বর্তমান সরকারের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বর্তমানে কোনো চ্যালেঞ্জ
অনুভব করছে না। তবে অপরাধী গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হচ্ছে। এরপরও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ কেন্দ্র ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার জগতে প্রতারণা, অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল, শেয়ারবাজারে কারসাজি এবং আর্থিক জালিয়াতিসহ নানা ধরনের অপরাধ বাড়ছে। এসব অপরাধ শনাক্ত, প্রতিরোধ ও তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। তিনি বলেন, দেশের আটটি বিভাগীয় সদরে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে। এসব পরীক্ষাগারের মাধ্যমে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ ও অপরাধ তদন্তের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি অনলাইন প্রতারণা, মাদক ও অস্ত্রের বেচাকেনা এবং জঙ্গি কার্যক্রম শনাক্ত ও প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাবে। এতে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমানোও সহজ হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের একটি বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১লা অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে এ ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারটি সিআইডি’র নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় রাখা হবে।
কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা কোইকার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় চট্টগ্রামে সিআইডি’র সাইবার পুলিশ কেন্দ্র ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এর আওতায় ১০ তলা ভবনের ভিত্তির উপর চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ সাইবার পরিসর’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৮ই এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন পায়। একই বছরের ১৫ই মে প্রশাসনিক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। সাইবার অপরাধ তদন্তে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে এ পর্যন্ত তিনটি দেশীয় ও আটটি বিদেশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।
এ ছাড়া পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সরদার নুরুল আমিন ও কোইকার বাংলাদেশ কার্যালয়ের পরিচালক জি-হুন কিম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি’র অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন।
