ইনিংস ব্যবধানে চট্টগ্রামের জয় বাকি তিন ম্যাচ

ইনিংস ব্যবধানে চট্টগ্রামের জয় বাকি তিন ম্যাচ

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় ক্রিকেট লীগের প্রথম দুই রাউন্ডে ব্যাটারদের দাপট দেখা গেছে। আট ম্যাচের মধ্যে ফল নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র দুটিতে। প্রথম রাউন্ডে বরিশালের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল খুলনা। গতকাল দ্বিতীয় রাউন্ডে সেই বরিশালকেই ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম। বাকি তিন ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৮২ রানে অলআউট হয় বরিশাল। জাওয়াদ আবরার করেন ৬৩ রান, মঈন খান ৯৭। চট্টগ্রামের হাসান মুরাদ নেন ৪ উইকেট। জবাবে সাদিকুর রহমানের ১৬৩ বলে ১৪৯, শাহাদাত হোসেন দীপুর ১০৯ ও ইরফান শুক্কুরের ১১৪ বলে ১১২ রানের ইনিংসে ৫৭৬ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে চট্টগ্রাম। বরিশালের অভি ইসলাম নোবেল নেন ৪ উইকেট। ২৯৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইফতেখার হোসেন ইফতির ৭৪ ও রাফসান আল মাহমুদের ৭২ রানের সুবাদে লড়াইয়ের চেষ্টা করে বরিশাল। তবে ২৯৩ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। চট্টগ্রামের মো. আশরাফুল হাসান নেন ৫ উইকেট। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে খুলনা ও রাজশাহীর ম্যাচটি শেষ হয়েছে ড্রয়ে।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১৯ রানে অলআউট হয় রাজশাহী। খুলনার শেখ মেহেদী হাসান নেন ৬ উইকেট। পরে ব্যাট হাতেও উজ্জ্বল ছিলেন এই অলরাউন্ডার। ১১৮ বলে করেন ১০৪ রান। কালাম সিদ্দিকীর ৯১, সামিউন বাসির রাতুলের ৫৭, আজিজুল হাকিম তামিমের ৫৫ ও ইমরানুজ্জামানের ৫২ রানে ৪৮৪ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে খুলনা। ৩৬৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় রাজশাহী। হাবিবুর রহমান সোহান করেন ৯০, সাব্বির হোসেন ৮৮ ও নাঈম আহমেদ ৬৯ রান। শেষ দিনে সাব্বির রহমান রুম্মানের ২২১ বলে ১১৩ এবং প্রীতম কুমারের ৪৪ রানের ইনিংসে ম্যাচ বাঁচায় রাজশাহী। ৯ উইকেটে ৫০০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। খুলনার রাতুল নেন ৪ উইকেট। বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে রংপুর ও ময়মনসিংহের ম্যাচটিও শেষ হয়েছে ড্রয়ে। মিম মোসাদ্দেকের ১৫৭, ইকবাল হোসেনের ৭৮ ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের ৬১ রানে ৯ উইকেটে ৪২২ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে রংপুর।

জবাবে খালিদ হাসানের ৭২ ও আবু হায়দার রনির ৫২ রানের সুবাদে ২৯৫ রান করে ময়মনসিংহ। ১২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৪৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে রংপুর। অধিনায়ক আকবর আলী ৯৭ বলে করেন ৭৪ রান। আবু হাসিম অপরাজিত থাকেন ৪১ রানে। জয়ের জন্য ৩৭৩ রানের লক্ষ্য পেয়ে শেষ ইনিংসে ৬৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮৯ রান তোলে ময়মনসিংহ। মাহফিজুল ইসলাম রবিন করেন ৬৮ রান, আল আমিন জুনিয়র অপরাজিত থাকেন ৫৫ রানে। এরপর দুই অধিনায়ক ড্র মেনে নেন। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা ও সিলেটের ম্যাচেও দেখা গেছে ব্যাটারদের দাপট। পাঁচটি সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচটি শেষ হয়েছে অমীমাংসিতভাবে। ঢাকার প্রথম ইনিংসে নাঈম শেখের ১৩৭, মার্শাল আইয়ুবের ১৭৫ ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ১০৮ রানের সুবাদে ৫৪৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা। জবাবে আশরাফুল হাসান রিয়াদের ১২২ রানের সেঞ্চুরি এবং জাকির, সৈকত ও গালিবের ফিফটিতে ৪৯৬ রানে অলআউট হয় সিলেট। ঢাকার বিপ্লব নেন ৫ উইকেট। ৫১ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে আশিকুর রহমান শিবলীর অপরাজিত ১০১ ও তাইবুরের ৫০ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ২১৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা। এতে সিলেটের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭১ রান। শেষ বিকালে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেটে ২ রান তোলার পর দুই অধিনায়ক ড্র মেনে নেন।