পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজার সংখ্যা বেড়েছে ১২ হাজার

উৎসবে ৩০০০ ঢাক ও ৬০০০ লোকনৃত্য শিল্পী

পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজার সংখ্যা বেড়েছে ১২ হাজার

ফন্ট সাইজ:

৪৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, শিল্পীদের নাচ-গান, ড্রোন শো ও আতশবাজির ঝলকানিতে মহালয়ার দিন উমা আগমনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে দেবী আরাধনার সূচনা হয়েছে। অনুষ্ঠানে তিন হাজার ঢাকিসহ ছয় হাজার লোকশিল্পী অংশ নিয়েছিলেন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবছর গোটা রাজ্যে অনুমোদিত পূজার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার। এ বছর নতুন ১২৪০০ নতুন পূজাকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সনাতনী পরম্পরাকে সম্মান জানিয়েই নতুন পূজাকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, পুজোর আয়োজক সংস্থাগুলোকে সরকার এক লাখ রুপি অনুদানও দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘বিগত দিনে দুর্গাপূজা করার জন্য হাইকোর্টে যেতে হতো। এটা আমাদের কাছে দুঃখের ছিল, বেদনার ছিল। এবার আর উদ্যোক্তাদের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।” তার দাবি, পূজা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে সহজ করাই ছিল নতুন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বারোয়ারি দুর্গাপূজার সংখ্যা ২৯৮১টি বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি রয়েছে বড় বাজেটের পূজা। এইসব পূজায় থিমের রমরমা। নানা বিষয়ের উপস্থাপনায় সাজছে এই সব পুজামণ্ডপ। এ ছাড়া রয়েছে বনেদি বাড়ির সাবেকি ঐতিহ্যের কয়েকশ’ পূজা।
দুর্গাপূজা চলাকালীন শহর কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আঁটোসাঁটো করতে ৩২ হাজার বাহিনী মোতায়েন করছে কলকাতা পুলিশ। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, অশান্তি বা কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রায় ৩২ হাজার বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৬০০০ থাকবেন পুলিশের কর্তাব্যক্তি। এ ছাড়াও, রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে পুলিশের তরফে। তৃতীয়া থেকেই পথে নেমে পড়েছে এই বিশাল পুলিশ বাহিনী। পূজার দিনগুলোতে জনস্রোত সামলাতে পুলিশকে সাহায্য করবে ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকবে ২০টি ‘হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড, ১০টি ‘স্পেশাল রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড’ এবং ৩০টি পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মোবাইল ভ্যান। এই গাড়িগুলো ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে এবং জরুরি প্রয়োজনে পুলিশি গাড়িগুলো ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকে এসকর্ট বা নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাবে। ৪২টি ওয়াচটাওয়ার থেকেও নজরদারি চালানো হবে এবং বড় মণ্ডপগুলোর বাইরে পুলিশের সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তিনটি পুলিশ লঞ্চ ১৫টি নদীর ঘাটে টহল দেবে এবং আরেকটি লঞ্চ বাকি ঘাটগুলোর ওপর নজর রাখবে।