জয়ের জন্য শেষ দিনে প্রয়োজন ছিল ৮ উইকেট। কিন্তু বাজে ফিল্ডিংয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলো না বাংলাদেশ। লিটন দাসের হাতে সেদিকুল্লাহ অতলের ক্যাচ ছুটেছে, নাঈম হাসানের ভুলে রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে, হাসান মাহমুদও ফেলেছেন ক্যাচ। সবমিলিয়ে জয়ের দুয়ারে গিয়েও আবুধাবি টেস্টে হতাশার ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগারদের। গতকাল ম্যাচের শেষ দিনে ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তোলে আফগানিস্তান। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ১৩৩ রান দূরে থেকে ম্যাচ ড্র করে তারা।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান করার পর আফগানিস্তান গুটিয়ে যায় ২৪০ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান। শেষ দিনে ৬ উইকেটে ২৬৫ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে আফগানরা।
বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান সেদিকুল্লাহ অতল। ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করেন এই ব্যাটার। তার ৭০ রানে থাকতে তাইজুল ইসলামের বলে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান লিটন দাসের ভুলে। শেষ পর্যন্ত তাইজুলের বলেই আউট হন সেদিকুল্লাহ। তবে ততক্ষণে ম্যাচ বাঁচানোর ভিত গড়ে ফেলেছে আফগানিস্তান। সেদিকুল্লাহ ফেরার পরও আফগানদের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ। ইয়ামিন আহমদজাই ও কাইস আহমেদ উইকেটে দাঁড়িয়ে যান। নাঈম হাসানের ভুলে পরপর দুই বলে রানআউটের হাত থেকে বেঁচে যান তারা। কাইসের ক্যাচ ফেলেন হাসান মাহমুদ। ইয়ামিনের ব্যাটে লেগে বল স্টাম্পে আঘাত করলেও বেলস না পড়ায় বেঁচে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮৫ বলে ১৯ রান করে আউট হন ইয়ামিন। কাইস ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। জিয়া-উর-রহমান ১২ বল খেলে শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের বোলারদের পাশাপাশি ফিল্ডারদের ব্যর্থতাও শেষ পর্যন্ত জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন তানজিদ হাসান। শাদমান ইসলাম করেন ৬৭। লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান। শেষ দিকে নাঈম হাসান ৩৫ রানে অপরাজিত থাকলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৪৬। আফগানিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ সলিম নেন ৪ উইকেট। জবাবে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৪০ রানে। রহমত শাহ ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ওপেনার আবদুল মালেক করেন ৬২ রান। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে ৫ উইকেট এবং এবাদত হোসেন ৫৬ রানে ৪ উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের দাপটে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ ৩১ ও শাদমান ১৩ রান করে আউট হন। তৃতীয় উইকেটে মোমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটি দলকে এগিয়ে নেয়। মোমিনুল করেন ৭১, শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৮২ রান। মুশফিকুর রহীম ১৪৮ বলে ৮১ রান করেন। এরপর লিটন দাসের সেঞ্চুরি ও মেহেদী হাসান মিরাজের অপরাজিত অর্ধশতকে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। লিটন ১১৭ বলে ১০২ এবং মিরাজ ৯৭ বলে ৫২ রান করেন। ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক শান্ত। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। তিন রানেই আবদুল মালেককে ফেরান এবাদত।
এরপর হাসমাতুল্লাহ শাহিদী ও রহমত শাহ প্রতিরোধ গড়েন। রহমত ৫১ রান করে এবাদতের শিকার হন। শাহিদী ৩৬ রান করার পথে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। পরে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে মিরাজের বলে আউট হন তিনি। ইকরাম আলিখিল করেন ৩৩ রান, ইসমাত আলমের সংগ্রহ ৪। শেষ দিকে সেদিকুল্লাহর সেঞ্চুরি এবং ইয়ামিন ও কাইসের প্রতিরোধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নেয় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এবাদত ৭৫ রানে ৩টি এবং মিরাজ ১০৭ রানে ৩টি উইকেট নেন। ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি ও উইকেটের পেছনে আটটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন লিটন দাস। দুই ইনিংসে ৫৩ ও ১০২ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে তার এই কীর্তির জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার পান বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের দিনেও দলীয় প্রাপ্তি হয়ে থাকলো হতাশার ড্র।
