শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হলো বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও এমপিওভুক্ত কিংবা সরকারিকরণ হয়নি লামা সদর ইউনিয়নের মিরিঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অবহেলার শিকার হয়ে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ধুঁকছে প্রতিষ্ঠানটি। স্কুলটির ৮জন শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘ সাত বছর ধরে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। নানা জটিলতা, স্কুল পরিচালনা কমিটির অবহেলা ও আর্থিক সংকটের কারণে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। যার কারণে স্কুলে পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে মিরিঞ্জা এলাকার পাঁচটি গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পাহাড়ি-বাঙালি পরিবারের শিশু-কিশোর। সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছর ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষক সংকট, বেতন-ভাতা পরিশোধে আর্থিক অসচ্ছলতা ও নানা ব্যবস্থাপনা সংকটে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ২০২৪ সালে স্কুলটির পাঠদান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ২০০২ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি এক সময় এলাকার পাহাড়ি-বাঙালি শিশু-কিশোরদের শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে এটি পরিণত হয়েছে অবহেলিত এক শিক্ষাকেন্দ্রে। ঝরে পড়া এই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই দেশের পিছিয়ে পড়া আদিবাসী গোষ্ঠীর। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি চাকনাই ম্রো বলেন, বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার জন্য তারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেছেন। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে এমপিওভুক্তকরণ জরুরি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, বিদ্যালয়টি পরিচালনার জন্য কার্যকর ও দায়িত্বশীল উদ্যোক্তার অভাব, বন্ধ হয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
