সচিবালয় স্থানান্তর পরিকল্পনার প্রতিবাদ, মাঠ ফেরত চান শেকৃবি’র শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতামত ও জনমত উপেক্ষা করে সেখানে সচিবালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলে তা শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। গতকাল সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মাবনবন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

‘বাণিজ্যমেলার মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৃষি গবেষণার জন্য ব্যবহৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে আগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হতো। পরে মেলাটি পূর্বাচলে স্থানান্তরিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাঠটি ফেরত পেতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, ঢাকা জেলা প্রশাসন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানায়। কিন্তু সম্প্রতি ওই মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা সামনে আসায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল মাঠটি পুনরুদ্ধারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন।

প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবেশবাদীসহ ঢাকা শহরের সকল বাসিন্দা জনবান্ধব একটি পরিবেশ ধ্বংস করে সেখানে সচিবালয় স্থাপনের পক্ষে নন। আমরা সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, জনমত ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতামত উপেক্ষা করে সরকার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিলে তা জনগণ, ঢাকাবাসী ও ছাত্র-জনতা মেনে নেবেন না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সেটি করতে হয়, ছাত্রদের রক্তের ওপর দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা অবশ্যই জানি, সরকার এ রকম একটি বিষয়ে অবিবেচক সিদ্ধান্ত নেবে না। মাঠটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, গবেষণা প্লট ও ফার্ম ছিল। সেসব সরিয়ে বাণিজ্য মেলার কার্যক্রম শুরু করা হয়। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় তখন বিষয়টি সমর্থন করেছিল।

অধ্যাপক রফিকুল বলেন, সরকার বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে স্থানান্তর করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাঠটি ফিরে পেতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা, ঢাকা জেলা প্রশাসক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ওই মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনার কথা জানা যাচ্ছে। সেখানে সচিবালয় স্থাপন করা হলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ বিপর্যস্ত হবে। একইসঙ্গে ঢাকা শহরের পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়বে।

তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘বাণিজ্য মেলার মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন এম চৌধুরী বলেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শহরের মধ্যে একটি সবুজ গ্রামের মতো। এর পাশেই ঐতিহাসিক জিয়া উদ্যান, যেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল রয়েছে। এই দুই নান্দনিক স্থাপনার মাঝখানে বিশাল ইট-পাথরের ভবন নির্মাণ করা হলে শেরেবাংলা নগরের ছায়াঘেরা পরিবেশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতামত উপেক্ষা করে সেখানে কংক্রিটের স্থাপনা বাড়ানো হলে শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা ব্যাহত হবে। তিনি বলেন, এতে শিশু, প্রবীণ ও সাধারণ নাগরিকদের হাঁটাচলা ও মুক্তভাবে শ্বাস নেয়ার জায়গা কমে আসবে। পাশাপাশি মাঠটি না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি গবেষণার পরিকল্পনাও মুখ থুবড়ে পড়বে।