এলপিজি ব্যবসায়ীদের ডাকা দু’দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়। ফলে এলপিজি সরবরাহ ও ব্যবসা কার্যক্রম ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা নিরসনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ধর্মঘট প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামেও স্থিতিশীলতা নেই। বর্তমানে জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই প্রধান উৎস হিসেবে রয়েছে, অন্য উৎসগুলোতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানির দাম সহনীয় রাখা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকার কাজ করছে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এ অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে কেউ ধর্মঘটের চেষ্টা করলে ১৯৫৬ সালের আইন প্রয়োগ করা হবে। কথায় কথায় ধর্মঘট ডেকে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে এবং জনগণ আস্থা রেখে সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাই জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়ে, সেই বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদেরকে ধর্মঘটের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানান তিনি। জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)কে বলে দিয়েছি যেন ভোক্তাদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে এলপিজি মূল্য রাখা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করতে।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলপিজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পণ্যের সঙ্গে দেশের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বার্থ জড়িত। তাই সরবরাহ ও বিপণনব্যবস্থায় কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেশে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ বলবৎ রয়েছে। এ আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড সরকার বরদাশত করবে না। ব্যবসায়িক বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে লাভ-লোকসান, কমিশন কিংবা অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়া স্বাভাবিক। তবে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে আন্তরিক। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়িক বিরোধ কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে বাজারকে ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে এলপিজি’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করে কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সচিব, প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) মহাসচিবসহ এলপি গ্যাস লিমিটেড, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, বেক্সিমকো, ওমেরা ও যমুনাসহ শীর্ষস্থানীয় এলপিজি কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় এলপিজি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন।
