বকেয়া বেতন পরিশোধ, মজুরি বৃদ্ধি ও সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর উত্তরা আজমপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর সড়কের দু’পাশে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন তারা। অবরোধের পৌনে ৪ ঘণ্টা পর সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ও ধাওয়া দিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
পোশাক শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেয়ায় ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী সংলগ্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে অবরোধকারীরা সড়ক থেকে সরে যাওয়ার পর পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।
শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে বর্তমান বেতনে জীবনযাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং নির্দিষ্ট দাবিগুলো পূরণের জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা রাজপথে নেমেছেন। শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বকেয়া বেতন পরিশোধ, মজুরি বৃদ্ধি এবং সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, পোশাক শ্রমিকেরা দীর্ঘ সময় সড়কে অবস্থান নেয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনুরোধের পরও তারা রাস্তা থেকে সরে না যাওয়ায় ধাওয়া দিয়ে ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাস্তায় যান চলাচল শুরু হয়।
এর আগে একই দাবিতে গত মঙ্গল ও বুধবারও তারা বিক্ষোভ করেন। টানা তিনদিন ধরে চলা পোশাক শ্রমিকদের সড়কে বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
