জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর খালাস চেয়ে ২৩টি যুক্তিতে আপিল করেছেন তার আইনজীবীরা। ইনুর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি দাবি করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক বিচারপতি মো. মনসুরুল হক চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ আপিল দায়ের করেন। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে ইনুর আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ৩০শে জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তিনটি অভিযোগে হাসানুল হক ইনুকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে ট্রাইব্যুনাল সেদিন জানান, তাকে সব মিলিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আইনজীবী সিফাত মাহমুদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(১) ধারা অনুযায়ী হাসানুল হক ইনুর পক্ষে এই আপিল দায়ের করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক বিচারপতি মো. মনসুরুল হক চৌধুরী। আপিলটি ‘ক্রিমিনাল আপিল নং ৬৩/২০২৬’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। আইসিটি-বিডি কেস নম্বর ০৩/২০২৬ মামলায় গত ৩০শে জুন ট্রাইব্যুনাল-২ এক রায়ে ইনুর বিরুদ্ধে গঠিত ৮টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিতে খালাস দিলেও ৩টিতে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রতি অভিযোগে ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দেন। পরবর্তীতে গত ২০শে সেপ্টেম্বর আসামিপক্ষকে রায়ের সার্টিফায়েড কপি সরবরাহ করা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২৩টিরও বেশি গ্রাউন্ড (যুক্তি) তুলে ধরে এ আপিল দায়ের করা হয়েছে।
সিফাত মাহমুদ আরও বলেন, প্রসিকিউশন কর্তৃক আনীত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ বা তথ্য-উপাত্ত না থাকা সত্ত্বেও কেবল পারিপার্শ্বিকতার বিবেচনায় সাজা দেয়া হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথিত কথোপকথন, ১৪ দলের বৈঠকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারের মতো বিষয়গুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ তো দূরের কথা, কোনো ফৌজদারি অপরাধের আওতায়ও পড়ে না। এ ছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার জেরা থেকে প্রতীয়মান হয় যে তদন্তে ঘাটতি ও সীমাবদ্ধতা ছিল। তা সত্ত্বেও একটি ত্রুটিপূর্ণ, আংশিক, একপক্ষীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্তের উপর ভিত্তি করে এই সাজা দেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ঘটনাবলীর বাস্তব চিত্র বিবেচনা না করে কেবল প্রসিকিউশনের রাজনৈতিক বয়ানের উপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনাল অনুমাননির্ভর রায় প্রদান করেছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে ট্রাইব্যুনালে চলমান কয়েকটি মামলায় বিদেশি আইনজীবীর অংশগ্রহণের বিষয়ে ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধিত ১১(৮) ধারা অনুযায়ী বার কাউন্সিলের অনুমতি সাপেক্ষে ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বার কাউন্সিল অর্ডার-১৯৭২ এ যাই থাকুক না কেন, ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এখন পর্যন্ত সালমান এফ রহমান ও জিয়াউল হাসানসহ ৩ জন আসামি বিদেশি আইনজীবীর জন্য আবেদন করেছেন। সর্বশেষ সাংবাদিক ফারজানা রূপার পক্ষেও দু’জন ব্রিটিশ আইনজীবী বার কাউন্সিলে আবেদন পাঠিয়েছেন এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বার কাউন্সিলে আবেদন দাখিল করেছেন ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক। এ বিষয়ে সিফাত আরও বলেন, বার কাউন্সিলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ নিয়ে ই-মেইল করলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি তারা। বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইনের চেয়ে এই আইনটি ভিন্ন হওয়ায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিদেশি আইনজীবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে বিচার প্রক্রিয়া আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
