জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির পথে ভারত

আইএমএফের পূর্বাভাস

জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির পথে ভারত

ফন্ট সাইজ:

জাপানকে পেছনে ফেলে ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হতে যাচ্ছে ভারত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ওই বছর ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়ে ৪ লাখ ৫২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আইএমএফ এ পূর্বাভাস দিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, চলতি বছর নামমাত্র জিডিপির হিসাবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে অবস্থান ধরে রাখবে জাপান। তবে ২০২৭ সালে ভারত ও বৃটেনের পেছনে পড়ে দেশটি নেমে যাবে ষষ্ঠ অবস্থানে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে ভারত। চলতি সপ্তাহে ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে আইএমএফ। বিপরীতে, বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার কারণে জাপানের অর্থনীতি কার্যত স্থবিরতার চাপে রয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র। এরপর রয়েছে চীন ও জার্মানি। বৃহস্পতিবার আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রকাশের সময় সংস্থাটির এশিয়া বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা মোকাবিলায় তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে ছিল ভারত।

তিনি বলেন, ‘ভারত খুব শক্তিশালী মৌলিক অর্থনৈতিক ভিত্তি নিয়ে এই পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেছে। প্রবৃদ্ধি ছিল শক্তিশালী, রাজস্ব খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং দেশটির হাতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছিল। ফলে এই ধাক্কা মোকাবিলায় তারা ভালোভাবে সাড়া দিতে পেরেছে।’ অন্যদিকে, ২০২৬ সালে জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ০.৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির চাপে পড়েছে দেশটি। এর প্রভাবে ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়িয়ে গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে মূল্যহ্রাস বা ডিফ্লেশনের সমস্যায় ভুগেছে জাপান। তবে ২০২২ সালের বসন্ত থেকে দেশটিতে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইয়েনের দরপতন। গত গ্রীষ্মে মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রার বিনিময়মূল্য ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এতে আমদানি ব্যয় আরও বেড়েছে। পাশাপাশি বয়স্ক জনসংখ্যার ক্রমবৃদ্ধিও জাপানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আইএমএফের এশিয়া বিভাগের পরিচালক শ্রীনিবাসন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগের উল্লম্ফন থেকে জাপানের অর্থনীতি কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে। তবে এশিয়ার অন্যান্য কয়েকটি অর্থনীতির তুলনায় দেশটি এ সুবিধা কম পাচ্ছে। এদিকে, এআই খাতের বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার টোকিওর শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দরপতনের ধাক্কায় জাপানের প্রধান নিক্কেই সূচক প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়।