খেলার মাঠ থেকে নির্বাচনী ময়দানে

খেলার মাঠ থেকে নির্বাচনী ময়দানে

ফন্ট সাইজ:

ক্রীড়াঙ্গনে বইছে জাতীয় নির্বাচনের হাওয়া। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বিএনপি’র মনোনয়নে এবার ভোটের মাঠে আছেন ১২ জন ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক। বিএনপি’র বাইরে এই সংখ্যা মাত্র দুই। একজন সাবেক ফুটবলার ও জাতীয় দলের ফুটবল কোচ সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিক লাভলু। তিনি মাদারীপুর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। ২০১৮ সালে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হন। আরেকজন বাফুফের সাবেক সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। বিএনপি থেকে ভোটের মাঠে আছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও আমিনুল হক। হাফিজ উদ্দিন ভোলা-৩ থেকে এবং আমিনুল হক ঢাকা-১৬ থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এবারের নির্বাচনের ইশতেহারে ক্রীড়াকে গুরুত্ব দিলেও কোনো ক্রীড়াবিদ কিংবা ক্রীড়া সংগঠককে প্রার্থী করেনি জামায়াতে ইসলামী।

জাতীয় নির্বাচনে সাবেক, বর্তমান তারকা খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের অংশগ্রহণ নতুন নয়। সাবেক খেলোয়াড়দের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ডও রয়েছে। সাবেক ফুটবলার মেজর হাফিজ, বাদল রায়, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু, কায়সার হামিদ ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। অবশ্য নির্বাচনী যুদ্ধে মেজর হাফিজ ছাড়া অন্য তিনজনই পরাজিত হন। জাসদ নেতা এবং সাবেক ফুটবলার হাসানুল হক ইনুও ’৯১-এর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খেলার মাঠের তারকাদের সবচেয়ে বেশি কদর দেখা যায়। বিশেষ করে ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্রিকেটের বড় তারকা সাকিব আল হাসান মাগুরা-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হলে তা ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন তোলে। অবশ্য রাজনীতিতে সাকিবের অংশগ্রহণে ভক্তকুলের মাঝে বিস্ময় ও ক্ষোভ দুই-ই তৈরি হয়। সাকিবের আগে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন আরেক তারকা ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২০১৮ সালের নভেম্বরে খুলনা-৪ আসনে উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক তারকা ফুটবলার সালাম মুর্শেদী। পরে ২০২৪ সালের নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক এই সিনিয়র সহ-সভাপতি। চুন্নু, বাদল, কায়সারের পরে ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন শফিউল আরেফিন টুটুল। সেবার মানিকগঞ্জ-৪ আসনে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থী শামসুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে। কিন্তু পরাজিত হওয়ার কারণে সংসদে আসতে ব্যর্থ হন। এই ধারাবাহিকতায় জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয়ের রাজনীতিতে বেশ আগেই অভিষেক হলেও ২০১৪ সালে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হন। এ ছাড়া ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক ক্রিকেটার নাঈমুর রহমান দুর্জয়। তবে এবার তালিকাটা এত দীর্ঘ নয়। এবারের ত্রয়োদশ নির্বাচনে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মাত্র দু’জন ফুটবলার অংশ নিচ্ছেন। প্রথমজন বর্ষীয়ান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, দ্বিতীয়জন রাজনীতির ময়দানে এখন জনপ্রিয় জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক আমিনুল হক।

আমিনুল হক লড়ছেন ঢাকা-১৬ আসনে। তিনি বিএনপি’র তরুণ নেতাদের মাঝে উজ্জ্বলতম। নিজস্ব ভূমি ভোলা-৩ আসনে লড়ছেন বর্ষীয়ান নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য সাবেক কোনো খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ নেই, তবে একাধিক ক্রীড়া সংগঠক বিভিন্ন আসনে লড়ছেন। মোহামেডানের গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য সচিব এবং বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার ঠাকুরগাঁও-১ থেকে নির্বাচন করছেন। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮, মোহামেডান গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য সচিব মনিরুল হক চৌধুরী কুমিল্লা-৬, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ও ঢাকা আবাহনীর সাবেক পরিচালক আলী আসগর লবি খুলনা-৫, ঢাকা মোহামেডানের সাবেক সহ-সভাপতি শরিফুল আলম কিশোরগঞ্জ-৬, মোহামেডান ক্লাবের সাবেক পরিচালক ও বিরোধী দলীয় সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক নোয়াখালী-২, বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলু নোয়াখালী-৩, ভিক্টোরিয়া ক্লাবের সভাপতি ও ডাকসু’র সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী-১, আবাহনীর প্রতিষ্ঠাকালীন জড়িয়ে থাকা বিএনপি নেতা সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ঢাকার সাবেক মেয়র ও সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার

ইশরাক হোসেন পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। তার আসন ঢাকা-৬। বিএনপি’র বাইরে দু’জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাফুফের সাবেক সভাপতি ও এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে এবং সাবেক তারকা ফুটবলার সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী মাদারীপুর-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। লাভলু সিদ্দিকী বিএনপি’র মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন