তীরঘেঁষা লালন আখড়াবাড়ীতে গতকাল গিয়ে দেখা যায়, স্মরণোৎসব উপলক্ষে সাজসজ্জা, মঞ্চ নির্মাণ, মাঠ প্রস্তুত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। আখড়াবাড়ীর পাশের মাঠে বসেছে মেলার দোকান। ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত তাদের পসরা সাজাতে। অন্যদিকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধু-বাউল ও ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য আলমাস হোসেন বলেন, এবারই প্রথম মেলার জন্য আলাদা রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দর্শনার্থীদের জন্য সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীরা লালন আখড়াবাড়ীতে ভিড় জমিয়েছেন। ঝিনাইদহ থেকে আশা ফরিদ আহমেদ বলেন, লালন অনুষ্ঠানের তিনদিনে মানুষের পদচারণায় আসা সম্ভব হয় না। তাই আগের দিন পরিবার নিয়ে মেলার প্রস্তুতি দেখতে এসেছি। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, মেলার নিরাপত্তায় জেলা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। লালন শাহের মাজারের প্রধান খাদেম মোহাম্মদ আলী শাহ এ সাধকের জীবন ও স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, লালনের জীবন নিয়ে প্রচলিত নানা কাহিনি ও স্মৃতির সঙ্গে আখড়াবাড়ীর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।