রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ফুটপাথে এক বৃদ্ধকে মারধর করার ঘটনায় অভিযুক্ত খালিদ হাসান (৩৫)কে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমণ্ডির মীনাবাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ ছাড়াও এ ঘটনায় উপস্থিত ধানমণ্ডি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব।
সূত্র মতে সোমবার দুপুরে ধানমণ্ডি সাতমসজিদ রোডের বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের উল্টো দিকে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে শহীদ আবদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে। আবদুল্লাহ তাকে ‘ব্যাড টাচ’ করেন বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। বিষয়টি ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের সদস্যদের জানান ভুক্তভোগী। কিন্তু তারা আবদুল্লাহকে আটক করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তখন তিনি তার স্বজন খালিদ হাসানকে মুঠোফোনে ডেকে আনেন। হাসান এসে শহীদ আবদুল্লাহকে চড়-থাপ্পড়, লাথি ও কান ধরে ওঠবস করান। এ ঘটনার ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় আসে মারধরের বিষয়টি। অভিযুক্ত হাসান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত।
ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাথের এ ঘটনা যখন ঘটছে, তখন কয়েক হাত দূরে পুলিশের দুই সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পথচারীদের মতো তারাও ঘটনাটি দেখছিলেন।
এ সময় দেখা যায়, হাসান গালাগাল করতে করতে আবদুল্লাহকে থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। এ সময় আশপাশে পথচারীরা ভিড় করেন। তাদের কেউ কেউ ঘটনাটি দেখছেন, আবার কেউ কেউ মোবাইলে ভিডিও করছেন। ভিডিওতে কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে’, ‘মা-বোন নাই?’ এ সময় এক পথচারী মারধরের শিকার ব্যক্তির কাছে গিয়ে সেখানে উপস্থিত পুলিশের দুই সদস্যকে দেখিয়ে আবদুল্লাহকে তাদের হাতে তুলে দিতে বলেন। একপর্যায়ে আবদুল্লাহকে বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। তার মুঠোফোন নিয়ে এক পথচারী ও মারধর করা যুবক তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় খালিদকে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের সরি, সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়?’ এরপর তিনি ‘তুই একটি মায়ের গায়ে হাত দিয়েছিস’ বলে আবদুল্লাহকে আবারো থাপ্পড় মারেন।
তবে তরুণীর অভিযোগ, আবদুল্লাহ তাকে ‘ব্যাড টাচ’ করেছিলেন। বিষয়টি তিনি ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের জানান। এরপরও পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরে তিনি তার স্বজন হাসানকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। এরপরই বাকি ঘটনা ঘটে। তাকে রক্ষা করতে এসে এখন হাসান হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগী জানান, হাসানকে আটকের খবর শুনে তিনি সকালে ধানমণ্ডি থানায় যান। তখন পুলিশ তাকে বলে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল না হলে এমন ঘটনা ঘটতো না। যে আইডি থেকে ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে, সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন বলেও জানান। তিনি হাসানের মুক্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে ওসি ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগে খালিদকে আটক করা হয়। পরে তাকে ডিএমপি’র রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। শহীদ আবদুল্লাহ মানসিক রোগে আক্রান্ত বলে জানান তিনি। বলেন, এ ঘটনায় এএসআই আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তিনি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।
